বাবুগঞ্জে গুলি বর্ষণের পর ১২ জুয়ারী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশালের বাবুগঞ্জে অভিযান চালিয়ে ১২ জুয়ারীকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। একই সাথে ১১টি মোটর সাইকেলসহ জুয়া খেলার বিপুল পরিমান সরঞ্জামাদী উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় জুয়ারীদের নিবৃত্ত করতে দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলিও করেছে পুলিশ। পরে আটক হওয়া জুয়ারীদের গতকাল বৃহস্পতিবার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক রেজোয়ানা আফরিন তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরনের নির্দেশ দেন। বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় বরিশাল পুলিশ লাইনস এর ইন সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে জেলা পুলিশ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই রাতের আধারে বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের ঠাকুরজিতলা গ্রামের হারুন অর রশিদ মোল্লার টিনের ঘরে জুয়ার আসর বসে। ওই বাড়িতে ওয়ান টেন নামক জুয়া খেলতে বিভিন্ন স্থান হতে জুয়ারীরা আসতো। এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত বুধবার রাত দেড়টার দিকে ঠাকুরজিতলা গ্রামে হারুন অর রশিদ মোল¬ার ঘরে জুয়ার আসরে হানা দেয় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বাকেরগঞ্জ সার্কেল, জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই মো. আসাদুজ্জামান সহ ডিবি’র টিম ও এসএএফ শাখার সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ টিম। এসময় উপস্থিত জুয়ারীরা পুলিশকে প্রতিরোধের চেষ্টা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে দুই রাউন্ড ফাকা গুলি করে অভিযানে অংশ নেয়া পুলিশ সদস্যরা। এতে পিছু হটে জুয়ারীর দলটি। তারা পালাবার চেষ্টা করলে পুলিশ সদস্যরা ধাওয়া করে ১২ জুয়ারীকে আটক করে।
আটককৃতরা হলো- বরিশাল নগরীর বগ্রাম রোডের বাসিন্দা আবুল খায়ের এর ছেলে শহীদুল ইসলাম মুন্না (৪০), ১৯ নং ওয়াডস্থ হাসপাতাল রোডের মো. বজলুর রহমান এর ছেলে মো. সাইফুর রহমান (৩৭), ২৯নং ওয়ার্ডস্থ বিমানবন্দর থানাধীন কাশিপুরের গনেশ চন্দ্র রায় এর ছেলে গৌতম রায় (৩৫), মাদারীপুরের মোস্তফাপুর খাগড়ী বাসষ্ট্যান্ড এলাকার বাসিন্দা ও ব্রাহ্মবাড়িয়ার মেড্রা ১নং ওয়ার্ডের মৃত রামু মুধক এর ছেলে বিজয় মূধক বাবুল (৫২), ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার মালীপুর গ্রামের বজলুর রহমান এর ছেলে মো. বাদল হাওলাদার (৩০), একই উপজেলার পূর্ব মালিপুর গ্রামের মো. হানিফ হাওলাদারের ছেলে মো. জসিম উদ্দিন (৩২), উজিরপুরের মুন্ডুপাশা গ্রামের আবুল কালাম আজাদ এর ছেলে মীর কামরুজ্জামান পিকিং (৪২), উজিরপুর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুর রব ফকির এর ছেলে ইব্রাহীম ফকির (৩৫), বরিশাল সদর উপজেলার কর্ণকাঠী এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম হাওলাদার জুলু’র ছেলে রাজীব হাওলাদার (২৮), পটুয়াখালী সদরের নিউ মার্কেট একতা সড়কের বাসিন্দা ও সাতক্ষীরার আশাগুনি থানার দরগাপুর গ্রামের শেখ মহর আলীর ছেলে শেখ দিদারুল ইসলাম (৪৩), পটুয়াখালীর ৪নং ওয়ার্ডস্থ আরামবাগ এলাকার বিরেন মন্ডল এর ছেলে বিধান মন্ডল (৪০) এবং বাবুগঞ্জের দেহেরগতি গ্রামের মৃত আবুল কালাম ওরফে কালু হাওলাদারের ছেলে মো. দুলাল হাওলাদার (৫০)। এদিকে অভিযোগ উঠেছে বাবুগঞ্জ থানার ওসি’র প্রত্যক্ষ মদদে দীর্ঘদিন ধরে ওই জুয়ার আসর বসে। জুয়ার আসরের নিরাপত্তা দেয়াসহ সবধরনের সহায়তা করেন ওসি আব্দুস সালাম। এই জুয়ার আসর থেকে ওসি নিয়মিত মোটা অংকের টাকা পেতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার জানায়, জুয়ারীদের আটক করা ছাড়াও ৩টি মাইক্রোবাস, ২টি মাহেন্দ্র এবং ১১টি মোটর সাইকেল সহ বিভিন্ন জুয়ার সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জুয়া খেলার ১ লক্ষ ৩৩ হাজার ৮৭৫ টাকা, জুয়ারীদের ব্যবহৃত ১টি নাম্বারিং করা রেকসিনের ফর্দি, ওয়ান থ্রি নাম্বারিং করা একটি কাঠের বোর্ড, ২টি স্টীলের গালা বক্স, ১৪টি কাটার পিন, ছোট স্টীলের ট্রাংক একটি, ৬টি মোমবাতি, গোলাপ জল ১০টি, সার্কাসের কুপন বহি ৩টি, দিয়াশলাই বাক্স ১২টি, বেনসন সিগারেট ২ প্যাকেট, গোল্ডলিফ সিগারেট ২ প্যাকেট, স্থানীয় একটি পত্রিকার প্রেস লেখা পরিচয়পত্র, বাঁশের তৈরী বোর্ড স্ট্যান্ড একটি, স্টীলের স্কেল ১টি, ৩২ পাতার দেনা-পাওনা হিসেবের খাতা, রেইন কোট ১টি, ১টি জেনারেটর মেশিন জব্দ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এই ঘটনায় আটককৃত ১২জন জুয়ারী ছাড়াও ২১জনকে নামধারী এবং অজ্ঞাতনামা আরো ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ১২ জুয়ারীকে গতকাল বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে। জেলা পুলিশ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মাঝে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, মফিজুল ইসলাম প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।