বাস ধর্মঘট স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ চলছে শোকের মাস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে স্ব-পরিবারে খুন হয়েছিলেন জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান। যে কারনে দেশ ব্যাপী আগস্ট মাস শোকের মাস হিসেবেই পালন হয়ে আসছে। শোকের মাসে কোন আন্দোলন কর্মসূচি পালনের প্রতি রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে বরিশাল সহ দক্ষিণাঞ্চলের ৩৮টি রুটে বাস ধর্মঘট পালন করা হয়। দিনভর আন্দোলন শেষে গতকাল রাতে ১০টায় প্রশাসন, বাস মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের মাধ্যমে শোকের মাস হওয়ায় আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। দাবী না মানা হলে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন কর্মসূচি দিবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বিভাগীয় কমিশনার মো. শহীদুজ্জামানের সভাপতিত্বে বৈঠকে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার নুরুল আলম, জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রফিক ও ডিবি) উত্তম কুমার পাল উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে শোকের মাসে তথা কথিত আন্দোলন ডেকে বিতর্কে পড়েছেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সংগঠন আওয়ামী লীগের বরিশাল মহানগরের সদস্য ও রূপাতলী মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক কাওসার হোসেন শিপন। যিনি নিজেই নানা অনিয়ম, দুর্নীতি এবং চাঁদাবাজীর ঘটনার অনুঘটক বলে বেশ আলোচিত হয়েছেন। অবৈধ চেক পোষ্ট বসিয়ে চাঁদাবাজী এবং মাহেন্দ্র চলাচলে বাঁধা দিতে গিয়ে হামলার ঘটনাটি আড়াল করতে যাত্রীদের জিম্মি করে আন্দোলনের ডাক দিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি করেছেন কাওসার হোসেন শিপন। আর তাই তাদের এ তথা কথিত আন্দোলনে সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেনি দ্বিপ জেলা খ্যাত ভোলা জেলার বাস মালিকরা।
অপরদিকে রূপাতলী বাস মালিক সমিতির স্বার্থ আদায়ের আন্দোলনের ফলে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে হাজার হাজার যাত্রীদের। বিশেষ করে ভোর রাতে ঢাকা থেকে বরিশালে পৌছানো যাত্রীদের পড়তে হয়ে মহাসংকটে। তবে দুঃসময়ে তাদের পাশে ছিলো একমাত্র মাহেন্দ্র, গ্যাসের গাড়ি, মোটর সাইকেল এবং রেন্ট-এ কারগুলো। ঝুঁকি নিয়ে গনপরিবহনে গন্তব্যে পাড়ি জমাতে হয় যাত্রীদের। অনেক যাত্রী গন্তব্য পৌছতে ব্যর্থ হয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে। তবে এ ভোগান্তির অবসান ঘটিয়ে আজ শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে পুনরায় বাস চলাচলের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন মহানগর এবং রেঞ্জ পুলিশ কর্মকর্তারা।
বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক কাওসার হোসেন শিপন জানান, গত মঙ্গলবার সকালে চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করতে গিয়ে একদল চাঁদাবাজদের হামলায় তাদের সভাপতি এবং বাস মালিক সহ ৫ জন আহত হয়। এই ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ মামলা গ্রহন করেনি।
তবে মাহেন্দ্র শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন- রাত তিনটা থেকে সাড়ে ৩টার দিকে রূপাতলী মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক কাওসার হোসেন শিপন এর লোকজন বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কে অবৈধভাবে চেক পোষ্ট বসিয়ে পরিবহন থেকে চাঁদাবাজী করে আসছিলো। এমনকি গভীর রাতে তারা মাহেন্দ্র চলাচলেও বাধা সৃষ্টি করে। প্রতিদিনের ন্যায় গত ৮ আগস্ট গভীর রাতে খয়রাবাদ ব্রিজে অবৈধ চেক পোষ্ট বসায় শিপন অনুসারী মালিক সমিতির নির্বাহী সভাপতি নজরুল ইসলাম খোকন সহ মালিক সমিতির কর্মচারীরা। এসময় মিলন মোল্লা নামের এক মাহেন্দ্র শ্রমিক যাত্রী নিয়ে দপদপিয়ার দিকে যাওয়ার পথে অবৈধ চেক পোষ্টে তাকে বাঁধা এবং মারধর করা হয়। খবর পেয়ে অন্যান্য মাহেন্দ্র শ্রমিকরা ঘটনাস্থলে পৌছে পাল্টা হামলা চালালে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের ১০ জনের মত আহত হয়। কিন্তু পরবর্তীতে কৌশলগত ভাবে কাওসার হোসেন শিপন বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রভাবিত করে মামলা করতে যান। কিন্তু তার অপকৌশলের বিষয়টি বুঝতে পেরে পুলিশ একটি ধারা বাদ দিয়ে মামলা নিতে আগ্রহ প্রকাশ করে। কিন্তুতে তাতে নারাজ শিপন পর দিনই বিভাগীয় বাস মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নাম দিয়ে জরুরী বৈঠক এবং সেখান থেকে লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষনা করে। কিন্তু ওই বৈঠকে পিরোজপুর, ভোলা কিংবা খুলনা অঞ্চলের বাস মালিক সমিতি কিংবা শ্রমিক তো দুরের কথা বরিশালের অধিকাংশ বাস মালিকই শিপনের ডাকে সাড়া দেয়নি বলে মালিক সমিতির বেশ কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে শ্রমিক নেতা সুলতান মাহমুদ জানান, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে তাদের বৈঠক হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আমাদের দাবী মেনে নিবে প্রশাসন। তাই শোকের মাস এবং প্রশাসনের আশ্বাসের কারনে আন্দোলন ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। দাবী না মানা হলে ১১ সেপ্টেম্বর থেকে আবার আন্দোলনে যাওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।