বরিশাল ক্লাবের চারতলা থেকে পড়ে গার্মেন্ট ব্যবসায়ীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশাল ক্লাবের ৪র্থ তলা থেকে পড়ে ঢাকার এক গার্মেন্টস ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। গতকাল ভোর সাড়ে ৫টায় এই ঘটনায় নিহত ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম খান (৪৫) সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরণ’র মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে বরিশালে এসেছিলেন। তিনি বাকেরগঞ্জ উপজেলার গারুড়িয়া গ্রামের হাচেন আলী খানের ছেলে। দুপুরে তার মরদেহের ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে চতুর্থ তলা থেকে পড়ে ব্যবসায়ীর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে নগরময় গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। মাত্রাতিরিক্ত মদ পান করে তিনি উপর থেকে পড়ে গিয়েছেন বলে গুঞ্জন রটেছে। এমন গুঞ্জনের কিছুটা সত্যতা পাওয়া গেলেও বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বরিশাল ক্লাব লিমিটেড এর কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবী এটা একটি দুর্ঘটনা ছাড়া আর কিছুই নয়।
নগরীর ক্লাব রোডে বরিশাল ক্লাব এর পরিচালক মো. ইদ্রিস মিয়া সবুজ বলেন, রফিকুল ইসলাম খান ঢাকায় থাকেন। সেখানে তার ভাইয়ের গার্মেন্টস এর ব্যবসার দেখা শুনা করেন। তাছাড়া তিনি নিজেও গার্মেন্ট এক্সেসরিজ এর ব্যবসা করেন। সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরণের মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় তিনি বরিশালে আসেন। পরবর্তীতে বরিশাল ক্লাবের সদস্য হওয়ায় তিনি ক্লাবের চতুর্থ তলায় ৪০৫ নম্বর কক্ষে রাত্রি যাপন করছিলেন।
ক্লাবের কর্মচারীদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ভোরে তিনি ফজরের নামাজ পড়েছেন। পড়ে চতুর্থ চলায় তার রুম থেকে বের হয়ে বারান্দায় হাটতে ছিলেন। এসময় মেঝেতে টাইল্স এর উপর পড়া এসির পানিতে পা পিছলে উপর থেকে নিচে পড়ে যান। এতে তিনি গুরুতর আহত হলে তাৎক্ষনিক ভাবে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন জরুরী বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মেট্রোপলিন কোতয়ালী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইদুল হক বলেন, বরিশাল ক্লাবের চতুর্থ তলা থেকে পড়ে ব্যবসায়ীর মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে হাসপাতালে যান। পরে সেখানে ব্যবসায়ীর মৃত দেহ উদ্ধার করে শেবাচিমের মর্গে প্রেরণ করেন। বেলা ১টার দিকে মরদেহের ময়না তদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাছাড়া এই ঘটনায় কোতয়ালী মডেল থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। যার নম্বর ৮৯।
অপরদিকে সুরতহাল রিপোর্টে মৃত্যুর প্রাথমিক কারণ হিসেবে ক্লাবের পরিচালক ইদ্রিস মিয়া সবুজের দাবী করা বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সুরতহাল রিপোর্টে মৃত দেহের অবস্থা সম্পর্কে তুলে ধরে উল্লেখ করা হয়েছে নিহত ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম খানের নাক ও বাম কান দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। বাম চোখের উপর অংশে কপালে জখম এবং এর পাশেই লম্বা কাটা জখম ছিলো। যা থেকে রক্ত বের হচ্ছিল। তাছাড়া বাম পাশের পাজরে রক্ত জমাট বাধা ও বাম হাতের কনুর নিচে ছোলা ছিলো। এমনকি বাম পা এবং হাটুর উপরে রানের মাঝ খানে হাড় ভাড়া ও হাড়ের কিছু অংশ বাহিরে বের হয়ে যায় বলে উল্লেখ রয়েছে। তবে উপর থেকে পড়ে যাওয়ায় এসব জখম হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
এদিকে রফিকুল ইসলাম খান মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন কিনা এমন প্রশ্ন করা হলে বিষয়টি এড়িয়ে যান ফরেনসিক মে ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক ডা. এস.এম আক্তারুজ্জামান তালুকদার। তিনি বলেন, বিষয়টি একটু গুরুত্বপূর্ণ এবং সন্দেহভাজন। তাই মরদেহের ভিসেরা সংরক্ষণ করা হয়েছে। ঢাকায় পাঠিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান তিনি।
তবে রাতে ক্লাবে দায়িত্ব পালনকারী একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রফিকুল ইসলাম খান রাতভর ক্লাবের মধ্যে মদ পান করেছেন। কি কারণে তিনি পড়ে গিয়েছেন তার সঠিক জবাব কেউ দিতে পারেননি।