বরিশাল জেলা পরিষদের তিন মার্কেট নির্মান কাজের ঠিকাদার নির্ধারণ স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ ঘুষ বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগে স্থগিত করা হয়েছে বরিশাল জেলা পরিষদের প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার মার্কেট নির্মান কাজের ঠিকাদার নির্ধারণী লটারী কার্যক্রম। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল মঙ্গলবার লটারীর মাধ্যমে ঠিকাদার বাছাইয়ের কথা থাকলেও কোন প্রকার নোটিশ ছাড়াই তা বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ। ফলে ঠিকাদারদের পরতে হয়েছে মাহা বিপাকে। আদৌ তিনটি কাজের লটারী হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে তাদের মধ্যে। এজন্য লোকসানের আশংকায় অনেক ঠিকাদার উঠিয়ে নিচ্ছে তাদের দাখিলকৃত পে-অর্ডার।
বরিশাল জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল নগরীর বান্দ রোড শেবাচিম হাসপাতালের পশ্চিম পাশে দুটি ও রূপাতলী হাউজিং সংলগ্ন বাজারে দ্বিতীয় মার্কেট ভবন নির্মানের জন্য একই নোটিশে তিন গ্রুপে দরপত্র আহ্বান করেন জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ। জেঃপঃবঃ ২০১৪/৪৩২ স্মারকে ২৫ আগষ্ট প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ১৬ সেপ্টেম্বর দরপত্র বিক্রি কার্যক্রম শেষ হয়। ১৭ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৩ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা ব্যয় সাপেক্ষে তিনটি গ্রুপের কাজের বিপরীতে ৩৩৬টি দরপত্র দাখিল করা হয়।
এর মধ্যে প্রথম গ্রুপ ৯২ লক্ষ টাকার দ্বিতল মার্কেট ভবনের বিপরীতে ১১৬টি, দ্বিতীয় গ্রুপ একই স্থানে ৯২ লক্ষ টাকায় দ্বিতল মার্কেট ভবনের বিপরীতে ১১৪টি ও তৃতীয় গ্রুপে রূপাতলী হাউজিং সংলগ্ন বাজারে ১ কোটি ৫২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে দ্বিতল মার্কেট ভবনের বিপরীতে ১০৬টি। প্রি-টেন্ডার মিটিং শেষে ২১ অক্টোবর বেলা সাড়ে ১২টায় লটারীর মাধ্যমে ঠিকাদার নির্ধারণ করা হবে বলে নোটিশের মাধ্যমে সকল ঠিকাদারকে উপস্থিত থাকার জন্য বলা হয়।
দরপত্র প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহনকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাতুল এন্টারপ্রাইজ এর ঠিকাদার মোঃ রুবেল জানান, নোটিশ অনুযায়ী ঠিকাদাররা মঙ্গলবার সকাল থেকেই জেলা পরিষদ কার্যালয়ে উপস্থিত হতে থাকেন। বেলা ১১টার দিকে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ মৌখিক ভাবে লটারী কার্যক্রম স্থাগিত হওয়ার বিষয়টি জানিয়ে দেয়। তবে স্থগিতাদেশের কারন জানতে চাইলে অফিসিয়াল কারনে লটারী আপাতত স্থগিত করা হয়েছে বলে ঠিকাদারদের জানিয়ে দেয়া হয়।
রুবেল আরো জানান, তিনটি কাজ মিলিয়ে ৮ লক্ষ টাকার পে-অর্ডার জমা দেয়া হয়েছে। লটারী না হওয়ায় তাদেরকে ব্যাংকে জরিমানা গুনতে হবে। এজন্য অনেক ঠিকাদারই লোকশানের আশংকার তাদের পে-অর্ডার উঠিয়ে নিচ্ছে। যারা পে-অর্ডার উঠিয়ে নিচ্ছে তারা পরবর্তীতে লটারী কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না বলেও ঐ ঠিকাদার জানিয়েছেন।
লটারী স্থগিতের বিষয়ে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা জানান, রূপাতলী হাউজিং এর মার্কেট’র ২১টি ষ্টল লিজ দেয়া নিয়ে অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ করেছে ঐ বাজারের কিছু ব্যবসায়ী। মহানগর ছাত্রলীগ, স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ ও বাস মালিক সমিতির এক নেতাকে চারটি ষ্টল না দেয়ায় জেলা পরিষদের অবৈধ দখলদারদের দিয়ে প্রশাসক বরাবর ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা ঘুষ গ্রহনের লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা সহ তিন অফিস সহকারী মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে অপরিচিত ও আতী¥য় স্বজনদের নামে হাউজিং এর ২১টি ষ্টল বরাদ্দ দিয়েছে।
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা আরো জানান, লিখিত অভিযোগের কারনেই প্রশাসক এর নির্দেশে লটারী কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। তবে আগামী ৮/১০ দিনের মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় গ্রুপের কাজের লটারী অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও বিষয়টি সমাধান হওয়ার আগ পর্যন্ত তৃতীয় গ্রুপের লটারী অনুষ্ঠিত হবে না বলেও তিনি জানিয়েছেন।