বরিশাল জেলা ও মহানগর যুবলীগের হালচাল ॥ জেলার ২৪ মহানগরের ১৩ বছরেও নতুন নেতৃত্ব আসেনি

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ গত ২৪ বছর ধরে নিজেদের “নেতা” পরিচয় দিয়ে চলছে বরিশাল জেলা ও মহানগর যুবলীগের সকল শাখার নেতা-কর্মীরা। বছরের পর বছর ধরে দুই শাখার কোন কমিটি হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে যারা পদে রয়েছেন আর যারা পদ পাননি তবে পদের দাবিদার, তারাও যুবলীগের নেতা পরিচয় দিচ্ছেন।
সূত্র মতে বরিশাল জেলা যুবলীগের দুই সদস্যের কমিটির বয়স প্রায় ২৪ বছর। পিছিয়ে নেই মহানগর কমিটিও। প্রায় ১৩ বছর পূর্বের আহবায়ক কমিটি দিয়ে চলছে মহানগর। দীর্ঘদিন ধরে বহাল এই দুই কমিটি’র ব্যর্থতার কারণে আওতাধীন সকল শাখা বেহাল দশায় রয়েছে। তাই জেলার আওতাধীন প্রায় সকল ও মহানগরের ওয়ার্ড যুবলীগের কমিটিও নেই। এমনকি নতুন করে কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়া হলেও অজ্ঞাত কারনে ঝিমিয়ে পড়েছে।
যুবলীগের নেতা-কর্মীরা জানিয়েছে, ১৯৭২ সালে যুবলীগ প্রতিষ্ঠা হয়। একই সময় বরিশাল জেলা যুবলীগও প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই সময়ে জেলা যুবলীগের আহবায়ক ছিলেন আলহাজ্জ আমির হোসেন আমু। এরপর ২২ বছরে কোন পূর্নাঙ্গ কমিটি হয়নি। ৫টি আহবায়ক কমিটি হয়েছে। তারা কেউ পূর্নাঙ্গ কমিটি করতে পারেননি। এমনকি সম্মেলনও আয়োজন করা হয়নি। এ্যাড হেমায়েতকে আহবায়ক ও এ্যাড. ফজলুল করিম শাহীন এবং এ্যাড আফজালকে দিয়ে করা কমিটি ১৯৯২ সালে ১৯ ডিসেম্বর যুবলীগের প্রথম সম্মেলন করেন। সেই সম্মেলনে ভোটের মাধ্যমে অধ্যাপক জাকির সভাপতি ও এ্যাড. ফজলুল করিম শাহীন সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। সেই কমিটি ৯৪ সালের ডিসেম্বরে অনুমোদন পেয়েছে। সাংগঠনিক দূর্বলতাসহ নানা কারনে দুই সদস্য’র কমিটির পরিধি আর বাড়েনি। জেলা যুবলীগের কর্মকান্ড নামের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়। যার কারনে গত প্রায় ২৪ বছর ধরে জেলার ১০ উপজেলা ও ৫ পৌরসভা কোন কমিটি পায়নি। নতুন করে কমিটি হওয়ার গুঞ্জন পূর্বের মতো আবারো চলছে জানিয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মী জানান, ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতিতে দুই পন্থী সৃষ্টি হয়। যার কারনে দীর্ঘদিন ধরে কোন কমিটি হয়নি। কিন্তু কমিটি হবে। কবে হবে সেই বিষয়ে কেউ কিছু বলতে পারেননি।
জেলার সভাপতি জাকির হোসেন ও সম্পাদক ফজলুর করিম শাহীন জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে পদ পেয়েছেন। তাই জেলা যুবলীগের কমিটি গঠনের তাগিদ উঠছে খুব জোরে সোরেই। কিন্তু তাগিদ ও দাবি উঠলেও কেন্দ্র কোন সাড়া দিচ্ছে না।
অপরদিকে ২০০৪ সালের ৭ জুলাই নিজামুল ইসলাম নিজামকে আহ্বায়ক করে মহানগর যুবলীগের ৫৯ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। যুগ্ম আহ্বায়ক পদে যুক্ত হয় সাহিন সিকদার। এই কমিটির আহবায়কসহ নেতৃবৃন্দরা নগরীর ৩০ ওয়ার্ডের কোন কমিটি গঠন করতে পারেননি। আহবায়ক নিজামুল ইসলাম নিজাম মহানগর আওয়ামী লীগে সহ-সভাপতির পদ পেয়েছেন। উভয় কমিটির নেতাদের বিরুদ্ধে পদ আকড়ে ধরে রাখার অভিযোগ করেছে কর্মীরা। তাদের অভিযোগ দুই কমিটির নেতৃবৃন্দের কারনে বর্তমানে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কোন কমিটি না হওয়ায় ছাত্রনেতাদের পুরাতন সাবেক ও সদ্য সাবেক নেতৃবৃন্দের মধ্যে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুবলীগের নির্ভরযোগ্য সুত্র জানিয়েছে মহানগর যুবলীগে সভাপতি পদে সাবেক ছাত্রনেতাদেরকে বিবেচনা করা হচ্ছে।