বরিশালে পেটের ভেতর কাচের বোতল ॥ আসলে কেইসটা কি ?

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশালে অলৌকিকভাবে পায়ুপথ থেকে পেটের ভেতর ঢুকে থাকা বড় আকৃতির একটি কাচের বোতল বের করা হয়েছে। অস্ত্রপচারের মাধ্যমে ৪০ বছর বয়সি ঐ ব্যক্তির পেটের ভেতর থেকে কাঁচের বোতলটি বের করা হয়।
গত ১৭ আগষ্ট রাতে বরিশাল নগরীর প্যারারা রোডস্থ হেলথ কেয়ার ক্লিনিকে তার শরীরে সফলভাবে ওই অস্ত্রপচার সম্পন্ন করা হয়।
তবে পেটের ভেতরে কাঁচের ওই বোতল পায়ুপথ দিয়ে ঢোকার রহস্য কোনভাবেই উন্মোচন করা যাচ্ছে না।
ফলে বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসক সহ সর্বমহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
অবশ্য রোগী এবং তার স্বজনরা কাল্পনিক সব গল্প বলে আসলেও বোতলটি যে প্রচন্ড চাপ প্রয়োগ করে পায়ুপথ দিয়ে পেটের ভেতরে ঢোকানো হয়েছে তা নিশ্চিত হয়েছেন চিকিৎসকরা।
সফল অস্ত্রপচারের মাধ্যমে পেট হতে কাচের বোতল বের করা রোগী জালাল ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলার ফরাসগঞ্জ গ্রামের আব্দুল মোনাজ উদ্দিন এর ছেলে।
গত ১৭ আগষ্ট রাতে প্রচন্ড পেটে ব্যথা নিয়ে হেলথ কেয়ার ক্লিনিকে ভর্তি হন তিনি।
সে সময় রোগীর স্বজনরা তার পেটের ভেতর প্লাস্টিকের বোতল ঢোকার কথা বলেন চিকিৎসকদের।
কিভাবে ওই বোতল ঢুকেছে জানতে চাইলে রোগীর স্বজনরা কখনো বলেছেন জ্বীনের আছর করায় এমনটা হয়েছে।
আবার কখনো বলেছেন বাঁশের চার পাড় হতে গিয়ে তা ভেঙে পানিতে পড়ার পরই এমনটা হয়েছে।
এরপর চিকিৎসক প্লাস্টিকের বোতল খুঁজতে রোগীর কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করান।
একটি এক্সরের মাধ্যমে পেটের ভেতর বোতল সাদৃশ্য ওই বস্তুটি দেখতে পান ক্লিনিকের চিকিৎসক ডা: মো জাহাঙ্গীর আলম সেলিম।
এরপর তিনি পায়ুপথ দিয়ে বোতলটি বের করার জন্য অস্ত্রপচার শুরু করেন।
এসময় রোগীর পেটের ভেতর কল্পনাতীত কাঁচের ওই বোতলটির উপস্থিতি টের পান চিকিৎসকরা।
চিকিৎসক মো. জাহাঙ্গীর আলম সেলিম জানান, বোতলটি পায়ুপথ দিয়ে বের করা অসম্ভব হওয়ায় তিনি ওই রোগীকে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
কিন্তু রোগীর ইচ্ছায় ওই রাতেই পেট কেটে আরো ২ ঘন্টার অস্ত্রপচারের পর বোতলটি বের করা হয়। যা দেখে ক্লিনিকের সবাই হতভম্ব হয়ে যান।
ক্লিনিকের ডা: মো জাহাঙ্গীর আলম সেলিম জানান, তার চিকিৎসা জীবনে এতো বড় বোতল পায়ুপথ দিয়ে পেটে ঢোকা কিংবা এমন কোন বিষয় নিয়ে অপারেশনের কথা শোনেননি।
তিনি জানান, রোগী বর্তমান সুস্থ রয়েছেন এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাগজপত্র ও বোতলটি রোগীর স্বজনদের বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।