বান্ধবীকে ইভটিজিং করায় বিএম কলেজে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ইভটিজিংকে কেন্দ্র করে বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের ৫ জন আহত হয়েছে। গতকাল রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিএম কলেজ ক্যাম্পাসে এই সংঘর্ষের ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় একজনকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানায়, কলেজের সমাজ বিজ্ঞান দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ও ফ্লাইট সার্জেন্ট ফজলুল হক ডিগ্রি হোস্টেলের নিবাসী অলির বান্ধবীকে ক্যাম্পাসের মধ্যে ইভটিজিং করে সমাজকল্যান বিভাগের ছাত্র ও কবি জীবনানন্দ দাশ (হিন্দু) হলের নিবাসী পলাশ। এরা দু’জনই বিএম কলেজ ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত।

এদিকে বান্ধবীকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করে অলি। পলাশের সাথে তার কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে ছাত্রলীগের ওই দুই কর্মীর নেতৃত্বে দুই ছাত্রাবাসের আবাসিক ছাত্রদের নিয়ে লাঠি-সোটা হাতে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। এক পর্যায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার হয়। এতে ক্যাম্পাস জুড়ে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। তাছাড়া সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৫ জনের মত আহত হয়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। তবে এই ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ওসি শাহ মো. আওলাদ হোসেন। এছাড়া আহতদের মধ্যে গোপাল নামে এক ছাত্রকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সে বিএম কলেজের অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র বলে জানাগেছে।

ওসি আওলাদ হোসেন বলেন, বিষয়টি ঘরোয়া ভাবে মিমাংশার দায়িত্ব নিয়েছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। তার পরেও কেউ অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। পাশাপাশি পরবর্তী অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক স.ম ইমানুল হাকিম বলেন, সংঘর্ষে আহত এক ছাত্রকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করানো হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে জানতে পেরেছি ইভটিজিং এর ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষ হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।