বরিশাল পপুলার স্কুল কক্ষে দুই ছাত্রী ধর্ষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ সদর উপজেলার রায়পাশা কড়াপুর ইউপির পপুলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী মিলনায়তন কক্ষে আটকে দুই ছাত্রীকে ধর্ষনের অভিযোগ উঠেছে।  গতকাল বৃহস্পতিবার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের প্রধান সহকারীর ছেলেসহ ছাত্রীদ্বয়ের দুই সহপাঠি এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিষয়টি ধামা চাঁপা দিতে স্থানীয় মোড়লরা তৎপরতা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সন্ধ্যায় তারা শালিস মিমাংসার চেষ্টা করলেও ছাত্রীদ্বয়ের পরিবারের আপত্তিতে ভেস্তে গেছে। তবে মোড়লরা হাল ছাড়েননি। আজ পুনরায় শালিস বৈঠক করার চেষ্ঠা করছে বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, দুপুর দুইটায় পপুলার মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছুটি হলে সব শিক্ষক ও শিক্ষার্থী চলে যায়। সেই সুযোগে ধর্মাদি এলাকার বাসিন্দা ও বরিশাল প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের প্রধান সহকারী হানিফ হাওলাদারের ৯ম শ্রেনী পড়–য়া ছেলে রাহাত হোসেন শুভ এবং একই এলাকার আব্দুল হালিম এর ভাগ্নে রানা সহপার্টিনী দুই ছাত্রীকে স্কুলের ছাত্রী মিলনায়তন কক্ষে ডেকে নেয়।
সূত্রগুলো জানায়, ছাত্রীরা কক্ষে প্রবেশের সাথে সাথে দুই বখাটে সহপার্টি দরজা আটকে দেয়। পরে তাদের দু’জনকে ধর্ষন করে বলে সুত্রটি নিশ্চিত করেছে।  সূত্রগুলো জানায়, ধর্ষনের সময় ছাত্রীদ্বয়ের চিকিৎকারে আশপাশের লোকজন তাদের উদ্ধার করে।
পপুলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কবির হোসেন ধর্ষনের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার সময় আমি বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলাম না। পরে শুনতে পেয়ে বিদ্যালয়ে গেলে ওই দুই ছাত্রী তার কাছে ধর্ষনের অভিযোগ করে। তিনি বলেন, রাহাত হোসেন শুভর বাবা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের প্রধান সহকারী কবির হোসেন পপুলার মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলো। এছাড়া ধর্ষক শুভ ও রানা সম্পর্কে মামা-ফুফাত ভাই। রানার বাবা-মা রাজশাহীতে থাকে।
প্রধান শিক্ষক কবির হোসেন আরো জানান, এ বিষয় নিয়ে সন্ধ্যায় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক সেলিম, কমিটির সভাপতি প্রার্থী আ’লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন পলাশ মৃধা এবং ইউপি চেয়ারম্যান নূরুল আমিন সহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ সমঝোতার জন্য সালিস বৈঠক করে। কিন্তু ধর্ষনের শিকার ছাত্রীদ্বয়ের পরিবার সালিস না মানায় মিমাংশা হয়নি। তবে আজ সকালে পূনরায় সালিস বৈঠক হতে পারে বলে প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন।
ইউপি চেয়ারম্যান নূরুল আমিন এর সাথে আলাপকালে তিনি সালিস বৈঠক করার কথা অস্বীকার করে বলেন, আমাকে এ বিষয়ে কেউ কিছু জানায়নি। তবে লোকমুখে ঘটনাটি শুনেছি। এছাড়া এখানে সালিস বৈঠকের কিছুই নেই। এটা প্রশাসনিক ব্যাপার। তারাই যা করার করবে।
ধর্ষনের  অভিযোগে অভিযুক্ত রাহাত হোসেন শুভর বাবা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের প্রধান সহকারী হানিফ হাওলাদারের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বিমান বন্দর থানার ওসি আতাউর রহমান বলেন, পপুলার স্কুলে এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটেছে কিনা তা আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে দেখছি। ঘটনা সত্য হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবেও জানিয়েছেন তিনি।