বরিশাল আদালতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড

ওয়াহিদ রাসেল ॥ বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল চতুর্থ আমলি আদালতে রহস্যজনক ভাবে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের এজলাস বাবুগঞ্জ, বানারীপাড়া সহকারী জজ আদালতের সেরেস্তা ও জেলা সহকারি কৌশলী কার্যালয়ে ভিপি সম্পত্তির দলিল, মামলার নথি পুড়ে ছাই হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এই ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। বরিশাল সদর ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট আধাঘন্টা ব্যাপী চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হয়। তবে তাৎক্ষনিক ভাবে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত সম্পর্কে ফায়ার সার্ভিস কিছু জানাতে না পারলেও আদালতের সংশ্লিস্টদের দাবী নাশকতা। চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের নৈশ্য প্রহরী মাকসুদ জানায়, রাত সাড়ে ৯টার দিকে আদালতের টিন সেট ভবনের উপর থেকে ধোয়া বের হতে দেখে। তখন আদালত পাড়ায় দায়িত্বরত পুলিশকে জানালে তারা ছুটে আসে। তবে মুহূর্তের মধ্যে আদালতের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিসকে সংবাদ দিলে তাদের দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা চালায়। প্রায় ৩০ মিনিট পর আগুন নিয়ন্ত্রনে আসলেও ওই ভবনে সিনিয়র জুডিশিয়াল মেজিস্ট্রেট আদালত, বাবুগঞ্জ, বানারীপাড়া সহকারী জজ আদালতের সেরেস্তা ও জেলা সহকারি কৌশলী কাযলয়ে ভিপি সম্পত্তির দলিল, মামলার অনেক তথ্যবহুল নথি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আদালত নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) হারুন জানান, তারা সার্বক্ষনিক আদালতে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়জিত থাকেন। অগ্নি কান্ডের ঘটনার পূর্বে আদালত চত্তরে বহিরাগত কাউকে প্রবেশ করতে দেখা যায়নি। তবে আদালতের ঐ ভবনের পেছনে চলাচলের একটি রাস্তা রয়েছে। সেখান থেকে টিন সেট আদালত ভবনের পাশে সীমানা প্রাচীরের গ্রিল ছুটানো অবস্থায় দেখা গেছে। বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. আলাউদ্দিন জানান, খবর পেয়ে তারা আদালত কম্পাউন্ডে ছুটে যান। সেখানে তাদের দুটি ইউনিট আধাঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রনে এনেছেন। তিনি জানান, নথিপত্রের পাশাপাশি আদালতের পাঁচটি কক্ষের বৈদ্যুতিক পাখা (ফ্যান), কম্পিউটার, বেঞ্চ, ৮টি আলমিড়া, বিচারকের এজলাস, বিচারকের গোপনীয় কক্ষ সহ সকল আসবাবপত্র পুড়ে গেছে। পাঁচটি কক্ষ থেকে কিছু সংখ্যক মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে সিনিয়র স্টেশন অফিসার নিশ্চিত করেছেন। আগুনের সূত্রপাত কিভাবে হয়েছে, জানতে চাইলে মো. আলাউদ্দিন বলেন, আগুনের সূত্রপাত কি ভাবে হয়েছে তা তাৎক্ষনিক ভাবে জানা সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে তারা একটি তদন্ত কমিটি করবেন। পরে আগুনের সূত্রপাত নির্নয় করা যাবে। চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজেস্ট্রেট আদালতে প্রধান তুলনাকারী কামরুল হাসান জানান, অগ্মিকান্ডের ফলে আদালতে গুরুত্বপূর্ণ বহু নথিপত্র বিনষ্ট হয়েছে। যার ক্ষয়ক্ষতি হিসাব করতেও সময় লাগবে। জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পিপি গিয়াস উদ্দিন কাবুল বলেন, ঘটনাটি যদি বিদ্যুতের শর্ট সার্কিটে হয়, তবে বিষয়টি ভিন্ন। আর যদি নাশকতা হয়ে থাকলে সেটা হবে দুঃখজনক। এ ঘটনায় অবশ্যই তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তবে তিনি ঘটনাটি উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে করা হতে পারে বলেও ধারনা করেন। বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল আলম জানান, বরিশাল শান্তির শহর। এই শহরে আদালতের মতো স্থানে অগ্নিকান্ডের ঘটনা শান্তি বিনষ্ট হওয়ার সামিল। তিনি ধারনা করে বলেন, আদালতটি নির্জন স্থানে। বৈদ্যুতিক গোলযোগও কম রয়েছে। এ কারনে অগ্নিকান্ডের ঘটনা সর্ট সার্কিট বলে মনে করেন না তিনি। নাশকতা সৃষ্টির লক্ষ্যেও এটা হতে পারে। জেলা প্রশাসক শহীদুল আলম বলেন, ঘটনাটি সর্ট সার্কিট বা নাশকতা হোক, পুলিশ বাহিনীর প্রতি অনুরোধ থাকবে পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য। একই সাথে যারা এই আদালতে কাজ করছেন তাদের সকলকে নিজ নিজ নিরাপত্তা জোরদারের পরামর্শ দেন তিনি। এদিকে অগ্নিকান্ডের সংবাদে আদালত পাড়ায় ছুটে আসেন পুলিশ কমিশনার শৈবাল কান্তি চৌধুরী, দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা জজ মো. আদীব আলী, চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট একেএম ফজলুল হক, চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ আলী হোসাইন, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট, সহকারী জেলা জজ বৃন্দসহ আদালতের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।