বাবুর বৃদ্ধা হত্যার দায় আদালতে স্বীকার

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ নগরীর সাগরদী এলাকায় চাঞ্চল্যকর মমতাজ বেগম হত্যা মামলায় আদালতের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবাবনবন্দি দিয়েছে মুল পরিকল্পনাকারী যুবলীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম বাবু। একই সাথে হত্যার কিলিং মিশনে যোগদানকারী অপর খুনি রুবেলকে বাদ দিয়ে শুধুমাত্র মুল পরিকল্পনাকারী বাবুর ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আবেদনের বিষয়টি শুনানির জন্য রাখা হলেও অপর এক আসামী চায়ের দোকানী বাবুল এর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
এদিকে হত্যার পরিকল্পনাকারী বাবুর স্বীকারোক্তিমুলক জবান বন্দিতে পরিকল্পনাকারী এবং কিলিং মিশনে অংশগ্রহনকারী বেশ কয়েকজন হত্যাকারীর নাম প্রকাশ করেছে বলে পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে পলাতক হত্যাকারীদের নাম পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। ফলে হত্যা মামলায় ফেঁসে যাওয়ার আতংকে দিন কাটাচ্ছে মহানগর যুবলীগের এক সদস্য এবং ওয়ার্ড যুবলীগের এক সাধারন সম্পাদক সহ যুবলীগ নেতা বাবু’র সহযোদ্ধারা। ইতোমধ্যে তাকে সেল্টারদাতা বেশ কয়েকজন এলাকা ছাড়া হয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য, গত ১০ নভেম্বর নগরীর সাগরদী কারিকর বিড়ি ব্রাঞ্চ সংলগ্নে নিজ ঘরে জবাই করে হত্যা করা হয় মমতাজ বেগমকে। এ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে ঘটনার কয়েক দিনের মাথায় আটক করা হয় ব্রাঞ্চ রোডের খুন হওয়া মমতাজ বেগম এর বাড়ির পাশের চায়ের দোকানী বাবুলকে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে খুলতে থাকে মামলার জট। বেরিয়ে আসে হত্যার পরিকল্পনাকারীদের নাম পরিচয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে বাবুলের দেয়া তথ্য অনুযায়ী গ্রেপ্তার করা হয় ২৫নং ওয়ার্ড যুবলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বাবু ও রুবেলকে। তাদের গ্রেপ্তারের পরে হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে যুবলীগ নেতা বাবু ও রুবেল। একই সাথে মুল পরিকল্পনায় থাকার বিষয়টিও পুলিশকে নিশ্চিত করে বাবু।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গতকাল গ্রেপ্তারকৃত দুই জনকে আদালতের কাছে হাজির করা হয়। এ সময় বিচারকের কাছে হত্যাকান্ড ও ঘটনার মুল পরিকল্পনায় থাকার বিষয়ে যুবলীগ নেতা বাবু স্বীকারোক্তিমুলক ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে।
এসআই মুকুল জানান, বাবুর রিমান্ড চাওয়া হলে আদালত বিষয়টি শুনানির জন্য রেখেছেন। তবে শুনানির তারিখ নির্ধারন করা হয়নি। তবে হত্যাকান্ডের ঘটনায় সর্ব প্রথম গ্রেপ্তার হওয়া চায়ের দোকানী বাবুলের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। কিন্তু তদন্তের স্বার্থে আদালতে জবাবনবন্দি অথবা পালাতক আসামীদের নাম পরিচয় জানাননি তিনি।
এদিকে খুন হওয়া ও হত্যাকারীদের এলাকায় অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে খুনের ঘটনায় বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। ডাকাতীতে বাধা দেয়ায় মমতাজ বেগমকে জবাই করে হত্যার সাথে জড়িত বেশ কয়েকজনের নাম পরিচয় খুঁজে পাওয়া গেছে। যাদের মাঝে একজনের নাম আরিফ। তিনি হত্যার কিলিং মিশনে সরাসরি ভাবে অংশ নেয় বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। এছাড়া ডাকাতীর পরিকল্পনায় বাবুর সাথে ছিলো স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী এক যুবলীগ সদস্য।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, বাবু, রুবেল, আরিফ ও জামাল নামে ঘটনার সাথে জড়িতরা দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় এমন কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে। এদের সরাসরি ভাবে সেল্টার দিচ্ছে একই এলাকার যুবলীগ নেতা, এক কলম্যান ও দু’জন কাউন্টার ক্লার্ক। যার মধ্যে একজনের বাড়ি বটতলা এলাকায়। প্রথম দিক থেকে দু’জন সেল্টারদাতা হলেও বাকিরা বাবু ও রুবেলদের সাথে সকল ধরনের অপরাধমুলক কর্মকান্ডে অংশ নেয়। এমনকি ঘটনার মুল পরিকল্পনায় থাকা বাবু পুলিশের কাছে মহানগর যুবলীগের ঐ সদস্য এবং আরিফ এর নাম প্রকাশ করেছে বলেও থানার এক কর্মকর্তা জানিয়েছে।