বরিশাল বিভাগে ৫০৭ চিকিৎসক পদ খালি

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বিভাগের সরকারী হাসপাতাল, কমপ্লেক্স, কমিউনিটি ক্লিনিকসহ স্বাস্থ্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রায় অর্ধেক চিকিৎসকের পদ খালি পড়ে আছে। পূরণ হওয়া পদে কর্মরতরা নবীণ চিকিৎসক। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, শূন্য পদ নবীন চিকিৎসকদের মাধ্যমে পূরন করতে হবে। এই কারনে প্রকৃত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে হবে দক্ষিনের সাধারন মানুষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিভাগের প্রায় এক কোটি মানুষের স্বাস্থ্য সেবার জন্য সরকারি ভাবে রয়েছে দুটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ ৫টি জেলা সদর হাসপাতাল ৪০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লে¬ক্স, ৭০টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ২৬৬টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র। সরকারি এসব স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানে ১ হাজার ৬১ চিকিৎসক পদ রয়েছে। এর মধ্যে খালি রয়েছে ৫০৭ পদ। বর্তমানে কর্মরত ৫৫৪ চিকিৎসক। এদের মধ্যে ২৮৫ জন চিকিৎসক নবীণ।
পরিচালক স্বাস্থ্য বিভাগ কার্যালয়ের উপ পরিচালক ডাঃ এটিএম মিজানুর রহমান জানান, এক কোটি মানুষের স্বাস্থ্য সেবা জন্য যে পরিমানের প্রতিষ্ঠান থাকার কথা বরিশাল বিভাগে তার চেয়ে বেশী আছে। কিন্তু এই স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে রোগীদের সেবা দেয়ার জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেই। এখনো অর্ধেক চিকিৎসক পদ খালি বলে তিনি দাবী করেছেন।
বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে বর্তমানে প্রতি ১৮ হাজার রোগীর জন্য মাত্র একজন চিকিৎসক। কিন্তু দেখা গেলে ওই কর্মরত চিকিৎসকদের মধ্যে অর্ধেকরও বেশী জুনিয়র। সেখানকার তথ্য মতে, বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসকের পদ রয়েছে ১ হাজার ৬১টি। এর মধ্যে কর্মরত আছেন ৫৫৪ জন। আর শুণ্য পদের সংখ্যা ৫শ ৭টি। কর্মরত ৫শ ৫৪ পদের মধ্যেই সদ্ব্য ৩৩তম বিসিএস’র নিয়োগপ্রাপ্ত ২৮৫ চিকিৎসক। ফলে দক্ষিণের রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের অন্যতম ভরসা জুনিয়র চিকিৎসকরা। তবে ৩৪ তম বিসিএস’র উত্তির্ণদের মাধ্যমে ওই শুন্যপদ গুলো পূরণ হতে পারে বলে মন্তব্য করেন স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক ডাঃ বাসুদেব কুমার দাস।
এদিকে চিকিৎসক শুণ্যতায় সবচেয়ে বেশী ভয়াবহ অবস্থা বরগুনা জেলাতে। সেখানের ১৪১টি পদের মধ্যে চিকিৎসক আছেন মাত্র ৪৬ জন। তার মধ্যে ৩৩তম বিসিএস’র মাধ্যমে নিয়োগ প্রাপ্ত চিকিৎসকই ১৮ জন। এখানে শুণ্য রয়েছে ৯৫টি পদ। পটুয়াখালী জেলার ২২৯টি পদে চিকিৎসক রয়েছেন ১১১ জন। সেখানে ১১৮টি পদ শুণ্য। কর্মরত ১১১ চিকিৎসকের মধ্যে ৫১ জন ৩৩তম বিসিএসে নিয়োগ প্রাপ্ত। ভোলা জেলার ২০০টি পদে কর্মরত আছেন ১০১ জন। সেখানে শুণ্য পদ রয়েছে ৯৯টি। কর্মকত ১১১ জন চিকিৎসকের মধ্যে জুনিয়র (৩৩তম বিসিএস) ৫৬ জন। পিরোজপুর জেলার ১৬৬টি পদের মধ্যে ৮৪ জন কর্মরত। তাদের মধ্যে জুনিয়র ৪৮ জন ও এ জেলার শুণ্যরয়েছে ৮২টি পদ।
সিভিল সার্জনের অধিনে বরিশালের ১০টি উপজেলায় ২২৩টি পদে কর্মরত আছেন ১৪৯ জন। এ জেলায় শুণ্য রয়েছে ৭৪টি পদ। কর্মরত ১৪৯ জনের মধ্যে ৩৩তম বিসিএসে নিয়োগ প্রাপ্ত চিকিৎসক ৭৯ জন। বিভাগের ছোট জেলা ঝালকাঠীতে ১০২টি পদে কর্মরত আছেন ৬৩ জন। সেখানে ৩৯টি পদ শুণ্য ও ৩৩তম বিসিএসে নিয়োগ প্রাপ্ত চিকিৎসক ৩৩ জন।
অপরদিকে জেলা কিংবা উপজেলাগুলোতে চিকিৎসক সংকট থাকলেও বরিশাল বিভাগীয় শহর কেন্দ্রিক সরকারি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক সংকট নেই বললে চলে। বিশেষ করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭৯টি রেজিস্ট্রার, সহকারী রেজিস্টার ও মেডিকেল অফিসারের পদে মধ্যে কর্মরত আছেন ৬৪ জন। সেখানে শুণ্য রয়েছে ১৫টি পদ।
একই ভাবে মেডিকেল কলেজের অধিনে বরিশাল সদর হাসপাতালে ১৮ পদে কর্মরত আছেন ১৬ জন। এ ব্যাপারে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ বিনয় কৃষ্ণ বিশ্বাস জানান, ইতো পূর্বে চিকিৎসকের পদায়নের বিষয় তদারকি করতো স্থানীয় বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কিংবা সিভিল সার্জনরা। এতে করে সমান ভাবে চিকিৎসক বন্টন করা হতো। কিন্তু বর্তমান সময়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় থেকে সরাসরি পদায়ন দেয়া হয়ে থাকে বলে আমাদের কিছু করার থাকে না। তাই এক জেলাতে বেশী আর অন্য জেলাগুলোতে কম পরিমানের চিকিৎসক কাজ করছেন। এতে করে অনেকাংশে স্বাস্থ্য সেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে তিনি দাবী করেন।