বাকেরগঞ্জে বৈধ ইটভাটা ১০ অবৈধ অর্ধশতাধিক

বাকেরগঞ্জ প্রতিবেদক॥ বাকেরগঞ্জ প্রায় অর্ধশতাধিক ইটভাটয় জ্বালানী হিসাবে কয়লার পরিবর্তে পুড়ছে কাঠ। এ ইটভাটার মধ্যে ১০-১২ টি ইটভাটার ছাড়পত্র থাকলেও বাকি গুলো পরিবেশ অধিদপ্তরের আইন-কাননকে তোয়াক্কাও করছেন না। অভিযোগ এসকল অবৈধ ইটভাট গুলোতে কয়লার পরিবর্তে ব্যবহার করছে কাঠ। জানাযায়, বাকেরগঞ্জের অধিকাংশ ইটভাটার মালিক গন কমপুজি ব্যবহার করে ইটভাটা চালাচ্ছে। ইটভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ মাসিক মোটা অংকের মাসোয়ারার চুক্তিতে এ ব্যবসা চালাচ্ছে। ‘কথায় আছে রক্ষক যখন বক্ষক’ পরিবেশ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে যাদের তারই করছেন সহোযগীতা এমন অভিযোগ যেন প্রতিদিনের ঘটনা। অনেকের দাবী পরিবেশ কর্মকর্তারা মোটা অংকের ঘুষ গ্রহন করে চোখ খুলে ঘুমাচ্ছেন। অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একাধিক বার অবৈধ এটভাটার উপর অভিযান চালালেও বন্ধ হচ্ছেন অবৈধ ইটভাটা। যদিও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৃধা মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম দাবী করেন, বাকেরগঞ্জে একটিও অবৈধ ইটভাটা নেই। তিনি বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে অবৈধ ইটভাটা বন্ধের জন্য চলমান অভিযান অব্যহত আছে। ইটভাটার মালিকদের সাথে কথা বলে জানাযায়, ফিক্সড চিমটি তৈরী করতে খরচ হয় ২২-২৬ লাক্ষ টাকা। সেখানে ২৫-৩০ হাজার টাকা দিয়ে টিনের চিমটি তৈরী করে, প্রশাসন ম্যানেজ করে ইটভাটা চালাচ্ছে। কম পুজি খাটিয়ে বেশি মুনফার আশায় অনেকে ইটভাটার ব্যবসা করছেন। যে কারণে ফিক্সড চিমটি ব্যবহারকারি ইটভাটা ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। পরিবেশবিদের মতে এ অবৈধ ইটভাটায় কয়লার পরিবর্তে কাঠ ব্যবহার করায় পরিবেশের ভারসাম্য ভীষন ভাবে হারিয়ে যাচ্ছে। এর প্রভাবে উপজেলার কৃষি এবং স্বাস্থের উপর মারাত্মক বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে। ইটভাটা গুলোর আসপাসের এলাকায় এখন আর কোন ফসল ফলাতে পারছেনা কৃষকেরা। সরকার কর্তৃক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর টিনের তৈরী চিমটি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কোন নিয়ম নিতীই মানা হচ্ছেন্ াএকটি সুত্র জানায়, বরিশাল সদর উপজেলা, ভোলা, নলছিটি, বরগুনা, আমতলী বাবুগঞ্জ সহ বিভিন্ন জেলা উপজেলার ইটভাটা গুলোতে ব্যবহৃত পরিবেশ বিধ্বংসি টিনের চিমটি ভেঙ্গে ফেলা হলেও বাকেরগঞ্জের ক্ষেত্রে এই আইনটি উপেক্ষিত রয়ে যাওয়ায় জনমনে বিস্ময় দেখা দিয়েছে। উপজেলার কলসকাঠী, রঙ্গ্রশী, নিয়ামতি, দাড়িয়ার, গারুড়িয়া, কবাই, ফরিদপুর, চরামদ্দি সহ সব এলাকার অর্ধশতাধীক ইটভাটার একই অবস্থা। তাদের পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড় পত্র নেই, নেই জেলা প্রশাসকের নিবন্ধনও। ভ্যাট কিংবা আয়কর সার্টিফিকেটের প্রয়োজন মালিকেরা চিন্তাও করেন না। আয়কর প্রদান না করায় সরকার প্রতি বছর ৪ থেকে ৫ কোটি টাকারও বেশী রাজস্ব হারাচ্ছে। এভাবে প্রায় ২০ বছর যাবত ইটভাটার মালিকেরা সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে চলছেন। ইট ভাটার মালিকদের মধ্যে গুরুপিং অন্তর দন্ধ থাকলেও তাদের নিজেদের স্বার্থে তারা এক। তবে গুরুপ ভিত্তিক লিডার ও রয়েছে তাদের। মাঝে মাঝে পরিবেশ অধিদপ্তর সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা নামে মাত্র অবৈধ ইটভাটা গুলো পরির্দশনে আসেন। তবে সব ইটভাটায় তারা যাননা। গ্রুপলিডারদের অফিসে বসেই তারা তাদের উদ্দিশ্য হাসিল করে চলে যান অর্থাৎ তারা নিয়মিত মাসোয়ারা পকেটে পুরেই কেটে পড়েন। কর্তাব্যক্তিদের এই লুকোচুরি করে আসা যাওয়ায় সাধারন মানুষের মনেও প্রশ্ন জাগে। অনেকেই তাদের উদ্দেশ্য খোঁজ নিতে অনুসন্ধানি হয়ে উঠে লোকজন বুঝেও ফেলে কিন্তু এ যেন তাদের আজন্মম অক্ষমতা ! কারন সঙ্গত-ভাবেই মনে হচ্ছে বেড়ায় ক্ষেত খাওয়ার মত। বাকেরগঞ্জ উপজেলা বাসীর দাবী পরিবেশ রক্ষায় সকল চিমটি ভেঙ্গে ফেলে প্রতিটি ইটের ভাটায় অচিরেই যেন ফিক্সড চিমটি স্থাপন করা হয়।