বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘর উদ্বোধন সোমবার

রুবেল খান ॥ দক্ষিনাবাসীর দীর্ঘ দিনের কাংখিত বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘর উদ্বোধন হচ্ছে ৮ জুন। ওই দিন সাংস্কৃতি মন্ত্রী ও বিশিষ্ট নাট্যাভিনেতা আসাদুজ্জামান নুর জাদুঘরের উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের সকল আয়োজন প্রায় সম্পন্ন করেছে প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর ও জাদুধর কর্মকর্তাবৃন্দ।
বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘর বাস্তবায়ক কমিটির সদস্য ও প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর খুলনা বিভাগের আঞ্চলিক সহকারী পরিচালক একেএম সাইফুর রহমান পরিবর্তনকে জানান, স্বাধীনতার পর এই প্রথম বরিশালে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘর। নগরীর সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবনের বিপরীতে পুরাতন কালেক্টরেট ভবনটিতে এই জাদুঘর উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে বরিশাল বাসীর দীর্ঘ বছরের স্বপ্ন পুরন হতে চলেছে।
তিনি জানান, দ্বিতল ভবন বিশিষ্ট এই জাদুঘর ভবনে থাকবে ৯টি প্রদর্শনী কক্ষ। এসব প্রদর্শনী কক্ষে (গ্যালারী) শোভাপাবে বরিশালের প্রাচীনতম ইতিহাস, প্রতœতত্ত্ব, বাংলার নির্দশন, বরিশাল কালেক্টরেট নির্দশন এবং বরিশালের বিশিষ্ট গুনি ব্যক্তিদের ছবি।
তিনি জানান, ৯টি গ্যালারীর মধ্যে শুধু মাত্র একটি কালেক্টরেট এর নিদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে। এখানে কালেক্টরেট ভবনের বিভিন্ন প্রতœতত্ত্ব ও প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন শোভা পাবে।
এছাড়া ১ নম্বর গ্যালারিতে থাকবে বরিশাল বিভাগের ভৌগলিক, প্রাকৃতিক ও প্রশাসনিক পরিচিতি। ২ নং গ্যালারিতে থাকবে দর্শনার্থীদের বিশ্রাম ও মাতৃদুগ্ধ কেন্দ্র এবং ভিডিও ডকুমেন্টারী কক্ষ। ৩নং গ্যালারীতে থাকবে বরিশাল বিভাগের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। ৪ নং গ্যালারীতে থাকবে বরিশাল বিভাগের স্মরনিয় ব্যক্তিদের প্রতœতাত্ত্বিক নির্দশন, ৫ নম্বর গ্যালারিতে ঐতিহ্যবাহী অর্থ-সামাজিক ও প্রাকৃতিক বৈচিত্র। ৬ নম্বরে থাকবে বরিশাল বিভাগের প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন। ৭ নম্বরে গ্যালারীতে থাকবে দেশের বিভিন্ন প্রতœস্থলে প্রাপ্ত প্রতœ নিদর্শনের প্রদর্শনী। ৮ নম্বর গ্যালারীতে থাকছে বাগেরহাট/ খলিফাতাবাদ, সূজাবাদ কেল্লা ও ভারত ভায়নায় প্রাপ্ত প্রতœ নিদর্শন সমূহ নিয়ে প্রতœতত্ত অধিদপ্তর কর্তৃক সম্পাদিত খনন সম্পর্কিত তথ্যাবলি, ছবি ও প্রাপ্ত প্রতœবস্তুর প্রদর্শন এবং ১০ নম্বর গ্যালারীতে থাকবে বরিশাল কালেক্টরেট ভবনের প্রতœতাত্ত্বিক নানা নির্দশন।
গ্রীষ্ম কালে প্রতিদিন সকাল ১০ থেকে ৬টা ও শীত কালে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জাদুঘর খোলা থাকবে। জাদুঘর পরিদর্শনের জন্য দর্শনী মূল্য নির্ধারন করা হয়েছে ১০ টাকা। এছাড়া ৫ বছরের নিচে শিশুদের জন্য ফ্রি ও স্কুল ছাত্রদের কাছ থেকে দর্শনীয় মূল্য রাখা হবে ৫টাকা এবং সার্কভুক্ত দেশগুলোর জন্য ২৫ টাকা করে দর্শনী নির্ধারন করা হয়েছে। তবে বিশেষ বিশেষ দিনে জাদুঘর একেবারে উম্মুক্ত থাকবে। এছাড়াও জাদুঘর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে স্কুল প্রগামতো রয়েছেই।
এদিকে বরিশাল বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘরের উদ্বোধনী সময়ে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বরিশালের প্রাচিনতম প্রতœতাত্ত্বিক নির্দশনকে। বিশেষ করে এক থেকে দেড় হাজার বছর পূর্বে থেকে বৃটিশ আমল পর্যন্ত ইতিহাস তুলে ধরার চেষ্টা করছেন এখানকার কর্তৃপক্ষ।
প্রতœতাত্ত্বিক অধিদপ্তরের আঞ্চলিক সহকারী পরিচালক এ.কে.এম সাইফুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত বরিশাল থেকে তারা কোন প্রতœতাত্ত্বিক নির্দশন বা প্রতœতত্ত্ব পাননি। যেহেতু বরিশালবাসির দীর্ঘ বছরের দাবী বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘর। তাই আপাতত খুলনা এবং ঢাকা সহ দেশের বিভিণœ স্থান থেকে প্রতœতত্ত্ব ও প্রতœতাত্ত্বিক নির্দশন বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘরে আনা হয়েছে। পরবর্তীতে এখানে বরিশাল থেকে প্রাপ্ত বহু পুরানো দিনের প্রতœতত্ত্ব এবং নির্দশন সংগ্রহ করে রাখা হবে। এজন্য বরিশালবাসীর সহযোগিতা কামনাও করেন এই কর্মকর্তা। বরিশাল বাসীর সহযোগিতা পেলে বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘর দেশের অন্যান্য জাদুঘরের থেকে আরো সমৃদ্ধ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এদিকে বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘরের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে অনেকটা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন এখানকার কর্মকর্তারা। তারা বলেন, বরিশাল জাদুঘরে একেবারেই কোন জনবল নেই। তাই গত ১৯ মে থেকে খুলনা বিভাগীয় জাদুঘর থেকে ২৩ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী এখানে এসেছেন। তারাই জাদুঘর বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন। এর মধ্যে সহকারী পরিচালক একেএম সাইফুর রহমানের পাশাপাশি এখনে কাষ্টডিয়ামের দায়িত্ব নিয়ে সার্বক্ষনিক থাকবেন খুলনার সহকারী কাষ্টডিয়াম শাহীন আলম। এছাড়া আরো কয়েকজন প্রহরির পাশাপাশি জাদুঘরের প্রতিটি গ্যালারীতে সিকিউরিটি এ্যালারামের পাশাপাশি আপাতত ৩০টি সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। পরবর্তীতে আরো সিসি ক্যামেরা লাগানো হবে বলেও জানিয়েছেন কাষ্টডিয়াম শাহীন আলম।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই বরিশালে একটি বিভাগীয় জাদুঘরের দাবী জানিয়ে আসছে এখানকার নাগরীকরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৩ সালের দিকে বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘর বাস্তবায়নের জন্য নগর ভবনের সামনে পরিত্যক্ত কালেক্টরেট ভবনটি প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করে বরিশাল জেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষ। এরপর বিভাগীয় জাদুঘর বাস্তবায়নের জন্য প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর দরপত্র আহবান করে। তবে নানা জটিলতায় প্রথম পর্যায়ের কাজ সম্পন্ন হয়নি। পরবর্তীতে প্রায়ত এমপি শওকত হোসেন হিরণ মেয়র থাকা অবস্থায় বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘর বাস্তবায়নে মন্ত্রনালয়ে তদ্বির লবিং করে পূনরায় এখানকার নির্মান এবং সংস্কার কাজ শুরু হয়। অতপর ঠিকাদারী সংস্থা ভবনটি প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরকে কাজ বুঝিয়ে দিলে কালেক্টরেট ভবনে বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘর উদ্বোধনের সময় নির্ধারন করেছেন প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর।