বরিশাল জেলায় চাহিদার চেয়ে প্রায় ২৩ হাজার মেট্টিক টন মাছ বেশি উৎপাদন

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ গত অর্থ বছরে বরিশাল জেলা থেকে ২২ হাজার ৬১৩ দশমিক ৮৮ মেট্টিক টন মাছ বেশি উৎপাদন হয়েছে। উৎপাদিত মাছের মধ্যে সিংহভাগ ইলিশ বলে জানিয়েছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. ওয়াহিদুজ্জামান। জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় কালে তিন আরো বলেন, দিনে দিনে এ অঞ্চলে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর কারন সম্পর্কে ড. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ইলিশ সংরক্ষনসহ নানা পদক্ষেপ নেয়ার উৎপাদন বেড়েছে।
শনিবার বেলা ১২ টায় নগরীর সিএন্ডবি রোডে জেলা মৎস্য অফিসের সভাকক্ষে মৎস্য অধিদপ্তরের আয়োজনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় মৎস্য বিভাগের ও মৎস্য চাষ বিষয়ক বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন, যা সমাধানে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা জানান জেলা মৎস কর্মকর্তা।
আবহমান কাল থেকে এ জেলার বৈচিত্রময় জলাভূমি মাছ উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত জানিয়ে ড. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ২০১৩-১৪ বছরে বরিশাল জেলায় মোট উৎপাদিত মাছের পরিমান ৭৩ হাজার ৩২২ দশমিক ৬৮ মেট্টিক টন। মাছের চাহিদা ছিলো ৫০ হাজার ৭০৯ মেট্টিক টন।
সভায় প্রধান অতিথি মৎস্য বিভাগের উপ-পরিচালক মো. বজলুর রশীদ বলেন, বাংলাদেশে প্রাপ্ত স্বাদু পানির ২৬০ প্রজাতির মাছের মধ্যে ১২০ প্রজাতির মাছ এই অঞ্চলে পাওয়া যায়। এই অঞ্চলে ৮ প্রজাতির চিংড়ি পাওয়া যায়। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পরিবেশ দূষণ ও নানাবিধ কারনে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আজ হুমকির মুখে রয়েছে।
সভায় জানানো হয়, জেলায় ১৪৮টি মাছ চাষের নার্সারী রয়েছে। এই সব নার্সারীতে গত বছরে ৩ হাজার ৭১৭ দশমিক ৩২ লক্ষ পোনা উৎপাদিত হয়েছে। জেলায় মোট ৩ হাজার ৭৭৬ দশমিক ৪৪ লক্ষ পোনার চাহিদা রয়েছে।
গ্রামীন জনপদে প্রান্তিক মৎস্য চাষিদের মাছ চাষে উৎসাহী করতে মৎস্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৪৪৮টি প্রকল্পের মাধ্যমে ২ হাজার ২৩১ জনের মাঝে মোট ১২১ দশমিক ৭৮ লক্ষ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক মৎস্য চাষীদের মাঝে গত অর্থ বছরে মোট ৯২৪ দশমিক ৮৯ লক্ষ টাকা ঋণ বিতরণ করেছে।
গত বছরে জেলার ২ হাজার ৩৫১ দশমিক ৩৫ হেক্টর জমিতে ১২১ জলাশয়ে ৭ দশমিক ৫৮৭ মেট্রিক টন মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। একই অর্থবছরে জেলার রাজস্ব খাতে ২৬৭ জন এবং প্রকল্প খাতে ৩ হাজার ৫৬০ জন মৎস্য চাষীকে কার্প নার্সারী ব্যবস্থাপনা, জাটকা আহরণ থেকে বিরত থাকা জেলেদের সচেতনতা মূলক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। জেলার ১০ উপজেলার মোট ৫৪ হাজার ৬৫৩ জন নিবন্ধিত জেলের মধ্যে গত বছর ৩১ হাজার ৭১৫ পরিবারের মাঝে ৪০ কেজি করে ৪ মাসে ১৬০ কেজি করে খাদ্য শষ্য বিতরণ করা হয়েছে।
জেলায় ১০০০ খাঁচায় মাছ চাষ করা হচ্ছে। যার প্রতিটি খাচা থেকে উৎপাদন হচ্ছে ৩৫০ কেজি মাছ। এছাড়াও বিভাগে ৩টি মাছের অভয়াশ্রম রয়েছে। জেলায় ৪০টির অধিক মৎস্য আড়ৎ ও ২০০টির অধিক মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র রয়েছে।
যা দক্ষিণ ব-দ্বীপ অঞ্চলে মৎস্য ও মৎস্য পণ্য বাণিজ্যিকিকরনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আগৈলঝাড়া, গৌরনদী ও উজিরপুর উপজেলায় প্রায় ৩০০ লোক কুচে সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। স্থানীয় পর্যায়ে ৩টি আড়ৎদার ওই কুচে সংগ্রহ করে বিদেশে রপ্তানির জন্য ঢাকায় পাঠায়। স্থানীয় বাজারে প্রতিটন কুচের মূল্য ২ দশমিক ৫ লক্ষ টাকা।
“সাগর নদী সকল জলে- মাছ চাষে সোনা ফলে” এই স্লোগানে সপ্তাহব্যাপী জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের কর্মসূচীর অংশ হিসেবে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বের সাথে মত বিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন ড. ওয়াহিদুজ্জামান।
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক আজিজুল হক, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ্র দাস, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শামীমা ইয়াসমিনসহ স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রিন্ট-ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।