বরিশালে বৈধ-অবৈধ সাড়ে ৪ হাজার অটোরিকশায় বেড়েছে লোডশেডিং

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ নগরীতে বৈধ-অবৈধ প্রায় সাড়ে চার হাজার ব্যাটারীচালিত অটোরিকশায় যানজটে দুর্ভোগের পাশাপাশি বেড়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিংও। এক হিসেবে দেখা গেছে প্রতিদিন সাড়ে ৪ হাজার অটোরিকশা দিনরাত মিলিয়ে ১১ ঘন্টা দু’টি ব্যাটারী চার্জে প্রায় ৯০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়। এতে করে নগরীর প্রায় ১৩ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহকের জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ পাওয়া গেলেও অটোরিকশার কারণে প্রতিদিন লোডশেডিং হচ্ছে। এদিকে উচ্চ আদালত থেকে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকা থেকে ব্যাটারীচালিত অটোরিকশা উঠিয়ে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হলেও অদ্যবধি অটোরিকশা তুলে না দেয়ায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। আর এ ভোগান্তি যেন প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০০৮ সালে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন পরবর্তী নগরবাসীর চলাচলের সুবিধার্থে সিটি বাস চালু করা হয়। এর পরপরই চালু হয় মাহেন্দ্র ও ব্যাটারীচালিত অটোরিকশা। পূর্বে যারা টেম্পো চালাতো তারা বর্তমানে ডিজেল চালিত মাহেন্দ্র টেম্পো চালাচ্ছে। কিন্তু অটোরিকশা চালাচ্ছে রিকশাচালক থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার লোকজন। ১২ বছরের শিশুও অটোরিকশার হ্যান্ডেল ধরেছে। আর তার উপর নির্ভর করে চার জনের স্থলে ৮ জন যাত্রী একটি অটোরিকশায় উঠে গন্তব্যে যাচ্ছে। বিভিন্ন পেশার মানুষ অটোরিকশার চালক হওয়ায় তারা সড়কের কোন নিয়মকানুন না জানায় অহরহ ঘটছে দুর্ঘটনা। গত ৫ বছরে অটোরিকশার দুর্ঘটনায় অর্ধশতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এছাড়া অটোরিকশা চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুতে প্রাণ হারিয়েছে ১৫ থেকে ২০ চালক। অটোরিকশায় বিদ্যুতের চার্জের কারণে ঘরবাড়ি ভস্মীভূত হওয়ার মত ঘটনাও ঘটেছে।
সাবেক মেয়র প্রয়াত শওকত হোসেন হিরন ও বর্তমান মেয়র আহসান হাবীব কামালের আমলে সিটি কর্পোরেশন থেকে ২ হাজার ৬শ’অটোরিকশাকে লাইসেন্স দেয়া হলেও বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার অটোরিকশা নগর দাপড়িয়ে বেড়াচ্ছে। আর এসব চালকের সড়কে যানবাহন চালানোর কোন অভিজ্ঞতা না থাকায় নগরীর প্রাণ কেন্দ্র সদর রোড সহ বিভিন্ন সড়কের দুর্ঘটনা থেকে শুরু করে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বৈধ-অবৈধ অটোরিকশাকে সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ট্রাফিক বিভাগকেও। যানজটের চেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে বিদ্যুৎ। একটি অটোরিকশার দু’টি ব্যাটারীতে প্রতিদিন রাত ১০টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত এবং দুপুরে আবারো একটি ব্যাটারীতে ৩ ঘন্টা চার্জ দেয়া হয়। এতে একটি অটোরিকশার দুটি ব্যাটারীতে বিদ্যুত খরচ হয় প্রায় ২০ ইউনিট। সাড়ে চার হাজার অটোরিকশায় প্রতিদিন বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে ৯০ হাজার ইউনিট।
এ অটোরিকশা যত পুরনো হচ্ছে বিদ্যুত ব্যবহার তত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারণে বর্তমানে লোডশেডিংও বৃদ্ধি পেয়েছে। বরিশালের ১৩ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে পিকআওয়ারে ৯০ মেগাওয়াট এবং অফপিকআওয়ারে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় গ্রীড থেকে প্রতিদিন ওই পরিমাণ বিদ্যুৎ বরিশাল গ্রীডে আসলেও অটোরিকশার কারণে বিদ্যুৎ বিভাগ লোডশেডিং করতে বাধ্য হচ্ছে। বরিশাল পাওয়ার গ্রীড সূত্র জানায়, যে পরিমাণ বিদ্যুৎ অটোরিকশায় ব্যবহার হয় তা কমে গেলে বরিশাল নগরীতে কোন লোডশেডিং থাকবে না। আর লোডশেডিং এর কারণে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন থেকে উচ্চ আদালত ব্যাটারীচালিত অটোরিকশা তুলে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এ নির্দেশ বাস্তবায়ন হলে নগরীতে লোডশেডিং থাকবে না বলে পাওয়ার গ্রীডের একাধিক কর্মকর্তার দাবি। নগরী থেকে অটোরিকশা তুলে দেয়ার ব্যাপারে উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) আবু সালেহ মো. রায়হান জানান, অটোরিকশা তুলে দেয়ার উচ্চ আদালতের নির্দেশ আমাদের কাছে রয়েছে। আগামী জুন মাসের মধ্যে নগরী থেকে সকল অটোরিকশা তুলে দেয়া হবে।