বিআইডব্লিউটিএ কলোনীর ইয়াবা ব্যবসায়ী ভাই-বোনের সহযোগিরা বহাল তবিয়তে

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ নগরীর বান্দ রোড বিআইডব্লিউটিএ কলোনীর মাদক ব্যবসায়ী সাকিল ও তার বোন মাহমুদা র‌্যাবের হাতে আটক হলেও বহলা তবিয়তে রয়েছে তার সহযোগিরা। সাকিল এবং মাহামুদার অবর্তমানে তারাই চালিয়ে রাখছে মাদকের রমরমা বানিজ্য। ফলে মরন নেশা ইয়াবা’র সোবল থেকে রক্ষা পাচ্ছেনা শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সহ আশ পাশেল এলাকার যুবসমাজ।
স্থানীয় একাধিক সূত্র নাম প্রকাশ না করার সর্থে জানান, বিআইডব্লিউটিএ’র সাবেক কর্মচারী মৃত সিদ্দিক আহম্মেদ তালুকদার। তার মৃত্যুর পরে বাবার স্থলে পিয়ন পদে মেয়ে নাসরিনের চাকুরী হয়। সেই সুবাদে নাসরিনের জোরে বিআইডব্লিউটিএ’র চাঁদমারী ষ্টেট কলোনীতে বাসবাস করে আসছে তার বড় বোন মাহমুদা, ভাই ছাত্রদল নামধারী রেজাউল করিম সাকিল, বড় ভাই সাইদুলসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
এদিকে বিআইডব্লিউটিএ ষ্টেট কলোনীর একাধিক সূত্র জানায়, বোনের চাকুরীর সুবাদে সাকিল, মাহামুদা ও সাইদুল সেখানে থেকে ইয়াবা ব্যবসার জমজমাট আসর খুলে বসে। প্রতিদিন দুপুরে এবং সন্ধ্যা হলেই তাদের বাসা সরকারী কোয়ার্টারে মাদক সেবনকারীদের হাট বসে। ঐ এলাকায় সাকিল এর বোন মাহমুদা বেগম ইয়াবা সুন্দরি নামে পরিচিত। শুধু তাই নয়। মাহমুদা বেগম এর রিমা নামে রয়েছে একটি মেয়ে। মেয়েকে দিয়েও করানো হচ্ছে ইয়াবা ট্যাবলেটের ব্যবসায়। রিমার মাধ্যমে নগরীর বিভিন্ন স্কুল-কলেজে ইয়াবা সরবরাহ দেয়া হয় বলে সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। এছাড়া রিমাকে দিয়ে ফাঁদ তৈরী করে বিয়ের নাটক সাজিয়ে কাবিনের নামে লাখ লাখ হাটা হাতিয়ে নিয়েছে মাহমুদা, সাকিল ও তার পরিবারের সজনরা। তাছাড়া মা মাহমুদা বেগম ভ্রাম্যমান ভাবে ইয়াবা বিক্রি করে।
তারা আরো জানায়, শেবাচিম হাসপাতালের সামনে সাকিলের এ্যাম্বুলেন্স ব্যবসা রয়েছে। ঐ এ্যাম্বুলেন্সে রোগী ও মরদেহ বহনের নামে মাদক আনা নেয়ার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিভিন্ন সময় যশর, সাতক্ষিরা সহ বিভিন্ন স্থান থেকে এ্যাম্বুলেন্সে বরিশালে আনা হচ্ছে ইয়াবা ও ফেন্সিডিলের চালান।
সাকিলের ইয়াবা ও ফেন্সিডিল ব্যবসায় বোন মাহমুদা এবং ভাগ্নি রিমা ছাড়াও প্রত্যক্ষ ভাবে সহযোগিতা করছে বিআইডব্লিউটিএ ষ্টেট কলোনী সংলগ্ন চরের বাড়ির পারভেজ। এরা এক সাথেই এ্যাম্বুলেন্স ব্যবসা করতো। তবে সম্প্রতি পারভেজ এ্যাম্বুলেন্স ছেড়ে দিয়ে শেবাচিম হাসপাতালের সামনে অস্থায়ী ভাবে চা সিগারেটের ব্যবসা করছে। কিন্তু সেখানে চা সিগারেটের আড়ালে বিক্রি হচ্ছে সাকিলের ইয়াবা ও গাজার শলাকা।
এছাড়া কলোনীর সামনে রয়েছে সততা নামের একটি ফার্মেসী। ঐ ফার্মেসীর মালিক রনি মন্ডলও সাকিলের মাদক ব্যবসার পার্টনার। রনি মন্ডল ওষুধের ব্যবসার আড়ালে সেখানে ইয়াবা এবং প্যাথেডিনের ব্যবসা করে। তবে দিনের বেলায় প্রায় সময় বন্ধ থাকে রনির সততা ফার্মেসী। তবে সন্ধ্যা নেমে আসলেই সেখানে নিয়মিত বসে মাদকের হাট। এছাড়া রনি নিজেও ফার্মেসীতে রাত্রিজাপন করে। সাকিলের বড় ভাই সাইদুল হাসপাতালের সামনে আবাসিক হোটেল শাহ জালাল এর সামনে অবস্থান নিয়ে থাকেন। সেখান থেকে ক্রেতা ধরে নিয়ে যায়। স্বেচ্ছা সেবক দল নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে সাইদুল এলাকায় প্রভাব বিস্তার এবং মাদক ব্যবাস করে বলে প্রতিবাদ করে না স্থানীয়রা। সাধারন মানুষ এর প্রতিবাদ করতে না পারলেও অবশেষে কথিত ছাত্রদল নেতা সাকিল ও স্বেচ্ছা সেবক দল নেতা সাইদুল এর লাগাম টেনে দিয়েছে র‌্যাব সদস্যরা। গত বুধবার রাতে ৫৫ পিস ইয়াবা সহ সাকিল ও তার বোন ইয়াবা সুন্দরি খ্যাত মাহমুদাকে র‌্যাব আটক করায় এলাকায় সাধারন মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে মুল হোতা দ্বয় আটক হলেও তার সহযোগিরা ধরা ছোয়ার বাইরে রয়ে যাওয়ায় সাকিল ও মাহমুদার মাদক ব্যবসা এখনো জমজমাট ভাবে চলছে বলে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ।