বাবুগঞ্জে শিক্ষার হার বেড়েছে কমেছে উজিরপুর ও গৌরনদীতে

ওয়াহিদ রাসেল ॥ বরিশাল জেলায় গত ১০ বছরে শিক্ষার হার বেড়েছে ৪ দশমিক ১ ভাগ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশী বেড়েছে জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলায় এবং সবচেয়ে কম বেড়েছে গৌরনদী ও উজিরপুর উপজেলায়। জেলা পরিসংখ্যান অধিদপ্তরের জড়িপ করে আনা প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদন সূত্রে আরও জানা গেছে, ১০ বছর পূর্বে বরিশাল সদর উপজেলার মোট শিক্ষার হার ছিল ৬৪ দশমিক ৮ভাগ যা বর্তমানে রয়েছে ৬৯ দশমিক ৩ ভাগ। এর মধ্যে বর্তমান পুরুষের শিক্ষার হার আগের চেয়ে ৩ দশমিক ৫ভাগ বেড়ে হয়েছে ৭০ দশমিক ৫ ভাগ এবং নারীদের ৫ দশমিক ৮ ভাগ বেড়ে দাড়িয়েছে ৬৮ দশমিক ১ ভাগ। এদের মধ্যে ৫ থেকে ২৪ বছরের শিক্ষার্থীর স্কুল কলেজে যোগদানের হার বেড়েছে ৭ দশমিক ১ ভাগ। এতে সদর উপজেলার মোট শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেড়েছে ৬১ হাজার ৯৭ জন । পুরুষের সংখ্যা বেড়েছে ২১ হাজার ৯৯৯জন এবং নারীর সংখ্যা বেড়েছে ৩৯ হাজার ৯৮ জন। আগৈলঝাড়া উপজেলায় শিক্ষার হার ৩ দশমিক ৬ ভাগ বেড়ে হয়েছে ৬২ দশমিক ৯ ভাগ। যার মধ্যে পুরুষের হার বেড়েছে ২ দশমিক ৩ এবং নারীদের হার বেড়েছে ৫ দশমিক ২ ভাগ। এই উপজেলায় ৫-২৪ বছরের শিক্ষার্থীদের স্কুলে যোগদানের হার বেড়েছে ৭ দশমিক ৪ ভাগ। এর মধ্যে পুরুষ শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেড়েছে ৬ হাজার ৫১২ জন এবং নারী শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ৯৬৬ জন। মুলাদী উপজেলায় শিক্ষার হার ৭ ভাগ বেড়ে হয়েছে ৫৬ ভাগ। যার মধ্যে পুরুষের শিক্ষার হার বেড়েছে ৫ দশমিক ২ এবং নারী শিক্ষার হার বিড়েছে ১২ দশমিক ১ ভাগ। স্কুল ও কলেজে যোগদানের সংখ্যা বেড়েছে ১১ দশমিক ১ বেড়ে হয়েছে ৫৯ দশমিক ১ ভাগ। যার মধ্যে পুরুষের সংখ্যা বেড়েছে ১০ হাজার ৮৩০ জন এবং নারী সংখ্যা হয়েছে ৫৮৬ জন। একইভাবে বানারীপাড়া উপজেলায় শিক্ষার হার ৬ দশমিক ৫ ভাগ বেড়ে দাড়িয়েছে ৬৭ দশমিক ২ ভাগে। এদের মধ্যে পুরুষের শিক্ষার হার ৫ দশমিক ৪ ভাগ বেড়ে হয়েছে ৬৭ দশমিক ৮ এবং নারীর ৭ দশমিক ৭ ভাগ বেড়ে হয়েছে ৬৬ দশমিক ৭ ভাগ। অন্যান্য উপজেলার মত এই উপজেলায় ও একই বয়সের শিক্ষার্থীদের স্কুলে যোগদানের হার বেড়েছে ৫ দশমিক ২ ভাগ। ছেলেদের হার বেড়েছে ৪ দশমিক ৭ এবং মেয়েদের হার বেড়েছে ৭ দশমিক ৭ ভাগ। এর মধ্যে পুরুষ শিক্ষার্থী বেড়েছে ৫ হাজার ৪৮ এবং নারী ৮৪৩ জন। একই ভাবে হিজলা উপজেলায় শিক্ষার হার বেড়েছে বিগত ১০ বছরে ২ দশমিক ৬০ ভাগ বেড়ে হয়েছে ৪০ দশমিক ৮ ভাগ এর মধ্যে পুরুষের হার ০ দশমিক ১ ভাগ এবং নারী ৫ ভাগ। ৫ থেকে ২৪ বছরের শিক্ষার্থীদের স্কুলে যোগদানের হার বেড়েছে ৯ দশমিক ৫ ভাগ। পুরুষের যোগদানের হার ৭.৮ ভাগ এবং নারীর ১১ দশমিক ২ ভাগ। এতে পুরুষ শিক্ষার্থী বেড়েছে ১৮ হাজার ৩৭২ জন এবং নারী শিক্ষার্থী বেড়েছে ১২ হাজার ২৮৫ জন। মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার স্বাক্ষরতার হার ২ দশমিক ১ ভাগ বেড়ে হয়েছে ৪৮ দশমিক ৬ ভাগ। এর মধ্যে পুরুষের সাক্ষরতার হার কমেছে ০ দশমিক ১ ভাগ এবং নারী স্বাক্ষরতার হার বেড়েছে ৪ দশমিক ১ ভাগ। স্কুল কলেজে শিক্ষার্থীদের যোগদানের হার বেড়েছে ৯ দশমিক ২ ভাগ। এতে ছেলেদের হার বেড়েছে ৩ দশমিক ৮ ভাগ এবং মেয়েদের ১০ দশমিক ৬ ভাগ। ছেলে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেড়েছে ৮ হাজার ৮৫৯জন এবং মেয়েদের বেড়েছে ৩ হাজার ২৬৬ জন। উজিরপুর ও গৌরনদীতে স্বাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম বেড়েছে ১.৫ ভাগ। এতে উজিরপুর উপজেলায় মোট স্বাক্ষরতার হার হয়েছে ৬২ দশমিক ৫ ভাগ এবং গৌরনদীতে ৬০ দশমিক ৯ ভাগ। যার মধ্যে উজিরপুরে ছেলেদের স্বাক্ষারতার হার ০ দশমিক ৩ ভাগ বেড়ে হয়েছে ৬৪ ভাগ এবং মেয়েদের ২ দশমিক ৮ ভাগ বেড়ে হয়েছে ৬১ দশমিক ১ ভাগ। গৌরনদীতে ছেলেদের স্বাক্ষরতার হার ০ দশমিক ৩ ভাগ বেড়ে দাড়িয়েছে ৬২ দশমিক ৬ ভাগ এবং মেয়েদের স্বাক্ষরতার হার ৩ ভাগ বেড়ে হয়েছে ৫৯ দশমিক ৩ ভাগ। দুই উপজেলার শিক্ষার্থীদের স্কুল কলেজের যোগদানের হার বেড়েছে যথাক্রমে ৪দশমিক ৯ ও ০ দশমিক ৪ ভাগ। এতে উজিরপুর ছেলেদের শিক্ষার্থীদের সংখ্যা হয়েছে ১০ হাজার ১২জন ও মেয়েদের সংখ্যা ১ হাজার ৬৮২জন এবং গৌরনদীতে ছেলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ৭ হাজার ৮৫০ জন। বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে স্বাক্ষরতার হার বেড়েছে বাবুগঞ্জ উপজেলায়। এই উপজেলায় ৭ দশমিক ৭ ভাগ স্বাক্ষরতা বেড়ে দাড়িয়েছে ৬৮ দশমিক ৮ভাগে। এর মধ্যে পুরুষের শিক্ষার হার বেড়েছে ৬ দশমিক ৮ ভাগ এবং নারী শিক্ষার হার বেড়ে ৮দশমিক ৭ ভাগ। স্কুলে যোগদানের হার বেড়েছে ৪ভাগ। এতের ছেলে ও মেয়েদের হার সমান ৪ দশমিক ১ভাগ হারে বেড়েছে। এর মধ্যে ছেলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ৭ হাজার ১৬২ জন এবং মেয়েদের নিরক্ষরতার সংখ্যা কমেছে ৪৪৬ জন। এছাড়াও বাকেরগঞ্জ উপজেলায় ৪ ভাগ স্বাক্ষরতার হার বেড়ে দাড়িয়েছে ৬৩ দশমিক ৩ ভাগে। যার মধ্যে ছেলেদের ২.৭ ভাগ বেড়ে হয়েছে ৬৪ দশমিক ৩ভাগ ও মেয়েদের ৫ দশমিক ৩ভাগ বেড়ে হয়েছে ৬২ দশমিক ৪ ভাগ। স্কুলে যোগদানের হার ৬ দশমিক ৬ ভাগ বেড়ে হয়েছে ৬২ দশমিক ৯ ভাগ। এতে পুরুষ শিক্ষার্থীর সংখ্যা হয়েছে ২৭ হাজার ৩৫৯ জন এবং মেয়ে শিক্ষার্থী হয়েছে ১৬ হাজার ৭৬৯জন। বিগত বছরগুলোর তুলনায় শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি সেই অনুপাতে কর্মসংস্থানের মান এবং কর্মসংস্থান। শিক্ষা শেষেও পথে পথে বেকার হয়ে ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে তাদের। পিছিয়ে থাকা উপজেলার শিক্ষার হার কম হওয়ার কারণ হিসেবে জানা যায়, ওই অঞ্চলগুলোতে দারিদ্রতা। দারিদ্রতার কারনে তারা তাদের সন্তানদের ঠিক ভাবে পড়াশুনা করাতে পারছে না। এছাড়াও আরও বহাবিধ সমস্যাতো আছেই। এরপরও অন্যান্য বিভাগগুলোর তুলনায় কোন অংশেই শিক্ষায় পিছিয়ে নেই বরিশাল বিভাগ।