বাংলাদেশের বিমানের ২ ঘন্টা বিলম্ব

বিশেষ প্রতিবেদক॥ ঈদ পরবর্তি কর্মস্থলমুখী যাত্রীতে ঠাশা রাষ্ট্রীয় আকাশ পরিরবহন সংস্থার বিমান ফ্লাইট ‘বিজিÑ৪৬৯’ গতকাল দু ঘন্টা বিলম্বে বরিশালে অবতরণ করে। আর এ বিলম্বের সুবাদে রানওয়ে লাটিং সুবিধা বিহীন বরিশাল বিমান বন্দরের ‘ওয়াচ আওয়ার’ অনেকটাই পার করে সন্ধা ৬টা ৫০মিনিটে বিমান এর ফিরতি ফ্লাইট ‘বিজিÑ৪৭০’ ঢাকায় রওয়ানা হয়। যা ছিল অনেকটাই ঝুঁকিপূর্ণ। এরফলে বরিশালÑঢাকা কুড়ি মিনিটের আকাশ পথের ভ্রমনে উভয় প্রান্তের প্রায় দেড়শ যাত্রীকে গতকাল বিমান বন্দরে অপেক্ষা করতে হয় ৩ ঘন্টাধীককাল। এর আগেও বরিশাল সেক্টরে বিমান যাত্রীদের এধরনের বিড়ম্বনা ভোগ করতে হয়েছে বহুবার। এমনকি এয়ার পোর্টের ওয়াচ টাইমের পরেও ঝুঁকি নিয়ে একাধীকবার বরিশাল বিমান বন্দর থেকে টেক অফ করেছে বিমান।
গত ৮ এপিল বরিশাল সেক্টরে বিমান ফ্লাইট চালুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৯০ ভাগ ফা¬ইটই নির্ধারিত সময়ে চলাচল করেনি বলেও অভিযোগ সাধারন যাত্রীদের। এর সাথে বিমান বন্দরে যাত্রীদের আনা নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত না করা সহ নানা বিড়ম্বনায় বরিশাল সেক্টরের যাত্রীরা ক্রমশ বিমান-এর প্রতি বিরক্ত হয়ে উঠছে বলেও অভিযোগ উঠছে। উপরন্তু গত ১০জুলাই থেকে একটি বেসরকারী এয়ারলাইন্স বরিশাল সেক্টরে সপ্তাহে ৪টি ফ্লাইট নিয়ে যাত্রী পরিবহন শুরু করার পর থেকে বরিশাল বিমান অফিস যাত্রীদের প্রতি কিছুটা অমনযোগী হয়ে উঠছে বলেও অভিযোগ উঠেছে । তবে টানা ১৫দিন পরে গতকাল বিকেলের বিলম্বিত ফ্লাইটে বিমান-এর জেলা ব্যবস্থাপক বরিশালে ফিরছেন বলে জানা গেছে। স্টেশন ম্যানেজারও গতকাল ফ্লাইটের আগে বিমান বন্দরে পৌছেন।
গতকাল বিকেল ৪টায় ঢাকা থেকে বিমান-এর ফ্লাইট বিজি-৪৬৯ ফ্লাইটটি বরিশালের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ার কথা ছিল। আগে থেকেই ফ্লাইটটির সব টিকেট বিক্রী হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু নিয়মনুযাত্রী দুপুর ৩টার মধ্যে বরিশাল সেক্টরের যাত্রীরা ঢাকায় হজরত শাহ জালাল (রঃ) বিমান বন্দরের ডমেষ্টিক লাউঞ্জে পৌছে জানতে পারেন বরিশাল ফ্লাইট ১ঘন্টা বিলম্বে বিকেল ৫টায় ছাড়বে। এরপর থেকেই শুরু হয় অপেক্ষার পালা। বরিশাল বিমান বন্দর থেকেও বিকেল ৪.৫০টায় ফিরতি ‘বিজি-৪৭০’ফ্লাইটটি ছাড়ার কথা ছিল। যাথারীতি বিকেল ৪টার মধ্যেই সব যাত্রী বরিশাল বিমান বন্দরে পৌছে ফ্লাইট ১ঘন্টা বিলম্বের কথা জানতে পেরে অপেক্ষার প্রহর গুনতে শুরু করেন।
কিন্তু এর পর থেকে ঢাকা ও বরিশালের বিমান বন্দরে দফায় দফায় বিলম্বের পরিধি শুধু বাড়তে থাকে। অপরদিকে বরিশাল বিমান বন্দরের রানওয়েতে লাইটিং সুবিধা না থাকায় সন্ধা সোয়া ৬টার পরে যে কোন ফ্লাইট পরিচালনে বিধি নিষেধ থাকায় যাত্রীদের উৎকন্ঠা ক্রমশ বাড়তে থাকে। উভয় প্রান্তেই বেশ কিছু শিশু যাত্রী থাকায় তাদের নিয়ে চরম বিড়ম্বনায় পরেন অভিভাবকগন।
তবে অবশেষে অপেক্ষার পালা শেষ করে টানা ২ ঘন্টা ছয় মিনিটি বিলম্বে সন্ধা ৬টা ৬মিনিটে বিমান-এর ‘বিজিÑ৪৬৯’ ফ্লাইটটি পূর্ণ যাত্রী নিয়ে রওয়ানা হয়ে কুড়ি মিনিটের মাথায় বরিশাল বিমান বন্দরের রানওয়ে স্পর্শ করে। বিমান বন্দরের কর্মীরা অতি দ্রুততার সাথে যাত্রী সহ লাগেজ নামিয়ে ফিরতি ‘বিজিÑ৪৭০’ ফ্লাইটের যাত্রী ও তাদের মালপত্র বিমান-এ তুলে দিলেও ঘড়ির কাটা তখন ৬টা ৪৫-এর কোটায়। শ্রাবনের সন্ধার মেঘলা আকাশ ততক্ষনে বিমান বন্দরের রানওয়ে ও সন্নিহিত এলাকার দিনের আলোকে যথেষ্ঠ ম্লান করে দিয়েছে। তবে এর পরেও বিমান বন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে সুষ্ঠু দিক নির্দেশনা নিয়ে পাইলট অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ট্যাক্সিওয়ে থেকে তার ‘ড্যাস-৮ কিউ-৪০০’ উড়জাহাজটি নিয়ে রানওয়ের ১৭প্রান্তের ডাম্বেলে পৌছেন। সেখানে এয়ারক্রাফটটি ঘুড়িয়ে সরাসরি ৩৬ প্রান্ত দিয়ে টেক অফ করে ঢাকার উদ্দ্যেশে রওয়ানা হন। ঘড়ির কাটা ততক্ষনে ৬টা ৫০অতিক্রম করে।
এভাবেই গতকাল রানওয়ে লাইটিং সুবিধাহীন বরিশাল বিমান বন্দর ছাড়ে রাষ্ট্রীয় বিমান ফ্লাইট। যা ছিল যথেষ্ঠ ঝুঁকিপূর্ণ ও অনেকটাই বধি বহির্ভূত। এসব বিষয়ে গতরাতে বিমান-এর ষ্টেশন ম্যানেজার-এর সেল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে কিছু বলতে না চাইলেও ‘বিমান ফ্লাইট-এর চলাচল নিরাপদ ও নির্বিঘœ ছিল’ বলে জানান হয়।