বানারীপাড়ার সেই গৃহবধুকে ধর্ষনের আলামত পায়নি ফরেনসিক বিভাগ

বানারীপাড়া প্রতিবেদক॥ বানারীপাড়ায় উপজেলা ছাত্রলীগের সাময়িক বহিস্কৃত সভাপতি মোঃ সুমন হোসেন মোল্লার বিরুদ্ধে ধর্ষনের অভিযোগ আনা সেই গৃহবধুর ডাক্তারি পরীক্ষায় ধর্ষনের কোন প্রকার আলামত পাওয়া যায়নি। শুক্রবার ভিকটিম ওই গৃহবধুর আইনানুগ মেডিকেল পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পেয়েছে বানারীপাড়া থানা পুলিশ। ওই প্রতিবেদনে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এবিএম নাজমুল হুদা,প্রভাষক ডা. সৈয়দ ইমতিয়াজ উদ্দিন,ডা. মো. তানজিনুল হক ও ডাঃ সাগর রায় প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন ঘটনার রাত ১৬ জুলাই ভিকটিম’র সঙ্গে জোরপূর্বক যৌন মিলনের কোন প্রমান পাওয়া যায়নি। ১৬ জুলাইয়ের কয়েক দিন পূর্বে মিলনের প্রমান পাওয়া যায় মেডিকেল পরীক্ষায়,সেই মিলন ভিকটিম কার সাথে করেছে তার খোলা তালাক দেওয়া স্বামী সেলিম রায়বাসিয়ার সাথে না অন্য কেউ? এমনও প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে এলাকাবাসীর মনে। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় ভিকটিম ৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা এবং পরীক্ষায় তার স্পারমেটোজোয়া পাওয়া যায়নি। এদিকে ভিকটিম মামলার এজাহার ও ডাক্তারি পরীক্ষার সময় এমনকি ওইদিন সংবাদকর্মীদের কাছে স্ববিরোধী বক্তব্য প্রদান প্রমান করে তার মামলাটি অন্যদের প্ররোচনায় করা এবং গভীর ষড়যন্ত্র,এমনই অভিযোগ মোঃ সুমন হোসেন মোল্লার পরিবারের। ডাক্তারি পরীক্ষার সময় ওই গৃহবধু অভিযোগ করেন ১৬ জুলাই দিবাগত রাত অনুমান ১ টায় তার ফুফু শাশুড়ীর বাড়িতে গিয়ে আসামী সুমন হোসেন মোল্লা তাকে ঘুম থেকে তুলে একটি কক্ষে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষন করে। এজাহারে ভিকটিম ও মামলার বাদী ওই গৃহবধু অভিযোগ করেন ১৬ জুলাই দিবাগত রাত অনুমান ১ টার দিকে আসামী সুমন হোসেন মোল্লা তাকে তার মামা শ্বশুর জাকির হোসেনের বেতাল গ্রামের বাড়ি থেকে জবরদস্তি করে একই গ্রামে ফুফু শাশুড়ী আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে নিয়ে এসে একটি কক্ষে নিয়ে ভোর ৫ টা পর্যন্ত জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষন করে। এসময় তার স্বামীকে বেতাল ক্লাবের পাশে একটি দোকানে আটকে রাখা হয় বলেও অভিযোগ আনা হয়েছে। ওই গৃহবধুর মামা ও ফুফু শ্বাশুড়ীর বাড়ির দূরত্ব অর্ধ কিলোমিটার। স্বামী,মামা শ্বশুর ও ফুফু শাশুড়ী সহ তাকে মামা শ্বশুরের বাড়ি থেকে জবরদস্তি করে প্রায় অর্ধ কিলোমিটার দূরত্বে ফুফু শাশুড়ীর বাড়িতে নিয়ে আসার সময় তারা পথের মধ্যে কেন ডাকচিৎকার দিলেন না সকালে ধর্ষনের অভিযোগ আনলেন এ বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত সুমন মোল্লার পরিবার প্রশ্ন তুলেছেন। এদিকে জানা গেছে ওই গৃহধুর সঙ্গে তার স্বামী উপজেলার সলিয়াবাকপুর গ্রামের সেলিম রায়বাসিয়ার সঙ্গে দু’মাস পূর্বে খোলা তালাকের ঘটনা ঘটে। ফলে তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর চট্রগ্রাম থেকে তালাক দেওয়া স্বামীর কাছে আসা ও অন্তঃস্বত্তা হওয়ার ঘটনা রহস্যের সৃষ্টি করেছে। প্রসঙ্গত ধর্ষনের অভিযোগে ওই গৃহবধু বাদী হয়ে মামলা দায়েরের পর ডিবি পুলিশ বরিশাল থেকে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সুমন হোসেন মোল্লাকে গ্রেফতার করার পর এনিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। বিষয়টি জেনে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্দেশে বরিশাল জেলা ছাত্রলীগ তাকে সংগঠন থেকে সাময়িক বহিস্কার করে। সেই থেকে সুমন হোসেন মোল্লা জেলহাজতে রয়েছেন। এদিকে সুমন হোসেন মোল্লার বড় ভাই উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন মোল্লা তার ভাই নির্দোষ ও ষড়যন্ত্রের শিকার বলে দাবী করে জানান দলের মধ্যে আভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারনে তাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার ঘৃন্য চক্রান্তের অংশ হিসেবে তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে ওই গৃহবধুকে দিয়ে এ ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা অভিযোগ দাড় করিয়েছে। তিনি প্রশাসনের প্রতি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এর আসল রহস্য উদঘাটনের দাবী জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচাজর্ ওসি) মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান ভিকটিমের ডাক্তারী পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পরে তা আদালতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।