বিআইডব্লিউটিএ ও ট্রাফিক বিভাগের খামখেয়ালি ঢাকা যেতে পারেনি ২ শতাধিক যাত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের রহস্যজনক খামখেয়ালী পনায় বিপাকে পড়েছে বরিশাল থেকে ঢাকাগামী প্রায় ২ শতাধিক যাত্রী। গতকাল সোমবার নৌ-বন্দরে কীর্তনখোলা-২ লঞ্চটিকে নির্ধারিত সময়ের পূর্বে ছাড়তে বাধ্য করায় অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করা ওই যাত্রীদের চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। বিভাগের দূর দুরান্ত থেকে আসা যাত্রীদের শেষমেষ লঞ্চ না পেয়ে টিকেটের অর্থ গচ্ছা দিয়ে ফিরে যেতে হয়েছে। তাদের অভিযোগ শুধুমাত্র অর্থই না বিআইডব্লিউটিএ’র আকস্মিক নেয়া এই সিদ্ধান্ত ও নৌ পুলিশের সহায়তায় জোরপূর্বক বাস্তবায়নে অনেক ক্ষতি হয়েছে তাদের। কীর্তনখোলা-২ লঞ্চ কর্তৃপক্ষের দাবী কোন পূর্বের নোটিশ ছাড়াই অন্যান্য লঞ্চ ঘাটে থাকা অবস্থায় নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগ রহস্যজনক কারনে পুলিশের সহায়তায় জোরপূর্বক লঞ্চ ছাড়তে বাধ্য করে। কোন নোটিশ ছাড়া নির্ধারিত সময়ের পূর্বে কেন লঞ্চ ছাড়তে বাধ্য করা হল? সেই প্রশ্নেরও কোন উত্তর দেয়নি তারা বলে অভিযোগ জানায় কীর্তনখোলা-২ কর্তৃপক্ষ।
তবে বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তায় দাবী যা করা হয়েছে তা নিয়ম মেনেই করা হয়েছে।
ভোগান্তির স্বীকার যাত্রী পটুয়াখালী জেলা থেকে আগত বিশ্বজিৎ দত্ত অভিযোগ করেন, তিনি কীর্তনখোলা-২ লঞ্চের ২২৮নং কেবিনের অগ্রিম টিকিট বুকিং করেছিলেন। টিকিটে উল্লেখিত লঞ্চ ছাড়ার নির্ধারিত সময় ছিল সন্ধ্যা সাড়ে ৮টা। তিনি ৮টা ২০ মিনিটে এসে দেখেন লঞ্চ ছেড়ে দিয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ জোর করে ৮.১৫ মিটিনে লঞ্চ ছাড়তে বাধ্য করেছে। আজ তার ঢাকায় কর্মস্থলে যোগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঈদের পরে এমন বিড়ম্বনায় পড়ায় তা হয়ত আর হবে না। এখন পটুয়াখালী ফেরার মত কোন উপায়ও নেই তার। আর বাসের টিকিটও এখন অগ্রিম সংগ্রহ করতে হয় তাই সে পথও বন্ধ। এমন বিড়ম্বনার স্বীকার তিনি একা নয় বলে বিশ্বজিৎ আরও জানান- ডেক, কেবিন ও সোফা মিলিয়ে ২ শতাধিক যাত্রী তার মত বিপদে পড়েছে। প্রত্যেকের কর্মস্থলে ও নিজ নিজ কাজের ক্ষতি হয়েছেই এখন বিড়ম্বনা ঘরে ফেরারও। কারন অনেকেই এসেছেন বরিশালের বিভিন্ন জেলা থেকে। লঞ্চ কর্তৃপক্ষের কোন দোষ নেই কারন তারা নিজেরাও যাত্রীদের পূর্বে লঞ্চ ছাড়ার খবর দেয়ার সামান্যটুকু সময়ও পায়নি। কীর্তনখোলা-২ লঞ্চের কাউন্টার ব্যবস্থাপক মোঃ বেল্লাল জানান, রাত ৮.১৫ মিনিটে হঠাৎ বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক আবুল বাশার মজুমদার ও নৌ-পুলিশ এসে কোন কারন ছাড়াই লঞ্চ ছাড়তে বলে। নির্ধারিত সময় সাড়ে ৮টার পূর্বে ছাড়লে অগ্রিম টিকেট নেয়া অনেক যাত্রী ঝামেলায় পড়বে বলা সত্ত্বেও তারা নির্দিষ্ট কোন কারন না দেখিয়ে লঞ্চ ছাড়তে বাধ্য করে। কিন্তু ওই সময়ে টার্মিনালে একাধিক লঞ্চ নোঙর করা ছিল। এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক আবুল বাশার মজুমদার এর সাথে আলাপকালে তিনি জানান, রাত ৮টায় লঞ্চ ছাড়ার কথা ছিল তাই এমনটা করা হয়েছে। আগে কেন জানানো হয়নি বা যাত্রীদের বিড়ম্বনার বিষয়ে কোন উত্তর দেননি তিনি। নৌ পুলিশ এর সহকারী পুলিশ সুপার মোতালেব জানান, এই বিষয়টি পুরোপুরি বিআডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের আওতাধীন। এটি তাদেরই দায়িত্ব। নৌ পুলিশের কোন সিদ্ধান্ত নেই এখানে।