বরিশালে ১৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩ সেতুর নির্মান কাজ শেষের পথে

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ গ্রামীন যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফ্তর বরিশালের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩টি প্রী-স্ট্রেসড কংক্রিট গার্ডার টাইপ সেতু নির্মান করছে। নির্মানাধীন ৩টি সেতুর মধ্যে দুটি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে অধিদফ্তর। ইতিমধ্যে সানুহার-ধামুরা-সাতলা সড়কের পিসি গার্ডার সেতু ও হারতা বাজার সংলগ্ন কঁচা নদীর ওপর সেতু দুটির নির্মানকাজ শতভাগ সমাপ্ত হয়েছে। বর্তমানে সংযোগ সড়কের কাজ চলছে।
অপরদিকে মুলাদী-নাজিরপুর-কুতুবপুর/মোল্লারহাট সড়কের আড়িয়াল খাঁ নদ-এর ওপর সেতুটির নির্মান কাজও প্রায় ৩৫ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে বলে এলজিইডি’র দায়িত্বশীল সূত্রে বলা হয়েছে। আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এ সেতুটিও যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
‘দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’ ও বৃহত্তর বরিশাল উন্নয়ন প্রকল্প’এর আওতায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের অবকাঠামো নির্মান ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান-এলজিইডি সরকারি নিজস্ব তহবিলে গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীন জনপদে এসব সেতু নির্মান করছে। সানুহার-ধামুড়া-সতালা সড়কে প্রায় ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৬০ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মানের ফলে বরিশাল, পিরোজপুর ও গোপালগঞ্জের প্রত্যন্ত বিল এলাকার সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসবে। এ সেতুটি নির্মানের ফলে গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ার সাথেও বরিশালে সড়ক যোগাযোগ সহজতর হবে। ‘মেসার্স এমবিইএল-এমসিসিসি জেভি’ নামের নির্মান প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে মূল সেতুটির নির্মানকাজ সম্পন্ন করেছে। তবে সংযোগ সড়ক নির্মান করে ডিসেম্বরের মধ্যেই তা যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে।
‘বৃহত্তর বরিশাল উন্নয়ন প্রকল্প’এর আওতায় ৩০ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ে হারতা বাজার সংলগ্ন কঁচা নদীর ওপর ২৮০ মিটার পিসি গার্ডার ব্রীজটির নির্মান কাজও ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ‘মেসার্স এমসিও ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস’ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মূল সেতুটির কাজ শেষ করে বর্তমানে সংযোগ সড়কের কাজ করছে। আগামী ডিসেম্বরে মধ্যে সংযোগ সড়কের নির্মান কাজ সম্পন্ন করে সেতুটি যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়ার কথা রয়েছে।
অপরদিকে ‘দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’র এর আওতায় মুলাদী-নাজিরপুর-কুতুবপুর/মোল্লারহাট সড়কের আড়িয়াল খাঁ নদ-এর ওপর ৪৩২ মিটার দীর্ঘ নির্মানাধীন সেতুটির কাজ ইতোমধ্যে ৩৫ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। প্রায় ৬৭ কোটি টাকা ব্যয়সাপেক্ষ এ সেতুটির নির্মানকাজ সম্পন্ন হলে বরিশালের হিজলা, মুলাদী ও মেহেদিগঞ্জের সাথে ভোলা জেলার সড়ক যোগাযোগ সহজতর হবে। ‘প্রজেক্ট বিল্ডার্স লিমিটেড’ এ সেতুটির নির্মান কাজ করছে।
‘প্রী-স্ট্রেসড কংক্রিট গার্ডার’ টাইপ-এর এসব সেতুর নির্মান কাজের মান-এর ব্যপারে এলজিইডি নিবিড় তদারকি করছে বলে দায়িত্বশীল সূত্র দাবী করেছে। এসব সেতু নির্মানের ফলে বরিশালের প্রত্যন্ত এলাকার সাথে জেলা ও উপজেলা সদরের সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসবে। ঐসব এলাকার আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে সেতুগুলো।
বর্তমানে শুধুমাত্র বরিশাল জেলাতেই স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের আওতায় গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার সড়ক ও সেতু সহ বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তাবানাধীন রয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে এসব অবকাঠামোর বেশীরভাগের নির্মানকাজ সম্পন্ন হলে বরিশালের পল্লী এলাকার উন্নয়নে তা বিশেষ অবদান রাখতে শুরু করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে এলজিইডি’র দায়িত্বশীল সূত্র।