বানারীপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের বহিস্কৃত সভাপতিকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নবুবধূ ধর্ষনের দায় স্বীকার করা বানারীপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের বহিস্কৃত সভাপতিকে দুইদিন কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে আদালত। গতকাল বুধবার বরিশালের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. শিহাবুল ইসলাম অনুমতি দিয়েছেন। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বানারীপাড়া থানার এসআই মো. রুহুল আমিন ধর্ষক বহিস্কৃত সভাপতি সুমন হোসেন মোল্লাকে ৭ দিনের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন করেছিলেন।

বেঞ্চ সহকারী মো. শাহদাত জানান, বর্তমানে কারান্তরীন সুমন মোল্লা গত ১৫ জুলাই বানারীপাড়ার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নে বেতাল গ্রামে নানা বাড়ীতে বেড়াতে আসা সিএনজি চালককে আটকে নববধূকে ধর্ষন করে। এই ঘটনায় নববধূ বাদী হয়ে বানারীপাড়া থানায় মামলা করে। পুলিশ সুমন মোল্লাকে গ্রেপ্তার করার পর গত ১৭ জুলাই অতিরিক্ত মুখ্য হাকিম’র কাছে স্বীকারোক্তিমুলক জবান দেয়। এছাড়াও নববধূ ও প্রত্যক্ষদর্শী ফুফা শাশুড়ীর জবানবন্দিও গ্রহন করেন অতিরিক্ত মুখ্য হাকিম। অতিরিক্ত মুখ্য হাকিমের কাছে দেয়া জবানবন্দিতে সুমন একাই নববধূকে ধর্ষন করার কথা স্বীকার করেছে। ওই ঘটনার সাথে আরো কেউ জড়িত ছিল কিনা জানতে সাত দিন নিজ হেফাজতে নেয়ার জন্য আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। কিন্তু অতিরিক্ত মুখ্য হাকিম দুই দিন জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দিয়েছেন।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রুহুল আমিন বানারীপাড়া প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন, নববধূতে ধর্ষনে আরো কারা জড়িত ছিল। তাদের নাম পরিচয় নিশ্চিত হওয়াসহ তদন্তের জন্য আরো জিজ্ঞাসাবাদ’র প্রয়োজনে সাত দিন হেফাজতে নেয়ার আবেদন করা হয়েছিল। আদালত দুইদিন জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন।

উল্লেখ্য বানারীপাড়ার বাসিন্দা চট্রগ্রামের সিএনজি চালক নববধূকে নিয়ে বাড়ী আসে। চালকের দ্বিতীয় বিয়ে হওয়ায় পরিবার মেনে নেয়নি। তখন নববধূকে নিয়ে বানারীপাড়ার বেতাল গ্রামে সিএনজি চালকের নানা বাড়ীতে উঠে। খবর পেয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সুমন হোসেন মোল্লা তাদের ধরে এনে বেতাল গ্রামের বাজারে একটি দোকানে স্বামীকে আটকে রাখে। পরে তার স্ত্রী নববধূকে একই গ্রামে স্বামীর বিধবা ফুফুর ঘরে একটি কক্ষে নিয়ে রাতভর ধর্ষন করে। সুমন মোল্লার বিরুদ্ধে মামলা ও তাকে গ্রেপ্তারের পর কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমতি নিয়ে বরিশাল ছাত্রলীগ বহিস্কার করে।