বাস চাপায় বিমানবন্দর থানার এএসআই নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যাত্রীদের নিরাপত্তা দিতে কর্তব্য পালনকালে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে বাসের চাপায় মহানগরীর বিমান বন্দর থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) নিহত হয়েছে। গতকাল সোমবার মহাসড়কের রামপট্টি এলাকায় মর্মান্তিক এই ঘটনায় কর্তব্যরত দুই কনষ্টেবল আহত হয়েছেন।
নিহত এএসআই মো. মনিরুল ইসলাম মনির (৩০) পটুয়াখালির মির্জাগঞ্জ উপজেলার আব্দুস সোবাহান মুন্সির ছেলে। আহত মহানগর পুলিশ লাইনের কনষ্টেবল মো. মিরাজ ও আসাদ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। দুর্ঘটনায় নয়, বাস চালক এএসআই মনিরুল ইসলামকে হত্যার উদ্দেশ্যে চাপা দিয়েছে বলে পুলিশ কর্তারা ধারণা করছে। সেই ধারণায় বাস চালকের বাসায় পুলিশ অভিযান করেছে। কিন্তু বাসা তালাবদ্ধ থাকায় কাউকে আটক করার সম্ভব হয়নি।
বিমান বন্দর থানার ওসি শাহিদুজ্জামান জানান, হরতাল অবরোধে যানবাহন ও যাত্রীদের নিরাপত্তা দিতে রিকুইজিশন করা মাহেন্দ্র টেম্পুতে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে টহল দল হিসেবে দায়িত্বে ছিলো। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নগরীর নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা যানবাহন সন্ধ্যার পরে পুলিশ প্রহরায় পৌঁছে দেয়া হয়। বিকেলে কাওরাকান্দি থেকে ছেড়ে আসা ‘বিএমএফ’ পরিবহনের (ঢাকা মেট্টো ব ১১-১২৫৬) বাস রামপট্টি এলাকায় থামার জন্য সংকেত দেয় মনিরুলসহ কর্তব্যরতরা। চালক তখন বাসের গতিরোধ করে। কাছাকাছি এসে আকস্মিক বাসের গতি বাড়িয়ে দেয়। তখন বাসের সামনে থাকা মনিরুল সরে আসার সুযোগ পাননি। বাস তার উপর দিয়ে চালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে মারা যায় মনিরুল। কিন্তু কনষ্টেবলদ্বয় ছিটকে পড়ে আহত হয়েছে। পরে বাস রহমতপুর সেতুর পূর্বে রেখে চালক ও সহকারীরা পালিয়েছে। বাস আটক করা হয়েছে।
ওসি শাহিদুজ্জামান আরো বলেন, ধরন থেকে দুর্ঘটনা মনে হয় না। ইচ্ছাকৃত ঘটনা ঘটানো হয়েছে। উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনার পর আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য জানিয়েছেন, বাসের চালক সালাম বাবুগঞ্জের ছয় মাইল এলাকার বাসিন্দা ও মাদক ব্যবসায়ী। তাকে কিছুদিন পূর্বে রামপট্টি এলাকায় তল্লাশী চৌকি স্থাপন করে বিমানবন্দর থানার অপর এএসআই মনিরুল ইসলাম ১৩ বোতল ফেন্সিডিলসহ আটক করে। পরে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তিনি।
এই ঘটনায় প্রতিশোধ নিতে সালাম ভুলক্রমে ওই মনিরকে চাপা দিয়ে হত্যা করেছে।
তারা আরো জানায়, চালক সালাম বাসের গতি কমিয়ে যখন কাছাকাছি এসে পড়ে। তখন নেইমপ্লেটে মনির নাম দেখে প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে উঠে। মাদকসেবী ও বিক্রেতা চালক সালাম ভালো করে না দেখেই মনিরুল ইসলামের উপর বাস চালিয়ে দিয়েছে।
তাকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে ঘটনার পর পর সালামের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু বাসা তালাবদ্ধ করে স্ত্রী সন্তান নিয়ে পালিয়েছে সে। এতে ধারণা যে সালাম ইচ্ছাকৃত হত্যার উদ্দেশ্যে এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
মহানগর পুলিশের মুখপাত্র সহকারী কমিশনার আজাদ রহমান বলেন, এই বিষয়টিসহ সালামের রাজনৈতিক দলের সাথে যোগাযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে আজ কমিটি গঠন এবং মামলা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বাস চাপায় বিমানবন্দর থানার