বরিশাল শিক্ষাবোর্ডে বেড়েছে পাসের হার ॥ কমেছে জিপিএ-৫

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার বেড়েছে। ২০১৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফলে পাসের হার ৭০ দশমিক ১৩ ভাগ। গত বছর এর হার ছিলো ৭০ দশমিক ০৬ ভাগ। সে অনুযায়ী এ বছর দশমিক ৭ ভাগ বেড়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় কমেছে জিপিএ-৫ এর সংখ্যা। গত বছরের তুলনায় এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অর্ধেকের বেশি জিপিএ-৫ এর সংখ্যা কমে গেছে।
এদিকে বরিশাল বোর্ডের অধিনে পরীক্ষা দেয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে বরাবরের মতই পাসের হারে এগিয়ে আছে মেয়েরা। তবে জিপিএ-৫ এর দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে ছেলেরা। তাছাড়া জেলা ভিত্তিক পিরোজপুর জেলা পাসের হারে এগিয়ে থাকলেও জিপিএ-৫ এর দিক থেকে এগিয়ে আছে বরিশাল জেলা।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সভা কক্ষে আয়োজিত ফলাফল ঘোষণা অনুষ্ঠানে বোর্ডের সচিব আব্দুল মোতালেব হাওলাদার সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, এবছর বাংলা আবশ্যিকে নতুন সিলেবাসে পরীক্ষা হওয়ায় এর কিছুটা প্রভাব পরীক্ষার্থীদের উপর পড়েছে। তাছাড়া পূর্বের সৃজনশীল পদ্ধতির সঙ্গে এ বছর নতুন করে যুক্তিবিদ্যা, অর্থনীতি ও আইসিটি শিক্ষায় সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। যে কারণে পরীক্ষায় পাস করা সহজ হলেও ভালো মানের পাস করাটা কঠিন হয়ে দাড়ায়। তবে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা একটু মনযোগী হলে আগামীতে ফলাফল আরো ভালো হবে।
তথ্য প্রকাশ করে বোর্ড সচিব আব্দুল মোতালেব হাওলাদার বলেন, এ বছর বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধিনে ৩ শত ১৫টি কলেজ ১ শত ৯ টি সেন্টারে ৬২ হাজার ৬ শত ৭২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশগ্রহণ করে ৬১ হাজার ৫ শত ৩৮ জন। এদের মধ্যে পাস করেছে ৪৩ হাজার ১৫৭ জন। যার মধ্যে মেয়ে ২১ হাজার ৯০৭ জন ও ছেলে ২১ হাজার ২৫০ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭ শত ৮৭ জন শিক্ষার্থী। যা গত বছরের তুলনায় ৫৩২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ কম পেয়েছে। গত বছর বরিশাল বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছিলো এক হাজার ৩১৯ জন শিক্ষার্থী। তাছাড়া গড় পাসের হার ছিল মেয়ে ৭২ দশমিক ৩৮ এবং ছেলে ৬৮ দশমিক ৯৭। যে কারণে এবারেও গড় পাসের ফলাফলের দিক থেকে মেয়েরাই এগিয়ে আছে।
এদিকে গত বছরের ন্যায় এ বছরও পরীক্ষার ফলাফল অর্থাৎ পাসের দিক থেকে এগিয়ে আছে মেয়েরা। তবে আনুপাতিক হারে মেয়েদের থেকে জিপিএ-৫ এ এগিয়ে আছে ছেলেরা। বরিশাল বোর্ডের অধিনে ২৯ হাজার ৮ শত ৫৯ জন মেয়ে পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশগ্রহণ করে ২৯ হাজার ৩ শত ৫৭ জন। এদের মধ্যে পাস করেছে ২১ হাজার ৯ শত ০৭ জন। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৭১ জন। শতকরা পাসের হার ৭২ দশমিক ৩৮।
অপরদিকে ৩২ হাজার ৮ শত ১৩ জন ছেলে পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৩২ হাজার ১৮১ জন শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে পাস করেছে ২১ হাজার ২৫০ জন। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪১৬ জন। ছেলেদের শতকরা পাসের হার ৬৮ দশমিক ০৭ ভাগ।
মোট জিপিএ-৫ এর মধ্যে বেশি পেয়েছে বিজ্ঞান বিভাগের ৫৫৪ জন শিক্ষার্থী। এরপরে ব্যবসায় শিক্ষায় ১১৯ জন এবং মানবিকে ১১৪ জন।
অপরদিকে ২০১৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে শত ভাগ ফেল নেই। তবে শতভাগ পাসের দিক থেকে এগিয়ে আছে দুটি কলেজ। এর মধ্যে বরিশাল ক্যাডেট কলেজ থেকে ৫৪ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সবাই জিপিএ-৫ পেয়ে সাফল্যের সাথে পাস করেছে। এছাড়া পটুয়াখালীর দশমিনা ধুলিয়া আউলিয়াপুর মডেল স্কুল এন্ড কলেজের ৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৬ জনই পাস করেছে।
বরিশাল শিক্ষাবোর্ডের মোট ১০৯টি কেন্দ্রে ২৫ জন ছেলে ও ৭ জন মেয়ে পরীক্ষার্থীসহ ৩২ জন বহিস্কার হয়েছে।
এদিকে গড় পাসের হারের দিক থেকে জেলা অনুপাতে এগিয়ে আছে পিরোজপুর জেলা। দ্বিতীয় স্থানে আছে ভোলা জেলা। তৃতীয় স্থানে পটুয়াখালী, চতুর্থ স্থানে বরিশাল, পঞ্চম স্থানে ঝালকাঠি এবং ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে বরগুনা জেলা।
ফলাফলের বিষয়ে বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মু. শাহ আলমগীর বলেন, বরিশাল বোর্ডে পাসের হার বেড়েছে এটা যেমন সত্যি তেমনি জিপিএ-৫ এর সংখ্যাও কমেছে। এজন্য শিক্ষার্থীদের দোষ দিলেই হবে না। কোন কোন বিষয়ে পরীক্ষার পদ্ধতিতেও কিছুটা সমস্যায় পড়তে হয়েছে শিক্ষার্থীদের। তবে আগামীতে এই সমস্যা আর থাকবে না। এজন্য শিক্ষার্থীদের লেখা পড়ার প্রতি আরো মনযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে অভিভাবকদেরকেও তাদের সন্তানদের প্রতি আরো মনযোগী হওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।