বরিশাল সিটি নির্বাচনে কে পাচ্ছেন বিএনপির মনোনয়ন?

রুবেল খান ॥ ঘনিয়ে আসছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। মাত্র ১৪ মাস পরেই ২০১৮ সালে বাজবে নির্বাচনের ঘন্টা। তাই মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারাও। বিভিন্ন ভাবে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে জানান দিয়ে দলীয় মনোনয়ন পেতে লবিং তদবির চালাচ্ছেন দলের নীতি-নির্ধারনী মহলে। বিশেষ করে সংসদের বাইরে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশীদের লাইন দীর্ঘ হচ্ছে। হেভিওয়েট থেকে শুরু করে তৃনমুল নেতারা সিটি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। এবারের নির্বাচন দলীয় প্রতীকেই হবে। তাই দলীয় মনোনয়নের প্রতিই গুরুত্ব দিচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তবে কে পাচ্ছেন বিএনপির মনোনয়ন তাই নিয়ে নেতাকর্মী এবং চায়ের দোকানে আলোচনা ক্রমশই বাড়ছে। বিশেষ করে নতুন প্রার্থী হিসেবে বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন এবং এবায়দুল হক চান’র সরব উপস্থিতি নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
সূত্রমতে, পূর্বের হিসাব অনুযায়ী ভোটের রাজনীতি বরাবরই এগিয়ে থাকছে বিএনপি। যে কারনে বরিশালকে বিএনপি’র দুর্গ বলেও আখ্যায়িত করছেন নেতারা। কেননা ২০১৩ সালের ১৫ই জুন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হেভীওয়েট নেতা আধুনিক নগরীর রূপকার খ্যাত শওকত হোসেন হিরন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। কিন্তু সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে প্রায় ১৮ হাজার ভোটে তাকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন বিএনপি’র সমর্থন নিয়ে নির্বাচন করা আহসান হাবিব কামাল। তবে এ বিজয় কোন ব্যক্তি নয়, বরং দলের বিজয় বলে আখ্যায়িত করছেন সংশ্লিষ্টরা। ঠিক তেমনি করে আগামী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও বিজয় বিএনপি’র অনুকুলে রাখাটাই মূল লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন নীতি নির্ধারনী মহল।
এদিকে সিটি নির্বাচনের এক বছরের বেশি সময় বাকি থাকলেও ইতোমধ্যেই প্রার্থীতা নিয়ে দলের মধ্যে শুরু হয়েছে আলোচনা। কে পাবেন বিএনপি’র মনোনয়ন সে নিয়ে আলোচনার ঝড় শুরু হয়েছে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এবং দলের মনোনয়ন পেতে প্রার্থী হিসেবে ঘোষনা দিচ্ছে তারা। এর মধ্যে রয়েছে বরিশাল সিটি’র প্রথম মেয়র, বিএনপি’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও মহানগর শাখার সভাপতি এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ার, কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সভাপতি এবায়দুল হক চান, বর্তমান মেয়র মো. আহসান হাবিব কামাল, দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি সরদার সারফুদ্দিন আহম্মেদ সান্টু’র নাম।
মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় জ্যেষ্ঠ নেতাদের বাইরে তৃনমুল নেতাদের নামও শোনা যাচ্ছে। এদের মধ্যে রয়েছেন মহানগর বিএনপি’র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব কেএম শহিদুল্লাহ, ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক জিয়া উদ্দিন সিকদার, যুবদল নেতা আক্তারুজ্জামান শামীম, মহানগর বিএনপি’র ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন সহ বেশ কয়েকজন। তবে তৃনমুল নেতাদের মনোনয়নের বিষয়টি পরিস্থিতি’র উপর নির্ভর করছে বলে মনে করছেন দলীয় নেতারা। তবে নিজেদের প্রার্থী হওয়ার আলোচনার বিষয়টি অনেকটাই নিশ্চিত করেছেন জ্যেষ্ঠ নেতারা। দল চাইলে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলেও জানিয়েছেন তারা।
এ প্রসঙ্গে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এবং বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মেয়র আলহাজ্ব এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, এই মুহুর্তে বিএনপি’র প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীনে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য আন্দোলনের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন তারা। সিটি নির্বাচনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় এই নেতা বলেন, আপাতত সিটি নির্বাচন করার কোন ইচ্ছে আমার নেই। তার পরেও যদি দল চায় তাহলে নির্বাচন করব। তাছাড়া অন্য কেউ প্রার্থী হতে চাইলে তাও দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তেই হবে।
বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. বিলকিছ আক্তার জাহান শিরিন বলেন, তৃনমুল নেতা-কর্মীরা চায়, আমি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী হই। তারা মনে করছেন আমার কাছেই ধানের শীষ নিরাপদ। তাই তৃনমুল নেতা-কর্মীদের দাবী মানতেই আমি সিটি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চাইবো। বাকিটা হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের উভর নির্ভর করছে।
বর্তমান মেয়র মো. আহসান হাবিব কামাল বলেন, ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত বর্তমান সিটি পরিষদের মেয়াদ রয়েছে। সে অনুযায়ী নির্বাচনের বাকি এখনো এক বছরের বেশি সময়। তাই নির্বাচনে পুনরায় প্রার্থী হব কিনা সে বিষয়টি নিয়ে এখনই কিছু ভাবছি না। তবে দল চাইলে আমি পুনরায় নির্বাচন করতে পারি। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদককে এমন কথা জানালেও অনেক আগেই তিনি ২০১৮ সালে বিসিসি’র নির্বাচনের প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করেছেন। তবে অনেকে বলছেন, আহসান হাবিব কামাল নির্বাচনে না এলে বিএনপি’র হয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে দলের মনোনয়ন চাইবেন তার পুত্র কামরুল আহসান রুপম।
প্রার্থী হতে দলের মনোনয়ন চাইবেন বলে নিশ্চিত করেছেন বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সভাপতি আলহাজ্ব এবায়দুল হক চান। ২০১৩ সালের নির্বাচনে শেষ সময় নিজের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে জেলা বিএনপি’র সভাপতি পদ লাভ করা এবায়দুল হক চান বলেন, যেহেতু এবারের নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে, তাই বিএনপি নির্বাচনে যাবে। আর না গেলে কোন কথা নেই। তবে নির্বাচনে গেলে আমি মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন চাইবো। বরিশাল সিটিতে দলের অস্তিত্ব এবং নেতা-কর্মীদের স্বার্থে তিনি মনোনয়ন চাইবেন।
এদিকে তৃনমুল পর্যায়ের নেতা মহানগর বিএনপি’র ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও ছাত্রদলের মহানগর শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন বলেন, নেতা-কর্মীরা যাচ্ছেন আমি বিসিসি নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি। তাদের কথা রাখতেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে আমি দলের বাইরে নই। তাই দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাব না। দলের কাছে মনোনয়ন চাইবো। দলযদি মনে করে তরুন নেতৃত্বের হাতে মনোয়ন তুলে দিবে তাহলে দলের ভামমূর্তি রক্ষায় সেভাবেই কাজ করার আশা রয়েছে।