বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোচিত নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচিত সেই ৪২ পদের লোকবল নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রার মনিরুল ইসলাম বলেন, অনিবার্য কারন উল্লেখ করে গত ২৬ সেপ্টেম্বর কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ পাঠিয়েছে মন্ত্রনালয় তবে বিশ্বদ্যিালয় সিন্ডিকেট কমিটির কয়েকজন সদস্য জানিয়েছে, সিন্ডিকেট কমিটিকে এড়িয়ে উপাচার্য নিজ ক্ষমতা বলে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা এবং অনিয়মতান্ত্রিকভাবে মৌখিক পরীক্ষা গ্রহনের অভিযোগে কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। এই কারনে গতকাল বুধবার সকালে ঢাকার কলাবাগান এলাকায় ববি’র লিয়াজো অফিসে সহকারী রেজিষ্ট্রার ও সেকশন অফিসার পদের মৌখিক পরীক্ষা গ্রহন হয়নি। ববি সুত্র জানায়, চলতি বছরের ২৭ ফেব্রæয়ারী বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪২টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা অনুসরন না করাসহ নিয়োগ কার্যক্রম নিয়ে নানা দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বজন প্রীতির অভিযোগ উঠে। যার কারনে নিয়োগ কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এ নিয়ে গত আগস্টে লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি পালন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট কমিটির কয়েকজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গত ১৫ জুলাই ববি’র সেকশন অফিসার পদে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ওই পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের তালিকা প্রকাশ না করেই উপাচার্য নির্ধারিত কিছু সংখ্যক প্রার্থীদের নিয়ে গত ২০ সেপ্টেম্বর কম্পিউটার পারদর্শিতার বিষয়ে পরীক্ষা নেয়া হয়। তবে এই পরীক্ষার কোন বৈধতা নেই বলেও জানান তারা।
সিন্ডিকেট সদস্যরা আরো জানান, ২০ সেপ্টেম্বরের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশ না করেই ২৭ সেপ্টেম্বর পুনরায় মৌখিক পরীক্ষার দিন ধার্য করা হয়। এজন্য কোন প্রার্থীকেই চিঠি দেয়া ও সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তও নেয়া হয়নি। সকল নিয়ম কানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. একেএম মাহাবুব হাসান নিজেই নির্ধারিত প্রার্থীদের ফোন করে লিয়াজো অফিসে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহনের ডাকেন। বিষয়টি জানাজানি হলে, সিন্ডিকেট কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তাৎক্ষনিক ভাবে বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রনালয়কে অবহিত করা হয়। এর পর পরই মঙ্গলবার নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিতের আদেশ দিয়েছে মন্ত্রনালয় থেকে। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, ভিসি নিজের দোষ ঢাকতে নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত হওয়ার পরে গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইডে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১০০ জনের তালিকা প্রকাশ করেন। কিন্তুতালিকা প্রকাশের দিন উল্লেখ করে ২৫ সেপ্টেম্বর। ওই তালিকা প্রকাশ করা হলেও মৌখিক পরীক্ষার সময় উল্লেখ করা হয়নি। এমনকি ওয়েব সাইডে প্রকাশিত তালিকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নোটিশ বোর্ডেও টানানো হয়নি বলে সূত্র গুলো নিশ্চিত করেছে। এসব অভিযোগের প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে উপাচার্য এসএম ইমামুল হক এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য গ্রহন করা সম্ভব হয়নি।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রার মনিরুল ইসলাম বলেন, আমি হজ্বে ছিলাম। ফলে নিয়োগ পরীক্ষা’র বিষয়টি সম্পর্কে আমার কিছু জানা নেই। অবশ্য নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, গতকাল বুধবার রাজধানীর কলাবাগানে সহকারী রেজিষ্ট্রার এবং সেকশন অফিসার পদে মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি বলে নিশ্চিত করেন তিনি।