বরিশালে রেল লাইন স্থাপন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে-শিল্পমন্ত্রী আমু

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু-এমপি বলেন, বৃটিশ আমল থেকেই বরিশাল অঞ্চল অবহেলিত ছিলো। কোন সরকারই এই অঞ্চলের উন্নয়নে সাড়া দেয়নি। কিন্তু বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার যখন থেকে ক্ষমতায় এসেছে তখন থেকে শুরু হয়েছে বরিশাল অঞ্চলের উন্নয়নের জোয়ার। গতকাল শুক্রবার নগরীর সার্কিট হাউস মিলনায়নে জাতীয় শিল্পনীতি-২০১৫ এর খসড়া চূড়ান্ত করনের লক্ষে বিভাগীয় পর্যায়ে মত বিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শিল্পমন্ত্রী আলহাজ্ব আমির হোসেন আমু-এমপি এসব কথা বলেন।
শিল্পমন্ত্রনালয় ও দি বরিশাল চেম্বার অব কমার্স এন্ড এন্ডাস্ট্রিজ’র যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার জনবান্ধব সরকার। এই সরকারের মাননিয়ন প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’র বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলের প্রতি সুনজর রয়েছে। যার ফলে এ অঞ্চলে সড়ক ও নৌ যোগাযোগ, আকাশ পথে বিমান, শিক্ষা বোর্ড এবং বিশ্ববিদ্যালয় সহ অঞ্চলবাসীর নানামুখি প্রানের দাবি বাস্তবায়ন হয়েছে।
তিনি বলেন, পটুয়াখালীতে পায়রা বন্দরের উন্নয়ন কাজ চলছে। সেখানে শিপইয়ার্ড, বিদ্যুৎ কেন্দ্র সহ বিভিন্ন উন্নয়ন করা হবে। এই পায়রা বন্দরটি শুধু মাত্র বাংলাদেশকেই নয়, সিংগাপুরকেও হার মানাবে। তাছাড়া ঢাকা থেকে কুয়াকাট সড়ক যোগাযোগ আরো সহজ করতে পটুয়াখালী তিনটি সেতুর কাজ ইতোমধ্যে শেষ পর্যায়ে পৌছেছে। লেবুখালী ব্রিজের কাজও খুব দ্রুত শুরু করা হবে। এছাড়া স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মান কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এমনকি বরিশালে রেল লাইন স্থাপন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে।
শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু-এমপি বলেন- বরিশালের অন্যতম শিল্প নগরী বিসিক। এখানে ইতোমধ্যে অনেক উন্নয়নের ছোয়া লেগেছে। আগামীতে এখানকার উন্নয়নে ৪০ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দের জন্য মন্ত্রনালয় থেকে শুপারীশ করা হয়েছে। আসছে বাজেটে বরিশাল বিসিক শিল্পনগরী উন্নয়নে প্রস্তাবিত বাজেট পাশ করা হবে।
বরিশালের শিল্প উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, বরিশালকে শিল্প ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধশীল অঞ্চল গড়ে তুলতে হবে। এজন্য শুধুমাত্র দাবী দাওয়ার মধ্যে সিমাবদ্ধ থাকলেই হবে না। শিল্প উদ্যোগ গ্রহনের পাশাপাশি তা বাস্তবায়ন করতে হবে। এজন্য বরিশাল বিসিক শিল্প নগরীতে কোন প্রকার জটিলতা বা শর্ত ছাড়াই আপনাদের জমি বরাদ্দ দেয়া হবে।
মন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, বরিশালকে শিল্প ও অর্থনীতি সমৃদ্দ অঞ্চলে রূপান্তর করতে ইতোমধ্যে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিকল্পনা অনুযায়ী বিভিন্ন রকমের ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তুলতে নানা পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ঝালকাঠিতে বৃহত্তম শিল্প এলাকা গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া আগৈলঝাড়া উপজেলায় শিল্প এলাকার একটি জোন স্থাপনে সরকারী জমি খুঁজছে সরকার। তাছাড়া বরিশালে একটি সুগার ইন্ডাস্ট্রি নির্মানের পরিকল্পনাও রয়েছে।
জাতীয় শিল্পনীতিমালার প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত রূপকল্প-২০২১ এর ভিত্তিতে জাতীয় শিল্পনীতি-২০১৫ এর খসড়া প্রনয়ন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশে বিদ্যমান উন্নয়নের সম্ভাবনা বিবেচনায় রাখা হয়েছে। দীর্ঘ মেয়াদে দারিদ্র বিমোচন ও অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পরিবেশবান্ধব সবুজ শিল্পায়ন, শিল্পখাতে মূল্য সংযোজন, রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরন, নতুন শিল্প পণ্য উৎপাদন, শিল্পখাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষনের মত বিষয়গুলোকে এ নীতিতে অন্তভুক্তের চেষ্টা চলছে।
বরিশাল চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় পর্যায়ে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সদর-৫ আসনের সাংসদ জেবুন্নেছা আফরোজ, মিশরের রাষ্ট্রদূত এইচ.ই মাহমুদ ইজ্জত, শিল্পমন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুষেন চন্দ্র দাস, যুগ্ম সচিব ইয়াসমিন সুলতানা, সিনিয়র সহকারী সবিচ মো. সিলম উল্লাহ, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ গাউস।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন- বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল আলম, নিটল নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এফবিসিআই’র সভাপতি প্রার্থি আব্দুল মোতালেব আহম্মেদ, ডায়মন্ড গ্রুপের চেয়ারম্যান দ্বীলিপ আগারওয়াল, মেট্রো পলিটন চেম্বার এন্ড কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর সভাপতি নিজামুল ইসলাম নিজাম, জীবন কৃষ্ণ দে, নগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাড. আফজালুল করিম, বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনিস উদ্দিন আহম্মেদ শহীদ সহ বরিশালের ৬ জেলার চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর নেতৃবৃন্দ এবং ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বরিশাল চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন মানিক।