বর্ষনে বিপর্যস্ত নগর জীবন, বন্ধ এমএল টাইপ লঞ্চ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ দিনভর মুষল ধারে বর্ষনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জন জীবন। মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতে গৃহবন্দি হয়ে পড়ে নগরবাসী। যার ফলে সকাল থেকে গতকাল সন্ধ্যা অবধি ব্যস্তময় সদর রোড সহ আশপাশের এলাকাগুলো ছিলো একেবারেই ফাঁকা। অফিস পাড়ায় দেখা যায়নি স্বাভাবিক দিনের ন্যায় সরগরম। নৌ বন্দরে সতর্কতা সংকেত থাকায় চলাচল বন্ধ ছিলো এম এল টাইপের (ছোট) আকারের লঞ্চগুলো।
বরিশাল আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানাগেছে, মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে গতকাল শনিবার। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নগরী এবং এর আশেপাশে ব্যাপক বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক জানান, শনিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১০৮.৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যা চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ। আগামী দু-একদিনে নগরী এবং আশপাশের এলাকায় হালকা বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
আবহাওয়া অফিস সূত্র আরো জানায়, সমুদ্রে লঘুচাঁপের কারনে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তাছাড়া লঘুচাপের ফলে উপকূলীয় অঞ্চলগুলোকে বিশেষ করে সমুদ্র এবং নদী বন্দরগুলোকে সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে সমুদ্র বন্দরে ৩ এবং নদী বন্দরে ২ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। একই সাথে সমুদ্রে মাছধরা এবং যাত্রীবাহী লঞ্চ ও মালবাহী নৌযান চলাচলের প্রতি সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি বরিশাল নদী বন্দরকে দুই নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে এমএল টাইপের (ছোট আকারের) লঞ্চ সতর্ক অবস্থানে সরিয়ে নেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়। যার ফলে এমএল টাইপের কোন লঞ্চ বরিশাল নৌ বন্দর থেকে ছেড়ে যায়নি বলে জানিয়েছেন বন্দর কর্মকর্তা।
এদিকে  শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত মুষল ধারে বর্ষনের ফলে নগরীর রাস্তা ঘাট, অফিস-আদালতে লোকজনের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। বৃষ্টিতে গৃহবন্দি হয়ে পড়ে নগরবাসী। প্রয়োজন ছাড়া কাউকে দেখা যায়নি রাস্তায় বের হতে। যাত্রীবিহীন চরম ভোগান্তিতে দিন অতিবাহীত করেছে নগরীর গাড়ী চালকরা। কর্মস্থলে যোগ দিতে পারেনি অফিস পাড়ার কর্মকর্তা কর্মচারী এবং দিনমজুররা। বৃষ্টিতে গৃহবন্দী হয়ে ক্লাশে যোগ দিতে পারেনি স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে দেখাগেছে, নগরীর সদর রোড, বটতলা, নতুনবাজার, লঞ্চঘাট, নথুল্লাবাদ, রূপাতলী বাস টার্মিনালসহ আশপাশের ব্যস্ততম সড়ক গুলো ছিল অনেকটা ফাঁকা। হাট-বাজারে ক্রেতা শূণ্য থাকায় অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই ছিলো বন্ধ। অন্যদিকে নগরীর বেশ কিছু এলাকার রাস্তায় বৃষ্টি পানিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তবে সন্ধ্যায় বৃষ্টি কমে যাওয়ার সাথে সাথে ড্রেনের মাধ্যমে জমে থাকা পানি নেমে যায়।
অপরদিকে বৃষ্টিতে সাধারন জনজীবন বিপর্যয়ের মুখে পড়লেও বৃষ্টিকে পুজি করে অতিরিক্ত মুনাফা হাতিয়ে নিয়েছে গণপরিবহনের শ্রমিকরা। রাস্তায় কিংবা অফিস পাড়ায় আটকে থাকা মানুষদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে নেয় বলে অভিযোগ করেন তারা।