বর্ষবরনে উদীচির বর্ন্যাঢ্য আয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ বৈশাখ বরনে প্রভাতী অনুষ্ঠান ও মঙ্গল শোভাযাত্রা সহ নানা আয়োজন করেছে বরিশাল উদীচী। এ উপলক্ষে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে নানা প্রস্তুতি। সাংস্কৃতিক সমন্বয় পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উদীচী বৈশাখ বরনে এসব কর্মসূচী গ্রহন করেছে।
এ উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরীর উত্তর মল্লিক রোডে উদীচী কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রস্তুতি সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।
সাংস্কৃতিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মুরাদ আহম্মেদ এর উপস্থাপনায় প্রস্তুতি সভায় বিষয়বস্তু তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন বাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বরিশাল নাকট’র সংগঠক এ্যাড. মানবেন্দ্র বটব্যাল।
অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সাংস্কৃতিক সমন্বয় পরিষদের সভাপতি শান্তি দাস, সাধারন সম্পাদক মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন’র সভাপতি মন্ডলির সদস্য সৈয়দ দুলাল, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা পঙ্কজ রায় চৌধুরী, শিশু সংগঠক জীবন কৃষ্ণ দে, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নিখিল সেন, বরিশাল প্রেসক্লাব সাধারন সম্পাদক পুলক চ্যাটার্জী, সহ-সাধারন সম্পাদক ও পরিবর্তন সম্পাদক কাজী মিরাজ মাহমুদ, গনফোরাম জেলা সভাপতি হিরন কুমার দাস মিঠু, মানবাধিকার জোট সভাপতি ডা. হাবিবুর রহমান, জাসদ জেলার সভাপতি শহীদুল ইসলাম মিরন, বিএনডিএন’র রনজিৎ দত্ত, অধ্যক্ষ ইমানুল হাকিম, নজরুল ইসলাম চুন্নু, মুকুল দাস, সনাক’র সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন, আ’লীগ নেতা সৈয়দ আনিস, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার কাওসার হোসেন, কমিউনিষ্ট পার্টির সভাপতি এ্যাড. এ.কে আজাদ, শিক্ষক পাপিয়া জেসমিন, শিক্ষক নেতা এমএম আমজাদ হোসাইন প্রমুখ।
প্রস্তুতি সভায় এ্যাড. মানবেন্দ্র বটব্যাল বলেন, বৈশাখ বরন উৎসবে মঙ্গল শোভাযাত্রার স্থান নিয়ে চারুকলা একাডেমি তুমুল বিরোধীতা করেছে। তারা কাউকে কিছু না জানিয়েই একক সিদ্ধান্তে নিজেদের মত করে প্রভাতি অনুষ্ঠান ও মঙ্গল শোভাযাত্রা সহ সকল আয়োজন করেছেন। তার পরেও উদীচী এবং বরিশাল নাটক’র দাবীর প্রেক্ষিতে সংস্কৃতি সমন্বয় পরিষদ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। শোভাযাত্রার স্থান নির্ধারন করেছে সমন্বয় পরিষদ নেতৃবৃন্দ। এতে উদীচী এবং বরিশাল নাটক একাত্মতা প্রকাশ করলেও চারুকলা একাডেমি তাদের সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি। এজন্য উদীচী বৈশাখ বরনে পৃথক ভাবে আয়োজন করেছে।
বৈশাখ বরন কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ১লা বৈশাখ সকালে বিএম স্কুল মাঠে নির্মিত মঞ্চে প্রভাতি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এর পরে অনুষ্ঠিত হবে রাখি বন্ধন অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল আলম। পরবর্তীতে সেকানে অনুষ্ঠিত হবে ঢাক উৎসব। এই উৎসবের উদ্বোধন করবেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শৈবাল কান্তি চৌধুরী। পরবর্তীতে বিএম স্কুল প্রাঙ্গন থেকে এক বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হবে। শোভাযাত্রাটি নগরীর কালিবাড়ি রোড হয়ে, নাজির মহল্লা, স্ব-রোড, সদর রোড প্রদক্ষিণ করে সরকারী বরিশাল কলেজের সামনে এসে শেষ হবে।
মঙ্গল শোভাযাত্রার ব্যানারে কোন সংগঠনের নাম থাকবে না। এর পাশাপাশি শুধুমাত্র উদীচী, বরিশাল নটক, উত্তোরন ও প্রথম আলো বন্ধু সভার কর্মীরা ব্যানার, ফেষ্টু, প্লাকার্ড সহ যাবতীয় উপকরন শোভাযাত্রায় ব্যবহার করা যাবে। এছাড়া অন্যকোন সংগঠনের ব্যানারে কেউ মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ গ্রহন করতে পারবে না বলেও প্রস্তুতি সবায় জানিয়েছেন মানবেন্দ্র বটব্যাল। তিনি বলেন, বৈশাখ উৎসবকে ঘিরে আমরা কোন অপ্রীতিকর ঘটনা দেখতে চাইনা। এটা কোন সংগঠনের নয়, বাঙালিদের উৎসব। তাই তিনি উদীচী ও বরিশাল নাটক আয়োজিত মঙ্গল শোভাযাত্রা সহ বৈশাখ উৎসব সফল করতে সকলের সহযোগিতা ব্যক্ত করেন।