বরিশাল মুক্ত দিবস পালন

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ আট ডিসেম্বর বরিশাল মুক্ত দিবস উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় বরিশাল জেলা ও নগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে এই শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। নগরীর বগুড়া রোড মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্সের সামনে থেকে বের হওয়া আনন্দ শোভাযাত্রা প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রায় মুক্তিযুদ্ধকালীন পুলিশের এসপি মাহাবুব উদ্দিন আহমেদ-বীর বিক্রম, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার শেখ মো. কুতুব উদ্দিন, মহানগর কমান্ডার মোখলেচুর রহমান, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাড. গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. একেএম জাহাঙ্গীর, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, মুক্তিযোদ্ধা এমজি কবির বুলু, শাহজাহান হাওলাদার প্রমুখ। আনন্দ শোভাযাত্রা পূর্বে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, দীর্ঘ এক মাস বরিশাল মুক্ত রাখার পর ২৫ এপ্রিল জলে ও স্থল পথে হামলা চালিয়ে বরিশালে পাকিস্তানী সেনাদের উপস্থিতি ঘটে। এরা ওয়াপদায় ক্যাম্প করে অবস্থান নেয়। মুক্তিযোদ্ধাসহ শত শত নিরীহ মানুষকে হত্যা করে লাশ মাটি চাপা বা কীর্তনখোলা নদীতে ভাসিয়ে দিতো। আর আজ ৮ ডিসেম্বর পাকিস্তানী সেনারা তাদের পরাজয় নিশ্চিত জেনে কারফিউ জারি করে বরিশাল নগরী ছেড়ে পালিয়ে যায়। কাছাকাছি থাকা মুক্তিযোদ্ধারা বিজয় উল্লাস করে নগরীতে প্রবেশ করে। তাদের সাথে মুক্তিকামী জনতা একাত্মতা প্রকাশ করে মুক্তির আনন্দে মেতে ওঠে। এছাড়া বরিশাল মুক্ত দিবস উপলক্ষে আনন্দ র‌্যালী করেছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড বরিশাল জেলা ও মহানগর। মিছিলটি সদর রোডের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।প্রসঙ্গতঃ ১৯৭১ সালের এদিনে পাক হানাদারদের কবল থেকে বরিশাল মুক্ত হয়েছিলো। ‘জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু’ শ্লোগানে দিয়ে সেদিন মুক্তিযোদ্ধারা আকাশ-বাতাশ মুখরিত করেছিলো। ‘৭১ এর ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বরিশাল ছিল শত্রুমুক্ত। ১৭ এপ্রিল পাক বাহিনী আকাশ পথে বরিশাল ও পটুয়াখালীতে হামলা চালায়। দ্বিতীয় দফা হামলা চালায় ২৭ এপ্রিল জল, স্থল ও আকাশপথে। বরিশাল শত্রুকবলিত হওয়ার আগেই সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠা হয়েছিলো স্বাধীন বাংলা সরকারের অস্থায়ী সচিবালয়। আওয়ামীলীগ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সবাইকে নিয়ে এ সচিবালয় গঠিত হয়। এ ঘাটি থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র ও অর্থ সরবরাহ করা হতো। মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করে ভারতে প্রশিক্ষণ নিতে পাঠানোর কাজও হতো এ সচিবালায় থেকে। ৮ ডিসেম্বর দুপুরে পাকসেনা অফিসাররা গানবোট, লঞ্চ, স্টীমারে বরিশাল থেকে গোপণে পালিয়ে যায়। তবে পাক কর্মকর্তাদের এ গোপণে পালানোর খবরটি জানাজানি হয়ে যায়। ভারতীয় বিমান বাহিনী দুপুর ২টায় বরিশালে হামলা চালায়। পাকিস্তানী দখলদারদের পালিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে বিকেল ৩টায় বরিশাল অদুরে অবস্থানরত সুলতান মাষ্টার ও আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বাধীন মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল প্রবেশ করে শহরের নিয়ন্ত্রন গ্রহন করেন।