বরিশাল বিমান বন্দরে আজ ৯ বছর পর নামবে পতাকাবাহী বিমান

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ দীর্ঘ ৯ বছর পরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পুনরায় বরিশালে দেশের দক্ষিনাঞ্চলের একমাত্র বিমান বন্দরের মাটি স্পর্শ করতে যাচ্ছে বুধবার বিকেলে। কানাডার তৈরী ‘ড্যাস-৮-কিউ-৪০০’ সিরিজের ৭২ আসনের টার্বো-প্রপেলার উড়োজাহাজ নিয়ে আজ বিকেলে বিমান মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন ঢাকা থেকে উড়ে আসছেন।
সেনা সমর্থিত ১/১১ সরকার ক্ষমতা গ্রহনের পরে সবকটি সেক্টরে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্স-এর ফ্লাইট বন্ধ করে দিয়েছিল। মহাজোট সরকার ক্ষমতা গ্রহনের পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সবকটি অভ্যন্তরীন সেক্টরে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান ফ্লাইট চালুর নির্দেশ দেন। দীর্ঘ টানা পোড়নের পরে ইজারায় আনা ২টি টার্বো-প্রপেলার উড়োজাহাজ দিয়ে দেশের ৬টি সেক্টরে ফ্লাইট চালু হয়েছে। আজ শুরু হচ্ছে বরিশাল ফ্লাইট। আপাতত বরিশাল সেক্টরে সপ্তাহে দুদিন, রোববার ও বুধবার এ ফ্লাইট চলবে। তবে যাত্রী বান্ধব সময়সূচী অনুসরন না করায় এখনো বরিশাল সেক্টরে বানিজ্যিকভাবে এ ফ্লাইট পরিচালনার ভবিষ্যত নিয়ে হতাশ দক্ষিনাঞ্চলের আমজনতা। বানিজ্যিকভাবে এ ফ্লাইট কতটুকু সাফল্যের মুখ দেখবে তা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চিয়তা রয়ে গেছে সবার মনেই। এমনকি দেশের স্বল্পতম দূরত্বের বরিশাল সেক্টরে ভাড়া নির্ধারন নিয়েও কিছুটা ক্ষোভ রয়েছে দক্ষিনাঞ্চলবাসীর মনে। এ সেক্টরের ভাড়া তুলনামূলক বিচারে সবচেয়ে বেশী। ঢাকা-বরিশাল আকাশ পথের দুরত্ব ৬৭ এ্যারোনটিক্যাল মাইল। যা দেশের স্বল্প পাল্লার আকাশ পথ। এছাড়াও মহানগরী থেকে বিমান বন্দরে যাত্রীদের আনা নেয়ারও কোন উদ্যোগ নেয়নি বিমান কর্তৃপক্ষ। নগরীরর সদর রোডে যে অফিস নেয়া হয়েছে, সেখান আরোহন করতে যাত্রীদের নভিশ্বাস উঠছে। এখন পর্যন্ত এয়রপোর্টে বিমান-এর স্টেশন ম্যানেজারের কোন টেলিফোন লাগেনি। ফলে ফ্লাইট-এর অবস্থান নিয়ে যাত্রীদের পক্ষে কোন খোজ খবর পাওয়াও দুসস্কর হয়ে পড়েছে। নগরী থেকে ১৫ কিলোমিটার দুরে এয়ারপোর্টে বিমান অফিসে টেলিফোন জরুরী হলেও কতৃপক্ষ তা বুঝছেন না। গত কয়েকদিন ধরে বরিশাল সেলস অফিসে অনেক খোজাখুজি করেও স্টেশন ম্যানেজারকে পাওয়া যায়নি।
তবে বিমান-এর বিক্রয় ও বিপনন পরিদফতরের দায়িত্বশীল মহল থেকে বরিশাল সেক্টরে পূর্বের ন্যায় রবিবার বিকেলে ও বৃহস্পতিবার সকালে ফ্লাইট সময়সূচী নির্ধারনের অনানুষ্ঠানিক অনুরোধ করা হয়েছে বলে একাধীক সূত্রে জানা গেছে। ফ্লাইট অপারেশন বিভাগ বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিকভাবে চিন্তা ভাবনা করলেও এখনো তারা এ ব্যপারে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। বরিশালের বিভিন্ন মহল থেকে বিষয়টি বিমান চলাচল মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন সহ বিমান-এর উচ্চ পর্যায়ের নজরে নেয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।
তবে এসব বিষয় নিয়ে এখনই কোন মন্তব্য করতে রাজি না হলেও বরিশাল সেক্টরে ফ্লাইট সময়সূচী পরির্বতন প্রয়োজন বলে স্বীকার করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দায়িত্বশীল মহল। অভিযোগ উঠেছে কতিপয় বেসরকারী লঞ্চ মালিকদের কারসাজিতে একটি কুচক্রী মহল অতীতের মত এবারো বরিশাল সেক্টরে বিমান ফ্লাইট পরিচালনা নিয়ে জটিলতা জিইয়ে রেখে তা যাত্রী সাধারনের কাছে অগ্রহনযোগ্য করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তবে বিষয়টি বরিশালে বিমান মন্ত্রীর নজরে আনার উদ্যোগে নিয়েছে স্থানীয় সচেতন মহল।
উল্লেখ্য, প্রায় ৪০কোটি টাকার দেশীয় তহবিল থেকে বরিশাল বিমান বন্দর নির্মান শেষে ১৯৯৫-এর ৩ডিসেম্বর বরিশাল বিমান বন্দর ও জাতীয় পাতাকাবাহী বিমান ফ্লাইট উদ্বোধন করা হয়েছিল। পরবর্তিতে আরো কয়েক কোটি টাকা ব্যায়ে মাঝারী মাপের জেট এয়ারক্রাফট উড্ডয়ন উপযোগী করে এখানের রানওয়ে সম্্রপসারন করা হয়। এছাড়াও ‘পাপি লাইট’ স্থাপন এবং অত্যাধুনিক দমকল ইউনিট স্থাপন ও আবাসিক ভবনসমুহও নির্মান করা হয়েছে। বর্তমানে বরিশাল বিমান বন্দর থেকে মাঝারী মাপের জেট এয়ারক্রাফটও পরিচালনা সম্ভব।
এছাড়া খুব শিঘ্রই দক্ষিনাঞ্চলের একমাত্র এ বিমান বন্দরটিকে ২৪ ঘন্টা পরিচালন উপযোগী করতে ‘রানওয়ে লাইট’ সংযোজন সহ আরো বেশ কিছু অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও বরিশাল বিমান বন্দরে ভিআইপি ও ভিভিআইপি লাউঞ্জ সহ বিশাল টার্মিনাল ভবন এবং আধুনিক সরঞ্জাম সমৃদ্ধ কন্ট্রোল টাওয়ারও রয়েছে। যা দেশের অভ্যন্তরিন ও আঞ্চলিক রুটসমুহে ফ্লাইট পরিচালনার উপযোগী।