বর্ষণ ও ঝড়ে চরমোনাইর মাহফিলের প্যান্ডেলসহ বাড়ি, ঘর, মসজিদ ও গাছ-পালা ক্ষতিগ্রস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ হঠাৎ প্রবল বর্ষণ ও ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দক্ষিণের বিভিন্ন জনপদ। বাড়ি, ঘর, মসজিদ ও গাছ-পালার পাশাপাশি লন্ড-ভন্ড হয়েছে চরমোনাইর বার্ষরিক ওয়াজ মাহফিলের প্যান্ডেল। বয়ান শুনতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লাখ লাখ মানুষের সমাগম ঘটলেও গতকাল অর্ধেকের বেশি মুসুল্লীদের চরমোনাই’র ময়দান ত্যাগ করতে দেখা গেছে।
বরিশাল আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ অবজারভার মো. ইউসুফ হোসেন জানিয়েছেন, গতকাল বুধবার ভোর ৫টায় হঠাৎ করেই বজ্রসহ ভাড়ি বর্ষণ ও ঝড়ো হাওয়া বইতে শুরু করে। সকাল ৯টা পর্যন্ত বজ্র বৃষ্টির পাশাপাশি শীলা বৃষ্টি হয়। মৌসুমের শুরুতে প্রথম দিনেই ১৪ দশমিক ৭ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সেই সাথে ঘন্টায় ৬৫ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যায়।
এদিকে তিন ঘন্টার টানা বর্ষণে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এমনকি বজ্রপাতে এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে বলেও সূত্র নিশ্চিত করেছে। মৃত্যু হওয়া দিনমজুর আব্বাস মীর (৩৫) পটুয়াখালীর বউফল উপজেলার তাঁতেরকাঠি গ্রামের আলী আহমেদের ছেলে। একই উপজেলার বাকলা গ্রামে তার মৃত্যু হয় বলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি নিশ্চিত করেছেন।
অপরদিকে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ, বরিশাল’র প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মু. কাওসারুল ইসলাম জানান, গতকাল বুধবার থেকে ৩ দিন ব্যাপী বার্ষরিক ওয়াজ মাহফিল শুরুর কথা ছিলো। কিন্তু গতকাল সকাল থেকে ভড়ি বর্ষণে মাহফিলের ময়দানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ময়দানের চারপাশে প্রায় হাটু সমান পানি জমেছে। কাদা পানিতে একাকার হয়ে আছে মাঠ। যে কারণে অনেক মুসুল্লী অবস্থান করার জায়গা না পেয়ে ফিরে গেছে। তবে তার মধ্যেও গতকাল মাহফিলের বয়নায় শুরু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।
এদিকে মাহফিলে এসে বাড়ির উদ্দেশে ফিরে যাওয়া বহু মুসুল্লী জানান, বর্ষা ও কর্দমক্ত মাহফিলের ময়দানে বসা তো দূরের কথা দাড়াবার জায়গা নেই। বৃষ্টির মধ্যে মুসুল্লীদের বৃষ্টির পানিতে ভিজতে হয়েছে। মাঠের চারপাশে পানি জমে যাওয়ায় ওজু গোসল এমনকি মল-মূত্র ত্যাগ করার জায়গাও পায়নি মুসুল্লীরা। মাহফিল আয়োজকদের পক্ষ থেকে জমে থাকা পানি সেচ কিংবা মল-মূত্র ত্যাগের জন্য কোন ব্যবস্থা করা হয়নি। যে কারণে বাধ্য হয়ে কর্দমক্ত অবস্থায় মাহফিলের বয়ান না শুনে বাড়ির উদ্দেশে ফিরে যাচ্ছেন বলেও মুসুল্লীরা জানিয়েছেন।
এদিকে বরিশাল ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, তিন ঘন্টার ভাড়ি বর্ষণের কারণে বরিশালের বিভিন্ন স্থানে বিশাল আকারের গাছ ঝড়ের তোড়ে ভেঙ্গে পড়েছে। রাস্তার উপরে বিদ্যুৎ এর খুটি, বিলবোর্ড ভেঙ্গে পড়ায় বেশ কিছু জনপদে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিলো। এমনকি বৈদ্যুতিক খাম্বা ভেঙ্গে পড়ার পাশাপাশি বৈদ্যুতিক তাড় ছিড়ে যাওয়ায় বণ্যা শুরুর পর থেকে গতকাল দুপুর তিনটা পর্যন্ত বরিশাল নগরী সহ আশেপাশের কোন ফিডারেই বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া সম্ভব হয়নি। যে কারণে দিনের বেলায় অন্ধকারে থাকতে হয়েছে গ্রাহকদের।
সরেজমিনে দেখাগেছে, বরিশাল নগরী সহ সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কম বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে নগরীর পলাশপুর গুচ্ছগ্রাম এলাকায়। পাশাপাশি সদর উপজেলার কনণকাঠি, রূপাতলী, দপদপিয়া, ভাটিখানা, কাউনিয়া, জাগুয়া, হরিনাফুলিয়া ও সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নে বেশ কিছু গাছ এবং ডাল পালা ভেঙ্গে রাস্তায় আটকে যায়। এতে যানবাহনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। তাছাড়া নগরীর ভাটিখানার চন্দ্রপাড়া এলাকায় একটি মসজিদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রচন্ড ঝড়ো হাওয়ায় মসজিদের একটি পিলার ভেঙ্গে গেছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা নিশ্চিত করেছেন। তাছাড়া বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে দেখাগেছে নি¤œাঞ্চলগুলোতে। সকাল ৯টার পরে বৃষ্টির পরিমান অনেকটা কমে যায়। তবে আকাশে সূর্যের আলো দেখা যায়নি। দুপুর একটার দিকে পুনরায় হালকা বৃষ্টি হলে জনশূন্য হয়ে পড়ে রাজপথ। অফিস আদালতে ছাপ পড়ে অলসতার। প্রায় দেড় ঘন্টা পর ঝিড়ি ঝিড়ি বৃষ্টি কমে গেলে আকাশে হালকা রোদের আলো ফুটলেও তা বেশিক্ষন স্থায়ী হয়নি বলেও আবহাওয়া অফিস সূত্র নিশ্চিত করেছে। এছাড়াও অভ্যন্তরীন রুটের ৬৫ ফুটের নিচে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রেখেছে বিআইডব্লিউটিএ। বুধবার বেলা ১২ টার পর চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়া হয় বলে বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের উপ-পরিচালক আবুল বাশার মজুমদার জানিয়েছেন।