বাবুগঞ্জে আনন্দ মেলায় জ্যান্ত পুতুলের নগ্ন নৃত্য

বাবুগঞ্জ প্রতিবেদক॥ জেলা প্রশাসকের তদন্ত কমিটি আর ২ এমপিসহ সাদিক আবদুল্লাহর বাধাও বন্ধ করতে পারেনি আনন্দ মেলা এবং যাত্রার নামে বাবুগঞ্জে চলমান প্রকাশ্য অশ্লীলতা ও জুয়ার রমরমা ব্যবসা। এবার ভেন্যু বদল করে উপজেলার মোহনগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অদূরের মাঠে শুরু হয়েছে যাত্রা ও পুতুল নাচের নামে উলঙ্গ নৃত্য আর রাতভর বিভিন্ন ধরনের জুয়াসহ মাদকের হাট। চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার মধ্যেও সন্ধ্যা থেকে উচ্চশব্দের মাইক বাজিয়ে পুতুল নাচের নামে চলছে ওই চরম অসভ্যতা। ফলে মোহনগঞ্জ এলাকার শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া দারুনভাবে বিঘিœত হওয়ায় উদ্বিগ্ন অভিভাবকসহ গোটা এলাকাবাসী। গত প্রায় ১০ দিন ধরে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের একেবারে নাকের ডগায় বসে এই অসামাজিক কার্যকলাপ চললেও পুলিশ যেন দেখছে না কিছুই। এসব অপকর্মের সাথে যারা জড়িত তারা কি সকল ক্ষমতার উর্ধ্বে, জনমনে এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে।
গত প্রায় ১০ দিন আগে বাবুগঞ্জ উপজেলার মোহনগঞ্জ বাজারের উত্তর পাশের মাঠে শুরু হয় যাত্রা ও পুতুল নাচের নামে প্রায় উলঙ্গ নৃত্য ও প্রকাশ্য জুয়ার আসর। সেখানে মাইক বাজিয়ে প্রকাশ্যে চলছে বিভিন্ন ধরনের জুয়া খেলা ও মাদকের বিকিকিনি। পুতুল নাচের নামে চলছে জ্যান্ত পুতুলের নগ্ননৃত্য।
দর্শকরা জানান, কুরুচিপূর্ণ ওই নাচের এক পর্যায়ে বাদ্যের তালে শরীরের অবশিষ্ট সামান্যতম লজ্জা অবরণীটুকুও খুলে ফেলা হচ্ছে। বিভিন্ন বয়সের নারীদের উন্মুক্ত শরীর প্রদর্শনীর ওই নাচের নামে চরম অসভ্যতা চলছে রাতভর। প্যান্ডেলের পেছনেই চলছে হাউজি, ওয়ান-টেন, শুটিং, চরকা, র‌্যাফেল ড্র সহ হরেক রকমের জুয়া। সেই সাথে যুক্ত হয়েছে গাঁজা, ফেন্সিডিল ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকের কেনাবেচা।
কিছুদিন আগে উপজেলার রামপট্টি বালুর মাঠ ও উত্তর রহমতপুর আলীর ইটভাটাসহ বরিশালের বিভিন্ন এলাকায় চলমান এসব অসামাজিক কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে শেষমেষ রাস্তায় নামেন সচেতন মানুষ। তারা বরিশালের অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামনে অশ্লীলতা বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। ওই কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে অসামাজিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ জানান জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মোঃ ইউনুস এমপি, বাবুগঞ্জের এমপি এ্যাড. শেখ মোঃ টিপু সুলতান ও সাবেক চীফ হুইপ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি’র পুত্র কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। এমনকি সাদিক আবদুল্লাহর নেতৃত্বে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কাছে অশ্লিলতা ও যাত্রা জুয়া বন্ধে স্মারকলিপি দেয়া হয়। জেলা প্রশাসক মোঃ শহীদুল আলম তার একজন এডিসি ও ডেপুটি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারসহ ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
তদন্ত কমিটির দাখিলকৃত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে বাবুগঞ্জের রামপট্টি বালুর মাঠসহ কয়েকটি স্থানে চলমান যাত্রা-জুয়ার নামে অশ্লিলতা বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। তবে অজ্ঞাত করনে বন্ধ হয়েনি বাবুগঞ্জের যাত্রার প্যান্ডেলে নগ্ন নৃত্য ও জুয়ার আসর। অদৃশ্য ক্ষমতা বলে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে বালুর মাঠে প্রায় মাসাধিককাল ধরে চালানোর পরে এখন ভেন্যু পাল্টে মোহনগঞ্জ বাজারে অশ্লিলতার ঘাটি গেড়েছে এবং চলছে বীরদর্পে।
অভিযোগ উঠেছে, এখান থেকে প্রতিরাতে প্রায় ৩ লাখ টাকা ভাগ-বাটোয়ারা হয় বিভিন্ন দফতরে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, যাত্রা-জুয়া থেকে প্রতিরাতে প্রায় ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা আয় হয়। এর মধ্যে প্রায় ৩ লাখ টাকা প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতাদের দালালদের মাধ্যমে বন্টন করে দেয় আয়োজকরা। দালালের তালিকায় দুই কথিত সাংবাদিক রয়েছেন। তারা মিডিয়া ম্যানেজের নামে প্রতি রাতে হাজার হাজার টাকা লুটে নিচ্ছে। দালাল ও কালোটাকার জোরে অশ্লীলতা প্রতিরোধ চেষ্টা এখন ব্যর্থতায় রুপ নিয়েছে। টাকা-ক্ষমতার কাছে জিম্মি বাবুগঞ্জ উপজেলাবাসীর একটাই প্রশ্ন, তবে কি ওরা সকল ক্ষমতার উর্ধ্বে? ওদের রুখবে কে?