বানিজ্য মেলায় দুই ব্যক্তির খবরদারীতে ব্যবসায়ীরা বিপাকে

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ বরিশাল আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলায় আসলাম ও মিজান নামে দুই ব্যক্তির অবৈধ খবরদারীতে বিপাকে পড়েছে ব্যবসায়ীরা। মেলার বিপনি বিতান গুলোতে বানিজ্য এখন জমে না উঠলেও প্রতিনিয় চাঁদা দিতে হচ্ছে তাদের। কেডিসি এলাকার এক সময়ের দিন মজুর আসলাম ও মিজান এসব করে এখন আগুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বানিজ্য মেলায় দুর দুরন্ত থেকে বানিজ্য করতে আসা ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি বছর বরিশাল আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলায় ব্যবসা করতে এসে লোকশান গুনতে হয় তাদের। কেননা চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ কর্তৃপক্ষ এখানে নামে মাত্র বানিজ্য মেলার আয়তন করলেও মুল আকর্শন থাকে যাত্রা জুয়ার নামে অশ্লিলতা। যার ফলে মেলায় বানিজ্য কোন কালেই জম জমাট হয়ে উঠেনা।
তারা আরো বলেন, বানিজ্য মেলার প্রকাশ যাত্রা-জুয়ার আর অশ্লিলতা জমে উঠলেও বেচা কেনা চমে উঠেনি। কিন্তু তার পরেও তাদের দিতে হচ্ছে চাঁদা। মেলা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কেডিসি এলাকার আসলাম এবং মিজান নামে দুই ব্যক্তি তাদের কাছ থেকে নিয়মিত ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে চাঁদা দিতে হচ্ছে। তাতে বেচা-কেনা হোক আর নাই হোক। ব্যবসায়ীরা জানায়, আসলাম এবং মিজানকে ব্যবসায়ীদের সুযোগ সুবিধা দেখার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারা তা না করে করছে চাঁদাবাজী। এর জন্য আগামীতে অনেক ব্যবসায়ী বরিশাল বানিজ্য মেলায় আসবে না বলেও সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর কেডিসি বস্তির বাসিন্দা আসলাম ও মিজান। এরা এক সময় দিন মজুরের কাজ করত। পাশাপাশি এলাকায় খুচরা গাজা ব্যবসায়ী হিসেবেও পরিচিত রয়েছেন তারা। এসব করতে গিয়ে এক সময় তারা হয়ে যায় চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের দালাল। মেলা আসলেই আসলাম তার সহযোগী অপর দালাল একই এলাকার মিজানকে সাথে নিয়ে মেলার মাঠে চৌকিদারের ভুমিকা পালন করে। কিন্তু চৌকুদারী করতে গিয়ে তারা নিজেরাই হয়ে যায় কথিত মাঠ মালিক। এসব করে এক সময় লাখপতি বনে যায় এই দুই প্রতারক। এমনকি লুংগি আর গেঞ্জি খুলে শার্টে ইন করে জিন্স প্যান্ড পরে বড় মেয়ার সাজার চেষ্টাও পিছিয়ে নেই তারা। শুধু এসবেই থেমে নেই তারা। মেলায় অবৈধ খবরদারীর পাশাপাশি মাদকের ব্যবসা করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে এই দু’ খবরদারের বিরুদ্ধে।