ববি শিক্ষক সমিতির সভাপতি সহ ৪ জনের পদত্যাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আরিফ হোসেনসহ ৪ জন কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্ণকাঠী ক্যাম্পাসে এই ঘটনা ঘটে। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ পত্র জমা দিলেও শিক্ষকদের মাঝে হাতাহাতি এবং শিক্ষক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি থেকে পদত্যাগকারী অন্যান্য শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন সহ-সভাপতি এবং অর্থনীতি বিভাগের সহকারি অধ্যাপক জ্যোর্তিময় বিশ্বাস, কার্যনির্বাহী সদস্য লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আসীম কুমার নন্দি ও হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক সুজন চন্দ্র পাল।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি শফিউল আলম জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় একাডেমিক ভবনের পঞ্চম তলায় শিক্ষক সমিতির এক জরুরী সাধারণ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে কালো ব্যাজ ধারন ও শোক দিবসের কর্মসূচী গ্রহণ না করায় বিষয় নিয়ে সদস্যরা ক্ষিপ্ত হন। এসময় তারা কর্মসূচী গ্রহণ না করার কারণ জানতে চান সমিতির সভাপতি ও ইংরেজি বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মো. আরিফ হোসেন এর নিকট। এ নিয়ে সাধারণ সদস্য ও সভাপতি সহ কয়েকজন কার্যনির্বাহী সদস্যদের মাঝে কথা কাটাকাটি হয়। এসময় শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আরিফ হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সহ অন্যান্য শিক্ষকদের নিয়ে কটুক্তি করেন। এক পর্যায়ে সমিতির সভাপতি মো. আরিফ হোসেন সভাপতির চেয়ার ছেড়ে উঠে এসে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আবির হোসেনকে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করে।
শফিউল আলম বলেন, এই ঘটনার পর পরই সমিতির সকল শিক্ষকরা ক্ষুব্ধ হয়ে সভাপতি মো. আরিফ হোসেন সহ সাধারণ সভায় উপস্থিত চার কার্যকরী কমিটির সদস্য’র পদত্যাগ দাবী করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিকাল ৫টার দিকে চাপের মুখে শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আরিফ হোসেন, সহ-সভাপতি জ্যোর্তিময় বিশ্বাস, কার্যনির্বাহী সদস্য আসীম কুমার নন্দি ও সুজন চন্দ্র পাল বিজ্ঞান বিভাগের ডিন হাসিনুর রহমান এর নিকট তাদের পদত্যাগ পত্র জমা দেন।
সাবেক সভাপতি শফিউল আলম বলেন, পদত্যাগকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আরিফ হোসেন নেতৃত্বের দিক থেকে সম্পূর্ণ অযোগ্য। এমনকি তিনি শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে অযোগ্য হওয়ার পরেও ইংরেজি বিভাগের সহকারি অধ্যাপক হয়েছে। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবেও অযোগ্য বিধায় সকল শিক্ষকরা তার পদত্যাগ দাবী করেছেন বলে জানিয়েছেন কমিটির সাবেক সভাপতি।
এ প্রসঙ্গে পদত্যাগকারী সভাপতি মো. আরিফ হোসেন বলেন, গবেষণা কার্যক্রমে মনোনিবেশ করার জন্য ব্যক্তিগত কারণে তিনি পদত্যাগ করেছেন। সহ-সভাপতি এবং অপর দুই কার্যনির্বাহী সদস্য একই কারণে পৃথক পৃথক ভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলেও দাবী জানিয়েছেন তিনি। তবে শিক্ষকদের মধ্যে হাতাহাতির এবং লাঞ্ছিত হওয়ার বিষয়ে কোন তথ্য প্রকাশ করতে অপারগতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সাধারণ সভায় উচ্চ স্বরে কথা এবং কথা কাটাকাটি হওয়াটা অস্বাভাবিক কোন বিষয় নয়।
অবশ্য একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সাধারণ সভা চলাকালে শোক দিবস পালনের কর্মসূচী গ্রহণের বিষয় নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে মার্কেটিং বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মো. আব্দুল কাউয়ুম শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও ইংরেজী বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মো. আরিফ হোসেনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। এ জন্য তিনি সহ চারজন পদত্যাগ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এসএম ইমানুল হক এর সঙ্গে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে পদত্যাগপত্র গ্রহণকারী বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. হাসিনুর রহমান বলেন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি সহ চারজন ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এর বাইরে কোন বিষয় থাকলেও তা পদত্যাগ পত্রে উল্লেখ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন চলতি পরিষদের শিক্ষক নেতৃবৃন্দ। তাদের দায়িত্ব গ্রহণের ৭ মাসের ব্যবধানে পদত্যাগ করেছেন সমিতির সভাপতি ও সহ-সভাপতি সহ চারজন। এর পূর্বে নতুন পরিষদ দায়িত্ব গ্রহণের ৩ মাসের ব্যবধানে সমিতির সাধারণ সম্পাদক সহ আরো চার জন সমিতি কার্যকরী পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। মাত্র সাত মাসের মাথায় শিক্ষক সমিতি থেকে পর পর ৮ জনের পদত্যাগের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সহ সংশ্লিষ্টদের মাঝে আলোচনার ঝড় তুলেছে। পদত্যাগের পেছনে শিক্ষক সমিতির অপর অংশের ষড়যন্ত্র এবং স্বেচ্ছাচারীতা থাকতে পারে বলেও মনে করছেন তারা।