বরিশাল কলেজে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের সংঘর্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ সরকারী বরিশাল কলেজে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাসে এই ঘটনা ঘটে। এসময় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ক্যাম্পাসে টানানো ছাত্রদলের শুভেচ্ছা ব্যানার ও বিলবোর্ড ভাংচুর করে। পরবর্তীতে পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। এসময় ছাত্রদলের দুই নেতাকে পুলিশ আটক করলেও পরবর্তীতে আবার ছেড়ে দিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল দুপুরে সরকারী বরিশাল কলেজ ছাত্রদল নেতা নয়ন’র সাথে ছাত্রলীগ কর্মী ইমরান এবং আল আমিনের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে বরিশাল কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মো. আল মামুন এবং সাধারণ সম্পাদক আরিফুল হক মাসুম এর নেতৃত্বে ছাত্রলীগের ১৫/২০ নেতা-কর্মী কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রদল নেতা নয়ন, অনিক সহ অন্যান্যদের উপর হামলা চালায়। এসময় দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের মারধর করে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়। একই সাথে ক্যাম্পাস ফটকে টানানো শুভেচ্ছা বিলবোর্ড ভেঙ্গে ফেলেন তারা।
এদিকে ছাত্রদল এবং ছাত্রলীগের মাঝে সংঘর্ষের ফলে ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে আতংকের সৃষ্টি হয়। অনেক শিক্ষার্থী ভয়ে ক্যাম্পাস থেকে চলে যান। খবর পেয়ে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ এবং কলেজ কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শাস্ত করে।
জানতে চাইলে সরকারী বরিশাল কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মো. আল মামুন জানান, ছাত্রলীগ কর্মী ইমরান এবং আল-আমিন কলেজের কমন রুমে টেবিল টেনিস খেলতে ছিলো। এসময় বলটি ছুটে গিয়ে পাশে থাকা ছাত্রদল নেতা নয়ন’র গায়ে পড়ে। এতে নয়ন ক্ষিপ্ত হয়ে ইমরানকে মারধর করে।
মামুন জানান, বিষয়টি জানতে পেরে তিনি নয়নকে জুনিয়র ছাত্রদের সাথে এমন কার্মকান্ড না কারর জন্য বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নয়ন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের উপর হামলা চালিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে। কিন্তু ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তাদের সেই প্রচেষ্টা প্রতিহত করেন।
মারধরের শিকার ছাত্রদল নেতা অনিক জানান, ছাত্রলীগের উৎশৃঙ্খল নেতারা কলেজের মধ্যে বেঞ্চের উপর উঠে বসে ছিলো। এসময় সেখানে থাকা ছাত্রদল নেতা নয়ন তাদের বেঞ্চ থেকে নেমে বসতে বলে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রলীগের ঐ নেতারা কলেজ শাখা কমিটির সভাপতি এবং সম্পাদক সহ অন্যান্যদের ক্যাম্পাসে ডেকে আনে। পরে তাকে এবং নয়নকে মারধর করে শিবির আক্ষা দিয়ে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেয়। তবে পরবর্তীতে পুলিশ তাদের ছেড়ে দিয়েছে।