বাকেরগঞ্জে বিএনপির পৌর কমিটি তৃনমূলে ক্ষোভ

বাকেরগঞ্জ প্রতিবেদক॥ বাকেরগঞ্জে বিএনপির পৌর কমিটি গঠন নিয়ে তৃণমূল ও ওয়ার্ড নেতা-কর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মতামতকে উপেক্ষা করে উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের বাসীন্দা রুহুল আমিন জোমাদ্দারকে সদস্য সচিব করায় এ ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন সুত্রে জানা যায়, পৌর বিএনপির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে গত ২৫ আগষ্ট বরিশাল জেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ কমিটি গঠনের লক্ষ্যে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে সভা আহবান করেন। ওই সভায় জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়দুল হক চাঁন, সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. আবুল কালাম শাহিন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক সিকদার খলিলুর রহমানসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। পৌর বিএনপির ৯টি ওয়ার্ডের সভাপতি ও সম্পাদকদের গোপন ভোটের মাধ্যমে আহবায়ক, যুগ্ম-আহবায়ক ও সদস্য সচিব নির্বাচনের কথা ছিলো। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও সম্পাদক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়দুল হক চান ও সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. আবুল কালাম শাহিন তৃনমূলের মতামতকে উপক্ষো করে ইউনিয়নের নেতাদেরকেও ওই কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান দিয়ে একটি পকেট কমিটি করেছেন। দলের গঠনতন্ত্রে একজন করে আহবায়ক, যুগ্ম-আহবায়ক ও সদস্য সচিব নির্বাচনের কথা থাকলেও তারা তা না করে দুজন করে আহবায়ক ও যুগ্ম-আহবায়ক ঘোষণা দিয়েছেন। আবার পৌর বিএনপির গত কমিটিতে ত্যাগী নেতাদের যে পদ ছিলো এ কমিটিতে তাদেরকে বাদ দেয়া হয়েছে। দক্ষ সংগঠক লায়ন মোফাজ্জেল জমাদ্দার সাবেক কমিটির যুগ্ম-আহবায়ক ছিলেন। কিন্তু সদ্য ঘোষিত কমিটিতে তাকে রাখা হয়নি। বিশ্বস্ত সুত্র জানায়, বাকেরগঞ্জ পৌরসভার বাসীন্দা জাসাস জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি তরুন ও উদীয়মান নেতা কামরুল ইসলাম রাজিব দলীয় প্রত্যেকটি কর্মসূচীতে স্বতঃস্ফুর্তভাবে নেতা-কর্মীদের নিয়ে অংশগ্রহন করেন। তিনি সরকারি বাকেরগঞ্জ কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক। উপজেলা জাসাসের সকল কর্মসূচীতে তার সংগ্রামী ভূমিকা রয়েছে। এমনকি অনেক সময় তিনি বড় কর্মসূচীতে ঢাকায় অংশগ্রহন না করে বাকেরগঞ্জের কর্মসূচীতে অংশগ্রহন করেন। বিএনপি এবং নেত্রীকে নিয়ে অনেক গান রচনা করে তিনি হামলা-মামলারও স্বীকার হয়েছেন। সদ্য ঘোষিত পৌর বিএনপির কমিটিতে তার যুগ্ম-আহবায়ক পদ পাবার কথা থাকলেও তিনি স্থান পাননি। ইতিমধ্যে তিনি এ বিষয়ে বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. মজিবুর রহমান সরোয়ারের সাথে দেখা করে বিষয়টি লিখিতভাবে তাকে অবহিত করেছেন। এ বিষয়ে কামরুল ইসলাম রাজিবের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জানিনা বর্তমান পৌর বিএনপির কমিটিতে কেনো রাখেনি। দল অবশ্যই ত্যাগ, কর্মদক্ষতা ও যোগ্যতা মূল্যায়ন করে অচিরেই তাকে পৌর বিএনপির কমিটিতে ভালো পদে স্থান দিবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। তৃণমূল বিএনপির নেতা-কর্মীরা হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, সদ্য ঘোষিত কমিটির সদস্য সচিব রুহুল আমিন জোমাদ্দার পৌরসভার ভোটার নন। তাছাড়া পৌর বিএনপির রাজনীতিতে তার তেমন কোনো অবদানও নেই। অথচ তাকে সদ্য ঘোষিত কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে। এনিয়ে দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের এ ক্ষোভ যে কোনো সময় বিক্ষোভে রুপ নিতে পারে। এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়দুল হক চাঁনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।