বর্ষার শেষে জমে উঠছে ঈদ বাজার

জুবায়ের হোসেন॥ আবহাওয়া অনুকূলে আসার সাথে সাথেই ক্রেতাদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে বরিশালের ঈদ বাজার। রিতিমত বেচা বিক্রি নিয়ে ব্যবস্থ হয়ে পড়েছেন বিপনি
বিতানের বিক্রেতারা। দামের দিক থেকে আকাশ চুম্বি হলেও পছন্দের পোকাশ কিনতে ব্যবস্থ হয়ে পড়েছেন ক্রেতারা। সেই সাথে সব শ্রেণীর ক্রেতাদের চাহিদা পূরণে সাধ্যমত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এখানকার ব্যবসায়ীরাও। বিপনি বিতানের সাথে পাল্লা দিয়ে অর্ডার সরবরাহ করছেন দর্জি পাড়ার লোকেরা। ইতোমধ্যে কাজের চাপে নাস্তানাবুথ হয়ে পড়েছেন তারা। তবে সে দিক থেকে প্রযুক্তিগত ভাবে অনেকটা স্বাভাবিক ভাবে বেচা বিক্রি করে যাচ্ছেন অনলাইন শপগুলোর সংশ্লিষ্টরা। সরেজমিনে দেখাগেছে, রোজার শুরুতে বৈরী আবহাওয়া এবং বর্ষার কারনে গৃহবন্ধি হয়ে পড়ে নগরীর মানুষগুলো। তবে আবহাওয়ার পরিবর্তন হওয়ার সাথে সাথে মার্কেট গুলোতে ভির বাড়তে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীরা বর্ষার সময় অলস সময় পাড় করলেও এখন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পাড় করছে। ক্রেতাদের পদচারনার ফলে ইফতার করার সময় পাচ্ছে না ব্যবসায়ীরা। মার্কেটে ব্যবসায়ী এবং ক্রেতাদের সাথে আলাপ করে দেখা গেছে, গতবারের ন্যায় এবার ঈদেও নারী ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় প্রথম কাতারেই রয়েছে ভারতীয় সিরিয়াল এবং নায়িকাদের নামের বিদেশী পোষাকগুলো। আকাশ চুম্বি দাম এবং প্রস্তুতের মজুরি থাকা সত্ত্বেও এ সকল পোষাকেই হুমড়ি খাচ্ছে নগরীর কিশোরী ও তরুনিরা। ক্রেতা তালিকায় তারা প্রথম হলেও পিছিয়ে নেই শিশু-কিশোর ও যুবকরাও। তবে এবার ঈদে স্বনামধন্য বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান গুলোর সাথে পাল্লা দিয়ে বেচাবিক্রি করছে অনলাইন পোষাক বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানগুলো। ঘরে বসে সহজেই পছন্দের পণ্য লাভের সুবিধার কারনেই পছন্দের তালিকায় স্থান পেয়েছে এ সকল অনলাইন শপ গুলো বলে জানান এর ক্রেতারা। এর সাথে আছে ঈদ মৌসুমের ব্যবসায়ীরা। সুলভ মূল্যে পোষাক সরবরাহের ফলে এবার তাদের বেচাবিক্রিও রমরমা। বরিশালের ঈদ বাজার এর সংগৃহীত তথ্যে জানা যায়, প্রতিবারের ন্যায় ভারতীয় নামের নানা পোষাক ও এর উচ্চমূল্যের ক্রেতা হিসেবে এগিয়ে রয়েছে নারী ও শিশুদের হাজার থেকে শুরু করে ১০ হাজার টাকা মূল্যের পোষাকগুলো। ঈদ বাজারে এবার তাদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে ফ্লোর টাচ, কিরনমালা, লং ফ্রক, লং কামিজ, কলিছাট কামিজ, কটকটি ড্রেস, স্টেট ডিভাইডেট পাজামা, প্লাজো, ল্যাগিংস, ওয়ান পিচ, লোনের থ্রি পিচ, চিকেন পাকিস্তানি থ্রি পিচ, সিল্ক কোটি সিস্টেম, ফোর পিচ (পাকিস্তানি ও ইন্ডিয়ান), মাসাক্কালি ইত্যাদি। এ সকল পোষাকের চাহিদা ও দামের বিষয়ে চকবাজার এলাকার তৈরি পোষাক বিক্রেতা মোঃ মিলন জানান, এ সকল পোষাক গুলোই কিনছেন নারী ও শিশুরা। তৈরি পোষাকগুলোর জন্য তারা দিচ্ছে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত। তবে এবার বেশিই চলছে কিরনমালা নামের পোষাকটি। ২-৫ হাজার টাকায় এটি বিক্রি হচ্ছে হরহামেশাই। এছাড়াও অন্যান্যগুলোর চাহিদাও ব্যাপক। বৈরি আবহাওয়ার কারনে বেচাকেনা থমকে ছিল। কিন্তু আবহাওয়া ফিরতেই তা স্বাভাবিক হয়ে গেছে। অন্যদিকে এ সকল পোষাকগুলোই নিজেদের মত তৈরি করতে ভীড় পরছে টেইলার্স গুলোতে। নারীদের পোষাক তৈরিকারী প্রতিষ্ঠান নিউ সাথী টেইলার্স এর সত্ত্বাধিকারী নওরীন হক সাথী জানান, নারীরা পোষাক তৈরির জন্য ইতিমধ্যেই ভীড় করতে শুরু করেছে। এবারের আকর্ষন কিরনমালা পোষাকটি তৈরির জন্য বয়সভেদে তারা মজুরি দিচ্ছে ৫০০টাকা থেকে ১৫০০টাকা পর্যন্ত। এছাড়াও অন্যান্য পোষাকগুলো তৈরির জন্য ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ৩ হাজার টাকা মজুরি নেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ভীড় করতে শুরু করেছে ২০/২২ রমজানের পর তা চরমে পৌছাবে বলেও জানান তিনি। অন্যদিকে এবারের ঈদ বাজারে ক্রেতাদের পছন্দের একটি বড় অংশ দখল করে নিয়েছে অনলাইন শপ ও এতে মিলছে পছন্দসই পোষাকগুলো। তরুন ও যুবকরাই এই অনলাইন শপের প্রধান ক্রেতা। পাঞ্জাবি, টি শার্ট, প্যান্টসহ সব পোষাকই খুব সহজেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক থেকেই এ সকল শপ এর সাজেশন মেলে। অতঃপর তাদের পেইজে গেলেই সব পোষাক এর ছাড় এবং নির্ধারিত মাপ অনুযায়ী পছন্দ করে বায়না করতে হয়। পেইজে দেয়া নাম্বারে ফোন কলের মাধ্যমে এবং মাত্র ১০০ টাকা পাঠানোর খরচের বিনিময়ে পণ্য পৌছে যায় নির্ধারিত ঠিকানায় ক্রেতাদের হাতে। অতঃপর দিতে হয় দাম। সহজ এবং সস্তা এই পদ্ধতিতে এবার ঈদ পোষাক সংগ্রহ করছে যুবক ও তরুন ক্রেতাদের একটি বড় অংশ। ঢাকা ফ্যাশন হাউস বিডি, আজকের ডিল বিডি, বিডি শপস, অনলাইন শপ বিডি, প্রিয় শপ বিডি, মেগা শপ, বিক্রয় ডট কম. ওএলএক্স ইত্যাদি অনলাইন শপ গুলো দখল করেছে ঈদ ক্রেতাদের একটি বড় অংশ। এছাড়াও রয়েছে মৌসুমি ঈদ পোষাক বিক্রেতারা। নারী পুরুষ উভয়ের কিছু পোষাক ব্যক্তিগতভাবে কিনে তা বিক্রি করে এ সকল বিক্রেতারা। তুলনামূলক কম দাম হওয়ায় এসকল মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছেও এবার রয়েছে ক্রেতাদের ভাল ভীড়। গতকাল বৃহস্পতিবার ঈদের পোষাক কিনতে চকবাজারে আসা একাধিক ক্রেতার সাথে আলাপকালে তারা জানান, বিদেশী পোষাকের মান এতই ভাল যে তারা এবার দেশী পোষাকের নামই জানেন না। হাজার হাজার টাকা খরচ করে খুব খুশী মনেই কিনছেন ওই সকল পোষাক। তবে কোন কোন ক্রেতাকে হিমশিম খেতে হয়েছে দাম ও স্বজনদের পছন্দের মাঝামাঝি স্থানে।