বাল্যবিয়ে বন্ধে সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরুপ সম্মাননা পেলো আট কিশোরী

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নিজের বাল্য বিয়ে বন্ধ করে দেশ জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলো ঝালকাঠীর শারমিন আক্তার। এজন্য সাহসিকতার স্বীকৃতি স্বরুপ মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের কাছ থেকে ইন্টারন্যাশনাল এ্যাওয়ার্ড পেয়েছিলেন তিনি। এর পর পরই নিজেদের বাল্য বিয়ে বন্ধ করে সাহসিকতার স্বীকৃতি লাভ করেন বরিশাল বিভাগের আরো সাত কিশোরী। এবার তাদেরকেও সাহসিকতার স্বীকৃতি স্বরুপ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচির (সিইপি) উদ্যোগে যুব ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাল্য বিয়ে বিরোধী উদ্বুদ্ধকরন সমাবেশ ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শারমিন সহ আট সাহসী কিশোরীকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সন্মাননা পাওয়া সাহসী কিশোরীরা হলেন, আগৈলঝাড়া উপজেলার শিক্ষার্থী নীলিমা কর, ঝালকাঠী জেলার শারমিন আক্তার, পাখি আক্তার ও লামিয়া আক্তার, ভোলার লালমোহনের রেহেনা আক্তার, ভোলা সদরের ফারজানা আক্তার, পটুয়াখালীর দশমিনার সাদিয়া আক্তার ও বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলার বাসিন্দা ইতি আক্তার। এরা সবাই স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী।
গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় বরিশাল ক্লাবে আয়োজিত উদ্বুদ্ধকরন সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সদর-৫ আসনের এমপি জেবুন্নেছা আফরোজ। প্রধান অতিথি’র বক্তৃতায় এমপি জেবুন্নেছা আফরোজ বলেন, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগ ও সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। তবে অনেকেই বাল্য বিবাহকে অপরাধ হিসেবে মনে করেননা। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের অসচেতন কিছু লোক এখনও বাল্য বিবাহের ক্ষতি সম্পর্কে কোন ধারণাই রাখেন না। এর ক্ষতি সম্পর্কে সাধারণ জনগনও সচেতন নয়। বাল্যবিবাহ মুক্ত দেশ গড়ে তুলতে হলে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। তাই বাল্য বিবাহ বন্ধে এগিয়ে আসতে সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।
ব্র্যাক সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচীর প্রধান ফারহানা হাফিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশ ও সম্মাননা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. নুরুল আলম, নবাগত জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. জাকির হোসেন, রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার বরিশাল আঞ্চলিক উপ-পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোশাররফ হোসেন, জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আনোয়ার হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রাশিদা বেগম ও জেলা মহিলা পরিষদের সভানেত্রী রাবেয়া বেগম, অভিনেত্রী রাফিয়াদ রশিদ মিথিলা প্রমূখ।
অতিথিবৃন্দ বলেন, বাল্য বিয়ে প্রতিরোধের জন্য শুধু সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকলেই হবে না। পরিবার, সমাজ এবং সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে উদ্যোগী হতে হবে। তাহলেই বাল্য বিয়ের অভিশাপ থেকে নতুন প্রজন্মকে মুক্ত করা সম্ভব।
তারা আরো বলেন, বাল্যবিয়ে একটি ভয়াবহ সামাজিক সমস্যা। মেয়েরা শিক্ষা-সংস্কৃতি, ক্রীড়াঙ্গন এবং কর্মক্ষেত্রসহ সকল ক্ষেত্রে সফলতা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখছে। কিন্তু তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি অংশই বাল্যবিয়ের শিকার হচ্ছে। বাল্যবিয়ে একজন মেয়েশিশুর সকল সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগকে ব্যাহত করছে। বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সমাজের সকল অংশের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার। অতিথিবৃন্দ মনে করেন, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে যুব সমাবেশ ও সম্মাননা স্মারক প্রদান অনুষ্ঠানে শারমিন আক্তার এর অংশগ্রহণ কিশোর-কিশোরী, তরুণ প্রজন্মের কাছে ব্যাপক সাড়া ফেলবে এবং বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে সামাজিক জাগরণ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
আলোচনা সভা শেষে বাল্য বিয়ে বন্ধে সাহসিকতার স্বীকৃতি স্বরুপ ইন্টারন্যাশলান এওয়ার্ড প্রাপ্ত শারমিন আক্তার সহ বিভাগের আট সাহসী কিশোরীকে সম্মাননা প্রদান করেন অতিথিবৃন্দ।
অনষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্র্যাক এর জেলা প্রতিনিধি রিপন চন্দ্র মন্ডল। বাল্যবিয়ের প্রেক্ষিত উপস্থাপনা করেন, ব্র্যাকের কর্মসূচি ব্যবস্থাপক সারা খাতুন এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মীর সামসুল আলম সজ্জন। পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমাবেশ এবং সম্মানা প্রদান অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।