বাবুগঞ্জে ভূয়া প্রকল্পের মাধ্যমে এডিবির টাকা আত্মসাতে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ বাবুগঞ্জ উপজেলায় ভূয়া ও অস্তিত্ববিহীন উন্নয়ন প্রকল্প দেখিয়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর (এডিসি) ২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের পায়তারা করার অভিযোগে উপজেলা চেয়ারম্যান, নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়াও মামলায় ৫ জনকে মোকাবেলা বিবাদী করা হয়েছে। গতকাল রোববার বাবুগঞ্জ সহকারী জজ আদালতে উপজেলার ৩নং দেহেরগতি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মশিউর রহমান মামলাটি দায়ের করেন। আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক পলি আফরোজ মামলাটির আদেশ দানে পরবর্তীতে নথী উপস্থাপনের নির্দেশ দেন। মামলায় অন্যান্য বিবাদীরা হলেন উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান, বরিশাল জেলা প্রশাসক, স্থানীয় সরকার বরিশালের উপ-পরিচালক, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী, একই দপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, উপজেলা প্রকৌশলী, বরিশাল বিভাগের কমিশনার, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ণ ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সচিব, ঢাকা এলজিইডি’র প্রধান প্রকৌশলী এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। এছাড়া মোকাবেলা বিবাদীরা হলেন। উপজেলার ১নং বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর নগর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ কামরুল আহসান খান, ২নং কেদারপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন মৃধা, ৪নং রহমতপুর ইউপির মোঃ হাবিবুর রহমান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ আজিজুর রহমান ওয়ালিদ এবং ৬নং মাধবপাশা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ওয়াহিদুল ইসলাম খান। মামলার পরিচালনাকারী আইনজীবী মোঃ আজাদ রহমান জানান, গত ২৪ মার্চ বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এক স্মারকে ৩০ মার্চ সকাল ১১ টায় উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় যোগদান করতে দেহেরগতি ইউপি চেয়ারম্যানসহ মোকাবেলা বিবাদীদের পত্র প্রেরন করেন। ওই সভায় তিনটি আলোচ্য বিষয়ের উপর আলোচনা করার কথা থাকলেও উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাহী কর্মকর্তা ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সরকারী নীতিমালা বহির্ভূতভাবে বাদী ও মোকাবেলা বিবাদীদের কিছু বুঝতে বা শুনতে না দিয়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার প্রকল্পের কাজ রেজুলেশন ভুক্ত করেন। ২০১৪ সালের ১০ নভেম্বর স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের এক স্মারকে উপজেলা উন্নয়ন তহবিল ব্যবহার নির্দেশিকায় উপজেলা পরিষদ স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে আন্তঃ ইউনিয়ন প্রকল্প সমূহ বাস্তবায়ন করবে। এছাড়া উপজেলা পরিষদ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সমূহকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও প্রশাসনিক সহযোগীতা দেবে এবং বাস্তবায়ন কার্যক্রম সমন্বয় ও তত্ত্বাবধায়ন করবে। প্রকল্প চিহ্নিত করণ ও সম্পদ সমাবেশের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ প্রতি বছর ইউনিয়ন ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা তৈরী করবে। ইউপি চেয়ারম্যান সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের আহবান করে তাদের উপস্থিততে প্রনীত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো পরীক্ষা ও বাছাই পূর্বক উপজেলা পরিষদে পেশ করবেন। কমিটি সকল ইউপি ও উপজেলা পরিষদের পরিষদ চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান মহিলা ও সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হতে প্রাপ্ত প্রকল্প গুলো বাছাই ও চূড়ান্ত করবে এবং সভায় পেশ করবে। আন্তঃ ইউনিয়ন প্রকল্পসমূহ উপজেলা প্রকৌশলী বা সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধান প্রস্তুত ও বাছাই করে কমিটিতে উপস্থাপন করবেন। কমিটি যাচাই বাছাই করে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পরিষদ সভায় উপস্থাপন করার কথা থাকলেও উপজেলা চেয়ারম্যানসহ অন্যান্যরা উন্নয়ন প্রকল্পগুলো পরীক্ষা ও বাছাই করার সুযোগ না দিয়ে বরাদ্দকৃত ২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা ভূয়া ও অস্তিত্ববিহীন প্রকল্প দেখিয়ে আত্মসাতের পায়তারায় লিপ্ত হয়। এ ঘটনায় গতকাল মামলাটি দায়ের করা হয়।