বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অব্যবহৃত খাতে ৪ বছরে জমা পড়বে প্রায় কোটি টাকা

এম হোসেন ॥ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) ভর্তির সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেয়া ১১ খাতের টাকায় কোনো কার্যক্রম নেই। অথচ এসব খাতে প্রতি বছর ভর্তির সময় প্রতি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোন সুযোগ সুবিধাহীন এসব খাতে সর্বনি¤œ ১ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা আদায় করা হয়েছে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এসব খাত থেকে গত তিন বছরে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। এই বছর নিয়ে প্রায় কোটি টাকা অব্যবহৃত খাত থেকে জমা পড়বে।
এই ১১ খাত হলো- হল ইউনিয়ন, বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিয়ন, হল খেলাধূলা, আবাসিক পরিদর্শন, ছাত্রছাত্রী কল্যাণ, হেলথ কার্ড, কেন্দ্র, কমণরুম, কর্মশালা, কম্পিউটার ল্যাব ও মেডিকেল।
নতুন শিক্ষা বর্ষে ভর্তি সময় (২০১৪-১৫) এসব খাত থেকে আদায় করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ডে অব্যবহৃত খাত টাকা আদায়ের পরিমান আরো ৩৭ লাখ ৫ হাজার টাকা জমা পড়বে।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১১-১২ শিক্ষা বর্ষ থেকে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম বছর শিক্ষার্থী কল্যাণ ফি, কেন্দ্র ফি, কম্পিউটার ল্যাব ফি নামের অব্যবহৃত খাতে প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা হারে আদায় করা হয়। ওই বছর ৪০০ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। সে হিসেবে ওই বছর অব্যহৃত খাত থেকে বিশ্ব বিদ্যালয়ের ফান্ডে জমা পড়েছে ৫২ হাজার টাকা।
২০১২-১৩ শিক্ষা বর্ষে অব্যহৃত খাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১ হাজার ৮৫০ টাকা হারে আদায় করা হয়। অব্যবহৃত খাত হলো- শিক্ষার্থী কল্যাণ ফি, কেন্দ্র ফি, কম্পিউটার ল্যাব ফি, হল ইউনিয়ন ও বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিয়ন ফি।
এই ৫ অব্যবহৃত খাত থেকে ১ হাজার ৮৫০ টাকা হারে ৭০০ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা আদায় করা হয়।
গত শিক্ষা বর্ষে (২০১৩-১৪) অব্যহৃত খাত বেড়ে দাঁড়ায় ১১টি। এই সব খাতে প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে আদায় হয়েছে ২ হাজার ৮৫০ টাকা।
ওই বছর শিক্ষার্থী ভর্তি হয় ১ হাজার ১৮৯ শিক্ষার্থী কাছ থেকে ৩৩ লাখ ৮৮ হাজার ৬৫০ টাকা হারে আদায় হয়।
গত তিন বছরে অব্যবহৃত খাত থেকে মোট আদায় হয়েছে ৪৭ লাখ ৩৫ হাজার ৬৫০ টাকা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি সহকারী অধ্যাপক সফিউল ইসলাম বলেন, এই বছর ভর্তি হতে যাওয়া প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সিন্ডিকেট সদস্যরা ১৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছেন। গত শিক্ষা বর্ষের ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে একই হারে টাকা নেয়া হয়।
সেই হিসেবে এই বছর বিশ্ব বিদ্যালয়ে আসন সংখ্যা ১ হাজার ৩০০। এই বছর আদায় হবে ৩৭ লাখ ৫ হাজার টাকা।
চার শিক্ষা বর্ষে অব্যবহৃত খাত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফান্ডে জমা পড়বে ৮৪ লাখ ৪০ হাজার ৬৫০ টাকা।
প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আবাসিক হলের ব্যবস্থা নেই। যার কারণে হল ইউনিয়ন গঠন করা সম্ভব হয়নি। অথচ এই খাতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রতি বছর প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২০০ টাকা আদায় করছে।
বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিয়ন খাত বাবদ আদায় হচ্ছে ১০০ টাকা। অথচ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৪ বছরেও ইউনিয়ন গঠন হয়নি। হল খেলাধূলা বাবদ প্রতি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২০০ টাকা আদায় করা হয়। অথচ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে হলের কোনো ব্যবস্থাই নেই। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক কার্যক্রমের কোনো ব্যবস্থা না থাকলেও এই খাতে প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১০০ টাকা করে আদায় করা হয়।
শিক্ষার্থী কল্যাণ বিষয়ক কোনো ব্যবস্থা না থাকলে আদায় হচ্ছে ২৫০ টাকা। কোনো শিক্ষার্থীকে হেলথ কার্ড না পেলেও দিতে হয় ১০০ টাকা। এছাড়া মেডিকেলের ব্যবস্থা থাকলেও সেখানে কোন চিকিৎসা সেবা দেয়া হয় না। তবুও প্রতি শিক্ষার্থী ৩০০ টাকা করে দেয়।
পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় কেন্দ্র ফি খাতে টাকা নেয়া হলেও ভর্তির সময় এই খাতে নেয়া হয় ২০০ টাকা করে। ছাত্র ও ছাত্রীদের মিলনায়তনের কোনো ব্যবস্থা না থাকলেও নেয়া হচ্ছে ২০০ টাকা করে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু মেয়েদের জন্য বিশ্রাম কক্ষ রয়েছে। কম্পিউটার ল্যাবের জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা নেয়া হয়। অথচ এখানে আধুনিক কোনো কম্পিউটার ল্যাবের ব্যবস্থা নেই। এছাড়া ওরিয়েন্টশন বাবদ প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১০০ টাকা নেয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীর সাথে আলাপকালে তারা এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, টাকা আদায় করলেও আমাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় রেজিষ্ট্রার মোঃ মনিরুল ইসলামের সাথে মোবাইলে আলাপকালে তিনি এব্যাপারে মুখ খুলতে রাজি হয়নি। পাশাপাশি তিনি মোবাইলে এব্যাপারে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুন অর রশিদ খান জানান এসব খাতের টাকা বেশি হলেও শিক্ষার্থীদের সুযোগ সুবিধা দেয়া হবে।