বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটের লঞ্চ স্বেচ্ছাচারী মালিকদের কারনে বর্ধিত ভাড়া দিচ্ছে জিম্মি যাত্রীরা

রুবেল খান॥ বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটে লঞ্চ মালিকদের স্বেচ্ছাচারীতা চরম পর্যায়ে পৌছেছে। ঈদের অজুহাত দেখিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে বর্ধিত ভাড়া আদায় হচ্ছে এখনো। তবে অভিযোগ উঠেছে বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটের সুন্দরবন, সুরভি এবং কীর্তনখোলা লঞ্চ মালিক পক্ষের খামখেয়ালির কারনে বর্ধিত ভাড়া কমাতে পারছে না অন্যান্য নৌযান মালিকরা। এমনকি বিষয়টি নিয়ে মাথা ব্যাথা দেখা যাচ্ছে না বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষেরও।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর পালিত হয়েছে পবিত্র ঈদ-উল-আযহা। এ উপলক্ষে দক্ষিণাঞ্চলের লঞ্চ এবং বাসে যাত্রীদের ভিড় বেড়ে যায়। আর এই সময়টাকে পুঁজি করে লঞ্চ এবং বাস মালিকরা স্বেচ্ছাচারীতার মাধ্যমে ভাড়া বাড়িয়ে দেয়। সেই ধারাবাহিকতায় গেল কুরবানীর ঈদের কমপক্ষে এক সপ্তাহ পূর্বে বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটে ভাড়া বৃদ্ধি করে লঞ্চ মালিকরা। নৌ যান মালিকরা সিন্ডিকেট করে ডেক থেকে শুরু করে লঞ্চ কেবিন পর্যন্ত সর্বস্তরের যাত্রী পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি করেন তারা।
সে অনুযায়ী ডেকের ভাড়া ২০০ টাকার স্থলে ২৫০টাকা, ডাবল কেবিন ১৭০০ টাকার স্থলে দুই হাজার টাকা, সিঙ্গেল এসি কেবিন এক হাজার টাকার স্থলে ১১০০ টাকা এবং সিঙ্গেল নন এসি কেবিন ৯শ টাকার স্থলে এক হাজার টাকায় নিয়ে আসা হয়। সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাময়িক সময়ের জন্য ভাড়া বৃদ্ধি করা হরেও ঈদ শেষ হওয়ার ১১ দিন পরেও সেই গলাকাটা ভাড়া আদায় অব্যাহত রেখে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন লঞ্চ মালিকরা। তবে ভাড়া কমানো না হলেও বহর থেকে কমে গেছে লঞ্চের সংখা। ঈদ উপলক্ষে বিশেষ সার্ভিসের নামে ১৩/১৪টি লঞ্চ এক সাথে চলাচল করলেও এখন তার সংখ্যা কমে গেছে। যাত্রীদের জিম্মি দশায় ফেলে আবার ফিরে এসেছে রোটেশন প্রথায়। যে কারনে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে যাত্রী সাধারণের।
বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটের বেশ কয়েকজন লঞ্চ মালিক জানান, গত ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বর্ধিত ভাড়া আদায়ের কথা ছিলো। কিন্তু গতকাল ৫ অক্টোবর পর্যন্ত যাত্রীদের কাছ থেকে বর্ধিত ভাড়া আদায় করে নিয়েছে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। এর কারন জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐ লঞ্চ মালিকরা জানান- সুন্দরবন, সুরভী এবং কীর্তনখোলা লঞ্চ মালিকরা বর্ধিত ভাড়া কমানোর পক্ষে নয়। সব সময়ের জন্যই তারা বর্ধিত ভাড়া আদায় করতে চাচ্ছেন। আর এই তিন লঞ্চ মালিকদের কারনেই এখন পর্যন্ত ঈদ উপলক্ষে লঞ্চের বর্ধিত ভাড়া কমানো যাচ্ছে না। তবে এসব লঞ্চ মালিকদের সাথে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের যোগ সাজস রয়েছে বলেও অভিযোগ সূত্রগুলোর।
এদিকে শুধুমাত্র বর্ধিত ভাড়া আদায়ই নয়, সিন্ডিকেটের বেড়াজাল থেকে বের হচ্ছে না লঞ্চের কেবিন নামের সোনার হরিন। ঈদকে পুঁজি করে কেবিনের কৃত্তিম সংকট সৃষ্টি করা হলেও ঈদের শেষেও কেবিন নামের সোনার হরিন ছুতে পারছে না সাধারণ যাত্রীরা। অবশ্য কাউন্টার বা লঞ্চ থেকে কেবিনের টিকেট পাওয়া সম্ভব না হলেও হাত বাড়ালেই টিকেট মিলছে দালালদের কাছে। তাও অতিরিক্ত টাকা দিয়ে। লঞ্চ মালিকদের রোটেশন নামের জিম্মি দশার পাশাপাশি দীর্ঘ বছর যাবত কেবিন নিয়ে কৃত্তিম সংকট দেখানো হলেও সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। উল্টো বিআইউব্লিউটিএ এবং নৌ পুলিশের যোগ সাজসেই লঞ্চ মালিকপক্ষ অবৈধ সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
লঞ্চ মালিকদের সূত্রে জানাগেছে, নৌ রুটে সকল প্রকার অনিময় এবং দুর্নীতির বিস্তার ঘটছে সুন্দরবন, সুরভী, কীর্তনখোলা এবং পারাবত মালিক পক্ষের কারনে। যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, কেবিনের টিকেট দালালদের মাধ্যমে কালোবাজারে বিক্রি এমনকি যাত্রীদের জিম্মি করে রোটেশন প্রথা চালু করার নেপথ্যে রয়েছেন তারাই। যে কারনে অন্যান্য মালিকরা চাইলেও সুন্দরবন, সুরভী, কীর্তনখোলা এবং পারাবত লঞ্চ মালিকদের সিদ্ধাতের বাইরে যেতে পারছেন না বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিকে ঈদকে পুঁজি করে ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি অস্বীকার করে আভ্যন্তরিন নৌ পরিবহন যাত্রী সংস্থার সহ-সভাপতি এবং সুন্দরবন লঞ্চ কোম্পানির চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, বিআইডব্লিউটিএ থেকে তাদের যে ভাড়া নির্ধারণ করে দিয়েছেন তার বাইরে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে না। বরং সরকার নির্ধারিত ভাড়ার থেকেও কমিয়ে রাখা হচ্ছে। তার পরেও সমিতির মাধ্যমে ঈদ উপলক্ষে বর্ধিত ভাড়া কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।