বানারীপাড়ায় বাস-মাহেন্দ্র’র সংঘর্ষে নিহত ৩

নিজস্ব ও বানারীপাড়া প্রতিবেদক ॥ বানারীপাড়া উপজেলার রায়েরহাটে শহীদ সুকান্ত বাবু স্মৃতি সংসদের সামনে যাত্রাবাহী বাস ও মাহেন্দ্র’র মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক ও নারী যাত্রীসহ তিনজন নিহত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে ঘটনায় শুরুতর আহত এক শিশুকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতরা হলো- বানারীপাড়া উপজেলার রায়েরহাট এলাকার কবির হাওলাদারের স্ত্রী নুপুর আক্তার (৩২), ঝালকাঠি জেলার গাভা রামচন্দ্রপুর গ্রামের জহিরুল ইসলামের স্ত্রী ফাতেমা বেগম (৩৮) ও অটোটেম্পুর চালক মাধবপাশা এলাকার রফিক গাইন’র ছেলে রুহুল আমিন গাইন (২০)। এর মধ্যে চালক রুহুল আমিন গাইন শেবাচিম হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। এছাড়া গুরুতর আহত শিশু হামিম (৬) নিহত ফাতেমা বেগম’র পুত্র। বিকালে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় প্রেরন করা হয়েছে।
এদিকে ঘাতক জোনাকী পরিবহন’র বাসটিকে (বরিশাল-ব-০৫-০০২৬) স্বরূপকাঠী বাস স্ট্যান্ড থেকে আটক করেছে বানারীপাড়া থানা পুলিশ। তবে চালক বা হেলপার কাউকেই আটক করতে পারেনি তারা। তাছাড়া খবর পেয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসার খোঁজ খবর নেয়া ছাড়াও নিহতের আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন বানারীপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক।
বানারীপাড়া থানার ওসি মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, নগরী থেকে জোনাকী পরিবহন’র  বাস যাত্রী নিয়ে বানারীপাড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। একই সময় বানারীপাড়া থেকে মাহেন্দ্র যাত্রী নিয়ে নগরী উদ্দেশ্যে আসছিলো। পথিমধ্যে রায়েরহাট ব্রীজের পূর্ব মাথায় উভয় যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই অটোটেম্পুর দুই নারী যাত্রী নিহত হয়। এসময় চালক চালক ও এক শিশুকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শেবাচিম হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার আবুল কালাম আজাদ বলেন, মাহেন্দ্র চালকের গুরুতর আহত হয়েছে। তাই তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তাছাড়া শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরন করা হয়েছে।
এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার জন্য বাসের চালকই দায়ী। বেপরোয়া গতি এবং তার অসাবধানতার কারনেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। তারা বলেন, মাহেন্দ্র’র সামনে একটি কুকুর দৌড়ে আসে। কুকুরটিকে বাঁচাতে মাহেন্দ্র এক পাশে চলে যায়। এসময় বিপরীত দিক থেকে আসা বেপরোয়া গতির বাস’র সাথে মাহেন্দ্র’র সংঘর্ষ হয়। বাসের কম গতি ও চালক যদি সতর্ক থাকতো তাহলে এই দুর্ঘটনা ঘটতো না।