বরিশাল নদী বন্দর কর্মস্থলমুখিদের জনস্রোত

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ঈদ পরবর্তী ঢাকা ও চট্টগাম অঞ্চলের কর্মস্থলমুখি মানুষের জনস্রোত ঢাকা পড়েছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বরিশাল নদী বন্দর। গত তিন দিন ধরে নির্ধারিত নৌযানের দ্বিগুনেরও বেশী লঞ্চ ধারন ক্ষমতার তিনগুন যাত্রী নিয়ে এ বন্দর থেকে ঢাকা ও চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেলেও জনস্রোত সামাল দেয়া যাচ্ছে না। ঈদ পরবর্তীকালে গতকালই বরিশাল বন্দর থেকে সর্বাধিক সংখ্যক যাত্রী ঢাকায় গেছে ১৫টি বেসরকারি ও ২টি সরকারি নৌযান। এছাড়াও গতকাল আরো ৩টি ক্যাটামেরন নৌযান বরিশাল নদী বন্দর থেকে ঢাকায় যাত্রী পরিবহন করেছে। কিন্তু এরপরেও বরিশাল নদী বন্দরে পা ফেলার জায়গা ছিল না গতকাল।
গতকাল ও এর আগের দিন বরিশাল বন্দর থেকে সরকারি-বেসরকারি ২০টি নৌযান অন্তত ৭০ হাজার করে যাত্রী নিয়ে ঢাকা ও চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে বন্দর ত্যাগ করে। এর মধ্যে বরিশাল-ঢাকা রুটে সরাসরি অন্তত ১৮টি সরকারি ও বেসরকারি নৌযান যাত্রী পরিবহন করে। গত কয়েক দিন ধরে বেশীরভাগ নৌযানই বরিশাল থেকে সন্ধ্যায় ছেড়ে শেষ রাতেরও আগে ঢাকায় পৌছে যাত্রী নামিয়ে আবার বরিশাল বন্দরে ফিরছে ঢাকামুখি যাত্রী তুলতে। এভাবেই প্রতি ২৪ ঘন্টায় দুটি রাউন্ড ট্রিপে যাত্রী পরিবহন করছে বেসরকারি নৌযানগুলো।
কিন্তু এরপরেও ভীড় সামাল দেয়া যাচ্ছে না। তিল ধারণের ঠাই থাকছে না বরিশাল বন্দরে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, দক্ষিনাঞ্চলের সাথে রাজধানীর সংক্ষিপ্ত সড়ক পথের মাওয়া সেক্টরে নাব্যতা সংকটে ফেরি চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বরিশাল-ঢাকা নৌপথে জনস্রোত এবার আরো বাড়ছে। আগামী রবিবারের আগে মাওয়া সেক্টরে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হচ্ছে না। গতকাল দুপুরের মধ্যেই বরিশাল নদী বন্দরে যাত্রীদের ভীড় বাড়তে থাকে। রাত সাড়ে ৮টার পরে যেসব নৌযান ঢাকার উদ্দেশ্যে বন্দর ত্যাগ করার কথা, তা নির্ধারিত সময়ের দেড়-দুঘন্টা আগেই ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়। ১৫টি নৌযানের প্রায় সবগুলোই দোতালা ও তিন তলার ছাদ বোঝাই করেই বরিশাল বন্দর ছেড়ে যায়। যদিও বন্দরে প্রশাসনিক ম্যাজিষ্ট্রেট ছাড়াও আইন-শৃৃংখলা বাহিনী মোতায়েন ছিল, কিন্তু জনস্রোত সামাল দেয়ার ক্ষমতা কারোরই ছিলনা।
এর বাইরেও বিঅইডব্লিউটিসি’র নিয়মিত রকেট স্টিমারের সাথে একটি বিশেষ নৌযান গতকাল পিরোজপুরের হুলারহাট ও ঝালকাঠী হয়ে বরিশাল থেকে চাঁদপুর-ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রী নিয়ে ঢাকায় গেছে। আগামী শনিবার পর্যন্ত বরিশাল সহ দক্ষিনাঞ্চল থেকে চাঁদপুর ও ঢাকার জনস্রোত অব্যাহত থাকলেও বিআইডব্লিউটিসি আজ শুক্রবারের পরে আর কোন বিশেষ নৌযান পরিচালনা করছে না।