বান্দার ডাক শুনেছেন আল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বান্দার ডাক শুনেছেন মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহতায়ালা। আর তাই ঝড়লো বৃষ্টি। প্রচন্ড খড়তাপের পর মুষল ধারে বৃষ্টি ভিজিয়ে দিয়েছে পথ-ঘাট আর ফসলের ক্ষেত। তাই স্বস্তি ফিরেছে জনজীবনে। শুক্রবার বিকাল থেকে বিরামহীন বৃষ্টি শীতল করে দিয়েছে গোটা দক্ষিণাঞ্চল।
বরিশাল আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানাগেছে, চলতি মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো। তাপমাত্রার পারত বৃদ্ধি পাওয়ায় রোদের তাপে ফসলের মাঠ ফেটে চৌচির হয়ে যায়। সাধারণ জনজীবনে নেমে আসে দুর্বিসহ অস্বস্তি। সর্বোত্ব রোদের ভয়াবহ তাপে গৃহবন্ধি হয়ে পড়ে সাধারণ মানুষ। রাস্তা ঘাট এবং অফিস পাড়া অনেকটা জনশূন্য হয়ে পড়ে। দেখা দেয় কর্ম স্থবিরতা।
বিশেষ করে বৃষ্টির অভাবে খেটে খাওয়া রিক্সা চালক, দিন মজুররা প্রখর রোদে হাপিয়ে ওঠেন। মাঠে-ঘাটে কাজ করতে গিয়ে রোদে পুড়তে হয় তাদের। যে কারণে কাজের ফাঁকে বেশিরভাগ সময় ঠান্ডা স্থানে বিশ্রাম নিতে হয় তাদের।
তাছাড়া প্রচন্ড গরমে বেড়ে যায় নানা ভাইরাস জনিত রোগ। বিশেষ করে জ্বর, সর্দি, কাশি, চুলকানি যন্ত্রনা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পায়। শিশু রোগের পাশাপাশি হিট স্ট্রোকে মারাও গেছেন বেশ কয়েকজন। তাই এক পশলা বৃষ্টির জন্য দক্ষিণের ঘরের ঘরে বিশেষ প্রার্থনা করেন প্রচন্ড গরমে হাপিয়ে ওঠা মানুষগুলো। “আল্লাহ মেঘ দে, পানি দে, ছায়া দেরে তুই, আল্লাহ মেঘ দে” ঠিক যেন গানটির মত করেই একপশলা বৃষ্টির জন্য খোদার দরবারে ফরিয়াদ জানান মানুষগুলো। শেষ পর্যন্ত বান্দার সেই ডাক শুনলেন খোদা। মাত্র কয়েক ঘন্টার বৃষ্টি এবং শীতল হাওয়ায় ভিজিয়ে দিয়েছেন বরিশাল মহানগরী সহ গোটা অঞ্চল। এতে করে ঘরের অস্বস্থিতে থাকা মানুষের মুখে হাসি ফুটেছে।
বরিশাল আবওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ অবজার্ভার মো. হেলাল হোসেন জানান, টানা ৭ দিন পর বরিশালে বৃষ্টি ও ঝড়হাওয়া হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে দক্ষিণের আকাশে প্রচন্ড রোদ ছিলো। এসময় রোদের তাপমাত্রা ছিলো সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনি¤œ ছিলো ২৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে দুপুর ১টার পর পরই আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটে। দক্ষিণের আকাশে খন্ড খন্ড মেঘ জমে। দুপুর তিনটার পর শুরু হয় ঝড়হাওয়া। যার বাতাসের গতিবেগ ছিলো ঘন্টায় ৩৫ কিলোমিটার। প্রায় দেড় ঘন্টার ঝড়হাওয়া তাপমাত্রা কমিয়ে আনে। এরপর বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে শুরু হয় মুষল ধারে বৃষ্টি। টানা বৃষ্টিতে রোড-ঘাট, শহর-বন্দর এবং ফসলের মাঠ ভিজে যায়। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অঝড় ধারায় বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে ৫ মিলিমিটার। এতে তাপমাত্রা অনেক কমে গেছে। যার ফলে আগামী ২-১দিনে রোদের প্রভাব অনেকটা কম থাকবে বলে জানিয়েছেন।