বাবুগঞ্জে ভূয়া চিকিৎসককে গণধোলাই

বাবুগঞ্জ প্রতিবেদক॥ স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হেপাটাইটিস-বি ভ্যাকসিনের নামে নকল ইনজেকশন দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার সময় বাবুগঞ্জে এক ভূয়া চিকিৎসককে আটক করেছে জনতা। এসময় তাকে গণধোলাই দিয়ে প্রায় ২ ঘন্টা গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে গ্রামবাসী। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। তার কাছ থেকে এসময় বিপুল পরিমান নকল হেপাটাইটিস-বি ভ্যাকসিন উদ্ধার করা হয়। এলাকাবাসী ও পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সে নিজেকে চরফ্যাশনের জালাল উদ্দিনের ছেলে আশরাফুল ইসলাম (৩৫ বলে পরিচয় দেয়। আশরাফুল শনিবার উপজেলার মানিককাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এসে নিজেকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পরিচয় দিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের ভয়াবহতা সম্পর্কে মতবিনিময় সভা করে সবাইকে এই মরণঘাতী ভাইরাস প্রতিরোধে ভ্যাকসিন নেয়ার পরামর্শ দেয়। গতকাল রোববার প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ভ্যাকসিনের মূল্য বাবদ ২৫০ টাকা এবং ১২ বছরের উর্ধ্বের প্রত্যেক শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবককে ৩৫০ টাকা নিয়ে আসতে বলে। গতকাল সকালে যথারীতি সে হেলথ ক্যাম্পের নামে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলে তার কথাবার্তা ও আচরণে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। এসময় স্থানীয় যুবলীগ নেতা শাহিন মাহমুদ ও পল্লী চিকিৎসক হেমায়েত উদ্দিন মানিক তাকে চ্যালেঞ্জ করলে ধরা পড়ে সে। এসময় নকল হেপাটাইটিস-বি ভ্যাকসিন ছাড়াও তার কাছ থেকে একটি ভূয়া ডাক্তারী আইডি কার্ড উদ্ধার করা হয়। পরে গণধোলাই দিয়ে বেলা ১১টা থেকে প্রায় ১টা পর্যন্ত তাকে বিদ্যালয়ের গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। এসময় স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারক আশরাফুল ইসলাম জানায়, সে আগে ঢাকার আল নূর ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ল্যাব সহকারী হিসেবে কাজ করত। সেখান থেকে সে ভ্যাকসিন দেয়ার প্রশিক্ষণ পেয়ে নিজেই এই প্রতারণা ব্যবসায় নেমে পড়ে। এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকার ৪০/৪৫টি স্কুলে এই ভ্যাকসিনের নামে প্রতারণা করে অর্থ আদায় করেছে বলে জানায় সে। তবে জিঞ্জিরা থেকে আনা তার এই নকল হেপাটাইটিস-বি ভ্যাকসিনে কারো উপকার না হলেও মানবদেহের ক্ষতি হয় না বলে দাবি করে ওই প্রতারক।