বরিশালে নৌযান শ্রমিকদের কর্ম বিরতি অব্যাহত

নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকা ধর্মঘট চলছে বরিশালে। মঙ্গলবার ভোর থেকে অভ্যন্তরীণ রুটে কোন লঞ্চ ছেড়ে যায়নি বরিশাল নদী বন্দর থেকে। ১৫ দফা দাবীতে কর্ম বিরতি ডাকা শ্রমিকরা পন্টুন এলাকায় মিছিল ও সমাবেশ অব্যাহত রেখেছেন। সকাল ১০টার দিকে এমভি ফারহান-৮ লঞ্চ নদী বরিশাল নদী বন্দরে ঘাট দিতে চাইলে শ্রমিকদের বাঁধার মুখে পড়ে। এসময় পন্টুন এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলে বাড়তি নৌ পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এনিয়ে নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত) আঃ মোতালেব বলেন, লঞ্চ ঘাটে ভিড়ানো নিয়ে শ্রমিকদের সাথে বচসা থেকে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। তবে তাদের ফোর্স গিয়ে শ্রমিকরদর নিবৃত্ত করেছেন। এখন আর উত্তেজনা নেই।
জেলা নৌযান শ্রমিক ফেডারেশেনের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক একিন আলী মাষ্টার জানান, বেতন ভাতা বৃদ্ধির দাবীতে তারা আন্দোলন করলে জুলাই মাসে শ্রমিক, মালিক ও নৌ এবং শ্রম মন্ত্রণালয় মিলে বৈঠক হয়। এসময় নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান এমপি শ্রমিকদের নূন্যতম ৯ হাজার টাকা বেতন এবং মাস্টার ও সুকানীদের জন্য বেতন স্কেল দেয়ার কথা ঘোষণা দেন। তবে ১৬ জুলাই নৌযান মালিক পক্ষ উচ্চ আদালতে এই বেতন কাঠামোর বিপরীতে রীট করে স্থগিত আদেশ আনার পর তাদের দাবী বাস্তবায়নে সংকটের সৃষ্টি হয়। যার প্রেক্ষিত মঙ্গলবার রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে সারা দেশে নৌযান শ্রমিকদের কর্ম বিরতির ডাক দিয়েছেন তারা। এই শ্রমিক নেতা আরো বলেন, তাদের দাবী মানা না পর্যন্ত এবারের কর্ম বিরতি অব্যাহত থাকবে।
কেন্দ্রীয় লঞ্চ মালিক সমিতির সহ সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু জানান, শ্রমিকদের লঞ্চে থাকার ব্যবস্থা করার পরও তারা আবাসন ভাতা চায়। এসব অযৌক্তিক দাবী আর বাড়তি বেতন যা আমাদের পক্ষে দিয়ে লঞ্চ চালানো সম্ভব নয় বলে, বর্ধিত বেতনের বিষয়ে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হতে হয়েছে তাদের। তবে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বরিশাল ও ঢাকা থেকে লঞ্চ চলাচল অব্যাহত রাখবেন।