বরিশাল নার্সিং কলেজে দুর্নীতিতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ অনিয়ম, দুর্নিতী আর অব্যস্থাপনার চরম শেখড়ে পৌছেছে বরিশাল নার্সিং কলেজ। এসব কিছুর মূলে বিদায়ী অধ্যক্ষ, বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও এক প্রশিক্ষককে দায়ী করছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের অনিয়ম অত্যাচারে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম চরম ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নার্সিং কলেজের সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এই কলেজের ইনেস্ট্রাক্টর(প্রশিক্ষক) সিরায়া খানম ও আলী আজগর দুর্নিতীতে মেতে উঠেছেন। দীর্ঘ দিন থেকে এরা কলেজে শিক্ষার্থীদের প্রাপ্ত বিভিন্ন ফান্ড থেকে কৌশলে লাখ লাখ টাকা আত্মসাত, শিক্ষার্থীদের খাবারে অনিয়ম সহ নানা দুর্নিতীর সাথে যুক্ত হন। এদিকে শেবাচিম হাসপাতালের সাবেক সেবা তত্ত্বাবধায়ক আলেয়া পারভিন নার্সিং কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। তিনি যোগদানের পরে সিরিয়া খানম এবং আলী আজকের অনিয়ম, দুর্নীতি আর অবস্থাপনার লাগাম টেনে ধরেননি। বরংচ তাদের সাথে যুক্ত হয়ে অনিয়মের চরম মাত্রায় পৌছে যেতে সহায়তা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে কলেজটির সদ্য বিদায়ী অধ্যক্ষ আলেয়া পারভিন’র বিরুদ্ধে। আর তাই দুর্নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বিদায় বেলাও অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার আশ্রয় নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে আলেয়া পারভিনের বিরুদ্ধে।
একাধিক শিক্ষক, প্রশিক্ষক জানান, গত ৫ এপ্রিল অবসরে যাবার পূর্বে এলপিআর গ্রহন করেন আলেয়া পারভিন। বিদায়ের পরে তার অনিয়ম দুর্নীতি ধরা পড়ে যাবার ভয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব ভার প্রদান করেন তারই অনিয়ম এবং দুর্নীতির সহযোগী সিরিয়া খানমকে। যিনি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকেই লাপাত্তা হয়ে গেছেন। একাডেমিক এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের প্রতি হস্তক্ষেপ না করে কাটাচ্ছেন তিনি দিনের পর দিন ছুটি। এতে শিক্ষা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম ভেস্তে গেলেও তার কিছু আসে যায় না।
শিক্ষকরা দাবী করে বলেন, নার্সিং কলেজে সিরিয়া খানমের থেকেও অধিক অভিজ্ঞ এবং দায়িত্বশিল জ্যেষ্ঠ শিক্ষক রয়েছেন।তাদের নার্সিং কলেজ পরিচালনার দক্ষতা এবং যোগ্যতা দুটোই রয়েছে। তার পরেও দুর্নীতিবাজ আলী আজগরের যোগসাজসে নিজেদের দুর্নীতি অনিয়ম ধরা পড়ে এলপিআর’র টাকা আটকে যাবার ভয়ে সিরিয়া খানমকে দায়িত্ব ভার অর্পন করেছেন আলেয়া পারভিন।
নার্সিং কলেজের বেশ কয়েকজন নির্ভরযোগ্য সূত্র আলেয়া পারভিন, সিরিয়া খানম এবং আলী আজগরের দুর্নীতি ও অর্থ কেলেংকারির ফিরিস্থি তুলে ধরে বলেন, কিছু দিন পূর্বে বরিশাল ও ভোলা নার্সিং কলেজ এবং ইনস্টিটিউট থেকে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তির অভিযোগে দুই ১৬ ছাত্রীকে বহিস্কার করা হয়। ঐ ছাত্রীদের জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তির পেছনে বরিশাল নার্সিং কলেজের এই তিন শিক্ষকের হাত রয়েছে। এ থেকে তারা মোটা অংকের ঘুষ বানিজ্য করেছেন বলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন শিক্ষকরা। আর সে জন্যই বিষয়টি প্রকাশ পাবার আগেই অধ্যক্ষ এবং তার সহযোগীদ্বয় দায় এড়াতে থানায় জিডি এবং অতি উৎসহী হয়ে মামলা করার জন্যও যান।
সূত্রগুলো আরো জানায়, আলী আজগরের বাড়ি বরগুনায়। তার স্ত্রী সেখানকার হাসপাতালে সেবিকা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। কিন্তু স্বামীর উত্তোরসরি হয়ে বরিশাল এবং বরগুনা দুই স্থানের সুযোগ সুবিদা ভোগ করেন।
সূত্র আরো জানায়, আলী আজগরের সাথে সেবা পরিদপ্তরের কেরানিদের সাথে সক্ষতা রয়েছে। তাদের মাধ্যমে বরিশালের নার্সদের বদলি সহ বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সেবা পরিদপ্তর থেকে ঘুষের বিনিময়ে প্রশিক্ষন কর্মশালার আয়োজন করছেন। কিন্তু তিনি নিজে এবং তার স্ত্রীকে দিয়ে করাচ্ছেন সেই প্রশিক্ষন। এমনি করে হাতিয়ে নিচ্ছেন সাধারন নার্সদের প্রশিক্ষনের লাখ লাখ টাকা। আর এসব করে নগরীর কাজী পাড়া এলাকায় চার শতক জমিতে বিলাশ বহুল বাড়ি করেছেন আলী আজগর। এসব ছাড়াও নগরীর বিভিন্ন স্থানে জমিজমা সহ ব্যাপক অর্থ সম্পদের মালিক বনে গেছেন তিনি। যা দুর্নীতি দমন কমিশনের সুষ্ঠু তদন্তে বেরিয়ে আসবে বলেও দাবী জানান সংশ্লিষ্টরা।
অপর দিকে তাদের অপর উত্তরসুরি বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সিরিয়া খানম। তিনি অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ঠিক। কিন্তু দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নেই কোন ভূমিকা।
কলেজ শিক্ষকরা জানান, ৫ এপ্রিল আলেয়া পারভিন দায়িত্ব হস্তান্তরের আগে থেকেই সিরিয়া খানম ছুটি কাটাচ্ছিলেন। মেয়ের অসুস্থতার অজুহাতে দিনের পর দিন ছুটি নিয়ে ঢাকায় সময় কাটান তিনি। তার পরেও বিদায়ী অধ্যক্ষ আলেয়া পারভিন প্রশিক্ষক সিরিয়া খানমকে ঢাকা থেকে ডেকে এনে তার কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়। দায়িত্ব বুঝে নেয়ার পরদিনই কোন প্রকার ছুটি ছাড়াই নিজ ক্ষমতা বলে আবার ঢাকায় চলে যান। ফলে অবর্তমানে স্ব-ঘোষিত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে প্রভাব বিস্তার করছেন আলী আজগর।
এসব ছাড়াও সম্প্রতি ঘটে যাওয়া নার্সিং কলেজে ভবন রক্ষায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পেছনেও বিদায়ী অধ্যক্ষ আলেয়া পারভিন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সিরিয়া খানম এবং প্রশিক্ষক আলী আজগরের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের ইন্ধোনেই শিক্ষার্থীরা সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আঙুল তোলার সাহস পেয়েছে বলে জানান শিক্ষকরা। এমনকি অধ্যক্ষ অবরুদ্ধের নাটকেরও সৃষ্টি হয়েছে আজগর এবং সিরিয়ার যোগ সাজসে। যার ফলে তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি উপরস্থ কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদ্য বিদায়ী অধ্যক্ষ আলেয়া পারভিন বলেন, আমাকে ঢাকা থেকে আদেশ করেছেন কলেজের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে। মন্ত্রনালয়ের সিদ্ধান্ত মেনেই আমি সিরিয়া খানমকে দায়িত্ব ভার বুঝিয়ে দিয়েছে। তিনি দায়িত্ব গ্রহনে অপরাগতা প্রকাশ করলে তার পরে যে রয়েছেন তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়া হতো। কিন্তু তার কোন প্রয়োজন হয়নি। আলেয়া পারভিন আরো বলেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সিরিয়া খানম’র মেয়ে ঢাকায় একটি হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। তার মেয়েকে অক্সিজেন দিয়ে বাচিয়ে রাখা হয়েছে। এজন্য তিনি ছুটি নিয়ে ঢাকায় গেছেন। কিন্তু একটি মহল বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করতে চাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন আলেয়া পারভিন।