বরিশাল অঞ্চল এখন আর অনুন্নত নেই-শিল্পমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ আওয়ামী লীগ সরকার ছাড়া অন্যকোন সরকার বরিশালের উন্নয়ন করেনি। যে কারনে সম্ভাবনাময় এই বরিশাল অন্যান্য বিভাগের থেকে পিছিয়ে পড়ে। কিন্তু বরিশাল অঞ্চল এখন আর অনুন্নত নেই। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রচেষ্টায় বরিশাল অঞ্চলের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। আগামী তিন বছরের মধ্যে পটুয়াখালীতে পায়রা সমুদ্র বন্দর, ভোলার গ্যাস সরবরাহ এবং গ্যাস ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন এবং পদ্মায় বহুমুখি সেতু নির্মাণ কার্যক্রম সম্পন্ন হলে শিল্প অঞ্চল হিসেবে বরিশাল আরো একধাপ এগিয়ে যাবে।
ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই) এবং জার্মানভিত্তিক সংগঠন এফএনএফ’র যৌথ আয়োজনে ‘বরিশাল বিভাগের শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক সম্ভবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু-এমপি এসব কথা বলেন।
নগরীর বরিশাল ক্লাবের অমৃত লাল দে মিলনায়তনে বেলা ১১টায় শুরু হওয়া এই সেমিনারে তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০২১ সালের মধ্যে শিল্পসমৃদ্ধ মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে বর্তমান সরকার। সম্প্রতিক মূল্যায়নে বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশকে নি¤œ মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের চলমান ধারা অব্যাহত রাখতে বর্তমান সরকার এলাকাভিত্তিক শিল্প সম্ভাবনা কাজে লাগানোর নীতি গ্রহন করেছেন।
মন্ত্রী আরো বলেন, শিল্প সম্ভাবনা কাজে লাগানোর নীতির আলোকে সরকার ভোলায় একটি ইউরিয়া সার কারখানা স্থাপনের লক্ষ্যে কাজ করছে। এছাড়া ২২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। ইতিমধ্যে পটুয়াখালিতে পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মান এবং শিল্প মন্ত্রনালয়ের উদ্যোগে দক্ষিণাঞ্চলে অত্যাধুনিক জাহাজ নির্মাণ ও শিপ রিসাইক্লিং শিল্প জোন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি আমাদের সরকার নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে। এ অঞ্চলে বেসরকারী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ হবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আকৃষ্ট হবে। দেশের যে এলাকায় যে ধরনের শিল্প স্থাপনের উপযোগী কাচামাল রয়েছে সে এলাকায় সে ধরনের শিল্প স্থাপনে প্রধানমন্ত্রী সবসময় উৎসাহ দিয়ে আসছেন। এতে তৃণমূল পর্যায়ে শিল্পায়ন অভিযাত্রা জোরদার হবে।
তিনি বলেন, বরিশাল অঞ্চলে পর্যটন শিল্পেরও বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনা কাজে লাগানোর জন্য আমি উদ্যোক্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। কারন সরকারী-বেসরকারী সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শিল্পায়নের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। এখানে নদী পথে সহজে পন্য পরিবহনের সুযোগ রয়েছে। পদ্মা সেতু আর পায়রা বন্দর বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চল হবে দেশের প্রধান শিল্পায়ন এলাকা।
শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, অর্থনৈতিক শুমারী ২০১৩ অনুযায়ী বরিশালে অবস্থিত অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা ৩ লক্ষ ৮৫ হাজার ২ শত ৩৩ টি। যা মোট ইউনিটের ৪ দশমিক ৮ ভাগ। অপরদিকে সারাদেশে মোট ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটের মধ্যে বরিশালে আছে ৪৫ হাজার ৭ শত ৩৫ টি, যা মোট ইউনিটের ৪ দশমিক ৫ ভাগ। বরিশালে মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের ৭৮ দশমিক ২ ভাগ গ্রামাঞ্চলে অবস্থিত। অপর এক সমীক্ষায় দেখা গেছে বরিশালে হস্তশিল্প ও অন্যান্য কিছু ক্ষুদ্র শিল্প ব্যতিত তেমন উল্লেখযোগ্য শিল্প কারখানা নেই। সম্প্রতি সরকার বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে দেশের ৩০ টি অঞ্চলকে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে বরিশাল ও ভোলা জেলার ৩ শত ৪ একর এবং বরিশাল জেলার ৩ শত একর জমি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। একই সাথে এ বিভাগের অবশিষ্ট ৪ টি জেলায় এ ধরনের জমি বরাদ্দ দেয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বর্তমানে এ অঞ্চলে বিসিকের ৪ টি শিল্পনগরী রয়েছে। এসব শিল্পনগরীতে ৮ শত ৩ টি বরাদ্দকৃত প্লটের মধ্যে মোট মাত্র ১ শত ২০ টিতে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অবশিষ্ট ৬ শত ৮৬ টি প্লটের মধ্যে ১ শত ৯৩ টি প্লট এখনো বরাদ্দ দেয়া হয়নি। বিশেষ করে ভোলার ৯৩ টি প্লটের মধ্যে মাত্র ২ টিতে উৎপাদন হচ্ছে এবং ৪২ টি এখনো বরাদ্দ দেয়া হয়নি। আমরা মনে করি যেসব প্লট বরাদ্দ দেয়ার পরও উৎপাদন পর্যায়ে যায়নি এবং যেসব প্লট এখনো পর্যন্ত বরাদ্দ দেয়া হয়নি যোগ্যতা বিবেচনায় এসব প্লটগুলো নতুন উদ্যোক্তাদের মধ্যে বরাদ্দ দেয়া যেতে পারে। এ অঞ্চলে মূলত শ্রমনিবীর শিল্প গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরী। এসব কর্মসূচী বাস্তবায়িত হলে এই অঞ্চলেল কর্মসংস্থান এবং দ্রুত আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সাধিত হবে। সেই সাথে কুয়াকাটা এবং তৎসংলগ্ন সুন্দরবন, ইত্যাদি এলাকা পর্যটকদের কাছে আরো আকর্ষনীয় করে তোলার লক্ষ্যে এসব এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সৌন্দয্য বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
এফবিসিসিআই এর সভাপতি আবদুল মাতলুব আহ্মাদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর আসনের এমপি জেবুন্নেছা আফরোজ। উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই’র জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মো. সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, এফএনএফ বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. নাজমুল হোসেন, বরিশাল মেট্রো পালিটন পুলিশ কমিশনার শৈবাল কান্তি চৌধুরী, বরিশাল চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু, বরিশাল মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র সভাপতি মো. নিজাম উদ্দিন।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সরকারী বিএম কলেজ অধ্যক্ষ স.ম ইমানুল হাকিম, সরকারী বরিশাল কলেজের অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আক্তারুজ্জামান খান, অমৃত ফুডপ্রডাক্স এর চেয়ারম্যান বিজয় কৃষ্ণ দে, চেম্বার পরিচালক রেজাউল কবির রেজিন, বজলুর রহমান সহ ৬টি জেলার চেম্বার অব কমার্স এর নেতৃবৃন্দ।