বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে আবেদন ফরমের গলাকাটা ফি নির্ধারন

রুবেল খান ॥ বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে বিভিন্ন আবেদন ফরমের গলাকাটা ফি নির্ধারন করা হয়েছে। কর্পোরেশনের কার্যনির্বাহী পরিষদের কিছু অংশের বিরোধীতা সত্ত্বেও আবেদন ফরমের মূল্য কয়েক গুন বৃদ্ধি’র সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এমনকি আগামী অর্থ বছর অর্থাৎ ১লা জুলাই থেকেই কার্যকর হচ্ছে এই ফি। এতে করে সুবিধা ভোগীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্রমতে, বরিশাল সিটি কর্পোরেশন থেকে বিভিন্ন নাগরিক সেবা পেয়ে থাকে নগরবাসী। যার মধ্যে রয়েছে বাড়ি বা স্থাপনা নির্মাণে প্লান, পানি সরবরাহ, ঠিকাদারী বা ট্রেড লাইসেন্স ও স্টল বরাদ্দ সহ বিবিধ সেবা।
তবে এসব সেবা পেতে হলে সবার আগে প্রয়োজন হয় আবেদন ফরমের। যা সিটি কর্পোরেশন থেকেই নির্ধারিত মূল্যে ক্রয় করতে হয় সেবা গ্রহীতাদের। তবে এই আবেদন ফরমের মূল্য ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বরিশাল সিটি কর্পোরেশন হওয়ার পর এ পর্যন্ত তিন ধাপে বাড়ানো হয়েছে আবেদন ফরমের মূল্য। অবশ্য ইতিপূর্বে দ্বিতীয় ধাপে বৃদ্ধি হওয়া ফরমের মূল্য কিছুটা হলেও সহনশীলতার মধ্যে রাখা হয়েছিলো। কিন্তু তৃতীয় ধাপে বৃদ্ধি করা আবেদন ফরমের মূল্য সাধারণ নগরবাসীর নাগালের বাইরে চলে গেছে। কেননা প্রতিটি ফরমে দ্বিগুন থেকে ৯ গুন পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। তার মধ্যে মূল্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বৈষম্যের সৃষ্টির অভিযোগতো রয়েছেই।
বিসিসি’র জনসংযোগ শাখা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৪টি বিষয়ে আবেদন ফরমের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর মধ্যে ট্রেড লাইসেন্স আবেদন ফরমের মূল্য ছিলো একশত টাকা। কিন্তু এর মূল্য চারগুন বৃদ্ধি করে নির্ধারন করা হয়েছে ৫শ টাকা। কর ধার্যের আপিল ফরমের মূল্য ১শ টাকার পরিবর্তে ৫শ টাকা করা হয়েছে।
এছাড়া জামানত ফেরত আবেদন ২শ টাকার পরিবর্তে ৫শ, কাজের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন ফরম ২শ টাকার পরিবর্তে ৫শ টাকা, প্লান দাখিলের আবেদন ফরম ৫শ’র পরিবর্তে ১ হাজার টাকা, পানি সরবরাহের আবেদন ফরম ২শ থেকে ৫শ টাকা, স্টলের নামপত্তনের আবেদন ফরম ৩শ থেকে ৫শ টাকা, স্টল হস্তান্তর ফরম ৩শ থেকে ৫শ টাকা, ঠিকাদারী লাইসেন্স ফরম ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা এবং রিক্সা চালক লাইসেন্সের আবেদন ফরম ১০ টাকা থেকে ৯ গুন বৃদ্ধি করে ১০০ টাকা করা হয়েছে। এ রকম প্রতিটি আবেদন পত্রেরই মূল্য কয়েকগুন বৃদ্ধি করেছে বর্তমান সিটি পরিষদ।
বিসিসি’র জনসংযোগ কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বলেন, গত ৩০ মার্চ বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের তৃতীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের ৮ম সাধারণ সভায় আবেদন ফরমের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পরিষদের সকল সদস্যদের একক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১লা জুলাই থেকে আবেদন ফরমের বর্ধিত মূল্য বাস্তবায়ন হবে।
এদিকে সিটি’র বর্তমান কার্যনির্বাহী পরিষদের বেশ কয়েকজন সদস্য জানিয়েছেন, আবেদন ফরম বৃদ্ধির এমন সিদ্ধান্তের অনেকেই বিরোধীতা করেছেন। যার মধ্যে মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন বিসিসি’র কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান টিপু এবং আকতারুজ্জামান হিরু। কিন্তু এরা আপত্তি তোলা সত্ত্বেও প্যানেল মেয়র-২ মোশারেফ আলী খান বাদশা সহ বেশ কয়েকজন কাউন্সিলরের অতি উৎসাহের কারণে পরিষদ মূল্য বৃদ্ধিতে বাধ্য হয়।
তবে হঠাৎ করে মূল্য বৃদ্ধির কারণে হতাশাগ্রস্ত হয়েছেন নগরীর সেবা গ্রহীতারা। বিশেষ করে নগরীর বর্ধিত অঞ্চল এবং খেটে খাওয়া দিন মজুরদের জন্য আবেদন ফরমের বর্ধিত মূল্য গলার কাটা হয়ে দাড়িয়েছে। কেননা নগরীর বর্ধিত এলাকার অনেক হোল্ডিং গ্রাহকরা দেড় থেকে ২শ টাকা কর দিয়ে থাকছেন। তাদের বর্ধিত কর কমাতে হলে ৫শ টাকা দিয়ে কিনতে হবে ফরম। অবশ্য ঠিকাদারী লাইসেন্স নবায়ন কিংবা আবেদন ফরমের মূল্য বৃদ্ধি তেমন প্রভাব ফেলবে না বলে দাবী সংশ্লিষ্টদের। তবে আবেদন ফরমের মূল্য বৃদ্ধির যে সিদ্ধান্ত তা নগর উন্নয়ন এবং আয় বৃদ্ধির জন্য নেয়া হয়েছে বলে দাবী সিটি পরিষদের সদস্যদের।